শতভাগ বিদ্যুতায়ন শেষে সেবার মানোন্নয়নে নজর দেবে আরইবি

0
255

শতভাগ বিদ্যুতায়নের পরেই সেবার মানোন্নয়নে নজর দেবে বলে জানিয়েছেন পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (আরইবি) চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) মঈন উদ্দিন। তিনি বলেন, ‘২০১৯ সাল নাগাদ দেশের সব উপজেলায় শতভাগ বিদ্যুতায়ন শেষ হবে। এরপর বোর্ড শুধু গ্রাহক সেবার মানোন্নয়নের দিকে নজর দেবো।’  বুধবার (৩১ অক্টোবর) বিদ্যুৎ ভবনে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে আরইবির চেয়ারম্যান বলেন, ‘বিদ্যুতের সমস্যা হয় মূলত বর্ষা ও গ্রীষ্মকালে। গ্রীষ্মকালে চাহিদা বেশি থাকে আর বর্ষাকালে ঝড় বৃষ্টির কারণে লাইনের সমস্যা হয়। এই বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে ৪৬০টি উপজেলার মধ্যে ৩১৫টি উপজেলায় শতভাগ বিদ্যুৎ সংযোগ স্থাপিত হবে।’ তিনি বলেন, ‘এই বিদ্যুতের সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন করতে সাবস্টেশন নির্মাণ, পুরনো লাইন পরিবর্তন করা, খুঁটি পরিবর্তন করাসহ ১৫টির মতো প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে আরইবি। গ্রামীণ জনপদে একবছরের মধ্যে শতভাগ বিদ্যুৎ সংযোগ হয়ে যাবে। এরপর গ্রাহকের দুয়ারে সেবার মান পৌঁছে দিতে মন দেবে আরইবি। সেজন্য আরও দুই থেকে তিন বছর সময় লাগতে পারে।’

সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানি উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-এলাহী চৌধুরী বলেন, ‘‘২০০৯ সালে সরকার ক্ষমতার আসার পর বিদ্যুৎখাতের পরিস্থিতি এবং আজকের পরিস্থিতির মধ্যে আকাশ-পাতাল পার্থক্য। বিদ্যুৎ উৎপাদনে অকল্পনীয় পরিবর্তন সাধিত হয়েছে। ‘ভিশন-২০২০’ বাস্তবায়নের জন্য আগামীতে শেখ হাসিনার সরকারকেই ক্ষমতায় আসতে হবে। না হলে এই উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হবে।’’ তিনি বলেন, ‘সবার সহযোগিতা আমরা এগিয়ে যাচ্ছি।’ সেই সহযোগিতা আগামীতেও অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

সাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের বিষয়ে ড. তৌফিক-ই-এলাহী চৌধুরী বলেন, ‘আমরা সাগরে ও স্থলভাগে সাইসমিক সার্ভে করছি। এতে ভোলা, মোবারকপুরসহ আশেপাশের এলাকায় অনেক সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে। অন্যদিকে সাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের গতি বাড়াতে পিএসসি সংশোধন করা হয়েছে।’

বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, ‘নভেম্বর মাসের মধ্যে আরও ২০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে। আগামী দুই মাসের মধ্যে গ্যাস সরবরাহ পরিস্তিতি আরও ভালো অবস্থায় যাবে। এছাড়া আগামী বছরের মধ্যে আরও ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে আসবে।’

এলপিজি বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা এলএনজির সরবরাহ বাড়াতে বিপিসিকে আরও বেশি করে এলপিজি বাজারে নিয়ে আসার নির্দেশ দিয়েছি। পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো যেন দাম নিয়ে কোনও সিন্ডিকেট করতে না পারে, সেজন্য একটি নীতিমালা করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।’

আঞ্চলিক বিদ্যুৎ আমদানির বিষয়ে বিদ্যুৎ সচিব আহমদ কায়কাউ বলেন,  ‘নেপালের সঙ্গে যৌথ স্টেয়ারিং কমিটি ও ওয়ার্কিং কমিটি গঠন করা হয়েছে। ভুটানের সঙ্গেও আলাদাভাবে এ ধরনের কমিটি গঠন করা হবে। সমঝোতা চুক্তির খসড়া তৈরি করা হয়েছে। নির্বাচনের পর পরই তাদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।’

কুইকরেন্টালের বিষয়ে বিদ্যুৎ সচিব বলেন, ‘২০০৯ সালে যখন বিদ্যুৎখাতের অবস্থা ছিল ভয়াবহ, তখন পরিস্থিতি মোকাবিলা করতেই কুইক রেন্টাল এনেছিল সরকার। এখন বড় বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো আসতে শুরু করেছে। আাগমী বছর পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্র উৎপাদনে আসছে। এছাড়া তেলভিত্তিক ১৫ বছর মেয়াদি কিছু আইপিপি রাখা হয়েছে।’

-বাংলা ট্রিবিউন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here