শতভাগ সমাধান মিলেছে পদ্মা সেতুর নকশা জটিলতার

0
177

লতি মাসেই শতভাগ সমাধান হচ্ছে পদ্মা সেতুর নকশা জটিলতার। সমস্যায় থাকা ১৪টি পিলারের মধ্যে আগেই ৭টি পিলারের নকশা দিয়ে দেয়া হয়েছে। এবার চূড়ান্ত করা হয়েছে বাকী ৭টি পিলারের নকশাও। নতুন নকশা অনুযায়ী বিশ্বে প্রথমবারের মতো স্টিলের পাইলে ব্যবহার করা হচ্ছে ট্যাম প্রযুক্তি। নকশা জটিলতায় সেতুর কয়েকটি অংশে কাজ বন্ধ থাকলেও প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এখন পর্যন্ত সেতুর মোট কাজ শেষ হয়েছে ৬৬ ভাগ। চলতি মাসের ১৩ তারিখ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এখানকার উন্নয়ন কাজ পরিদর্শন করার কথা রয়েছে ।

সেতুর ১৪টি পিলারে নদীর তলদেশের মাটির গঠনগত জটিলতা দেখা দিলে বছর দুয়েক ধরে এ অংশে কাজ বন্ধ। দেশি বিদেশি পরামর্শক প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে সমাধানে বিকল্প ছিল দুটি। পিলারের দৈর্ঘ্য বাড়িয়ে নেয়া অথবা পাইল সংখ্যা বাড়ানো। পিলারের বর্তমান দৈর্ঘ্য ১২৪ মিটার এমনিতেই বিশ্বের মধ্যে রেকর্ড। এরচেয়ে বেশি বাড়াতে হলে নতুন চুক্তি করতে হবে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে। তাই দৈর্ঘ্য না বাড়িয়ে প্রতি পিলারে ৬টির পরিবর্তে ৭টি করে পাইল বসানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। শুরুতে ৭টি পিলারে এ পদ্ধতিতে সমাধান করা হলেও বাকী ৭টিতে এভাবেও কাজ হচ্ছে না। তাই বিশ্বের কোথাও এর আগে হয়নি, এমন একটি বিকল্প উপায় খুঁজতে হচ্ছে সমাধান। সেটা মিলবে চলতি মাসে।

পদ্মা বহুমুখী সেতুর প্রকল্প পরিচালক শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা এখনো ডিজাইনটি ইস্যু করিনি। আমরা বলেছি অক্টোবরের মধ্যেই তা করা হবে। এখন পর্যন্ত যে টেস্ট করা হয়েছে তার সবগুলো আমরা সফলতা পেয়েছি। আমরা যা অনুমান করেছিলাম তার থেকেও ভালো ফলাফল পাচ্ছি।’

পরিবর্তিত নকশায় সেতুর ৪২টি পিলারের মধ্যে এখন ১৮টিতে ৬টি করে আর ২২টিতে ৭টি করে পাইল বসানো হবে। আগে পদ্মা সেতুর পিলারের প্রতিটি পাইল ছিল সমতল কিন্তু নতুন নকশায় এক একটি পাইলের সঙ্গে ট্যাম যোগ করা হচ্ছে।  আর ট্যামগুলোর মধ্যে যে ফাঁকা জায়গা রয়েছে সেখানে উচ্চচাপে সিমেন্টের গাউটিং প্রবেশ করানো হবে। আর এই ট্যামগুলোর ১ মিটার দূরত্বে তিনটি করে ছোট ছোট ছিদ্র রয়েছে। ছিদ্রগুলো দিয়ে সিমেন্ট বের হয়েছে মাটির গঠনকে শক্তিশালী করবে। সেই সঙ্গে পাইলগুলোকে বেশি চাপ বহনে সক্ষমতা দেবে।

ট্যাম বসানো পিলার এর মধ্যেই নদীতে নিয়ে টেস্ট করা সম্পন্ন করা হয়েছে। পদ্মা বহুমুখী সেতুর প্রকল্প পরিচালক শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘স্টিল পাইলে গ্রাউন্ডিং বিশ্বে এই প্রথম। আগে কখনো হয়নি। এই ডিজাইনকে পৃথিবীর অনেক দেশ ফলো করবে।’

নকশা জটিলতা ভুগিয়েছে এখানকার প্রকৌশলীদের। কাজের অগ্রগতিতে ছিল গলার কাঁটা হয়ে। তবে শেষ পর্যন্ত প্রকৃতির খামখেয়ালিপনা বাদ দিয়ে জয় হয়েছে বিজ্ঞানের। মিলেছে সমাধান।  আর তাই পদ্মা সেতুর কাজ পুরো শেষ করতে এখন আর বাঁধা থাকলো না।

– সময়

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here