লোকাল ও মেইল ট্রেন চলবে না, সব ধরনের টিকিট বিক্রিও বন্ধ হচ্ছে

0
103

প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে রেলওয়ের সব লোকাল ও মেইল ট্রেন বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) থেকে এসব ট্রেন চলাচল বন্ধ ঘোষণা করা হয়। রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. শামছুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এদিকে আগামী ২৬ মার্চ থেকে দেশে সব ধরনের ট্রেনের টিকিট বিক্রিও বন্ধ ঘোষণা করা হচ্ছে।

রেলওয়ের মহাপরিচালক বলেন, ‘বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও করোনা ভাইরাস প্রাণঘাতী হয়ে উঠেছে। আমরা ধীরে ধীরে সব ট্রেন বন্ধ করে দেবো। প্রাথমিকভাবে সব লোকাল মেইল বন্ধের সিদ্ধান্ত হয়েছে। আজ থেকে সব লোকাল ট্রেন বন্ধ থাকবে। ভাইরাসটি যাতে সব অঞ্চলে ছড়িয়ে না পড়তে পারে সে কারণে আমরা ট্রেন বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমরা সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করছি।’

তিনি জানান, আগামী ২৬ মার্চ থেকে সাধারণ সরকারি ছুটি শুরু হওয়ায় ওই দিন থেকে ট্রেনের যাত্রী সংখ্যা বেড়েছে।

এদিকে রেলওয়ে মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা শরীফুল আলম জানান, করোনার কারণে আগামী ২৬ মার্চ থেকে দেশের সব ট্রেনের টিকিট বিক্রি বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, এ বিষয়ে এখনও অফিসিয়াল আদেশ বের না হলেও কিছুক্ষণের মধ্যে বের হবে। রেলের পরিচালক (ট্রাফিক)-এর বরাত দিয়ে জনসংযোগ কর্মকর্তা এ কথা জানিয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এর আগে করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে ট্রেন চলাচল সীমিত করার প্রস্তাব দেয় রেলওয়ের পশ্চিম বিভাগ। সোমবার (২৩ মার্চ) রেলওয়ে পশ্চিম বিভাগের চিফ অপারেটিং অফিসার মো. শহিদুল ইসলাম তার বিভাগের জেনারেল ম্যানেজারের পক্ষে রেলের মহাপরিচালকের কাছে একটি চিঠি দেন। তাতে তিনি ট্রেন চলাচল সীমিত রাখার কারণ উল্লেখ করে একটি প্রস্তাবনা পেশ করেন।

চিঠিতে তিনি যুক্তি তুলে ধরে বলেন, ‘করোনা ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। বিভিন্ন সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ বা নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে। একটি ট্রেনে এক হাজারের বেশি যাত্রী থাকে। বিদেশফেরত যাত্রীদের মধ্যে যারা ট্রেনে ভ্রমণ করছেন তাদের মাধ্যমে এ রোগের সংক্রমণ হতে পারে। এছাড়া বাংলাদেশ রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন রুটে বিশেষ করে ঢাকাগামী সব ট্রেনে যাত্রী সংখ্যা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অর্ধেক বা তারও কম দেখা যাচ্ছে।’ তিনি ২৪ মার্চ থেকে ৩০ মার্চ পর্যন্ত ঢাকাফেরত যাত্রীদের টিকিট বুকিংয়ের চিত্রও তুলে ধরেন।

আগামী ২৭ মার্চ থেকে কয়েকটি ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার প্রস্তাব করেন তিনি। জানতে চাইলে মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘করোনাভাইরাস ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। সে প্রেক্ষিতে আমরা রেলের মহাপরিচালককে ট্রেন সীমিত করার জন্য গতকাল সোমবার একটি চিঠি দেই।’

পূর্বাঞ্চলীয় রেলের পক্ষ থেকেও ট্রেন চলাচল সীমিত করার বিষয়ে একই ধরনের চিঠি পাঠানো হয়। জানতে চাইলে রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. শামছুজ্জামান বলেন, ‘আমাদের কাছে চিঠি আসার পর আমরা সরকারের উচ্চ মহলের সঙ্গে কথা বলেছি। তাদের সিদ্ধান্তে ধীরে ধীরে সব ট্রেন বন্ধ করে দেবো।’  সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here