শনাক্তের আগেই মারা যাচ্ছে ক্যান্সার আক্রান্ত বেশিরভাগ শিশু

0
214

শিশু ক্যান্সার সহজেই ভালো হয়। অথচ রেফারেল সিস্টেমের অভাবে শনাক্তের পরেও ঝরে যাচ্ছে হাজারো প্রাণ। এছাড়াও নাগালের মধ্যে চিকিৎসার সুযোগ না থাকায় শনাক্তের আগেই মারা যাচ্ছে সিংহভাগ। যদিও চিকিৎসকরা বলছেন প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়লে শিশু ক্যান্সারের ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত নিরাময় সম্ভব। সমস্যা সমাধানে বিভাগীয় শহরগুলোতে পূর্ণাঙ্গ সেন্টার নির্মাণের বিকল্প নেই বলে মত বিশেষজ্ঞদের।

জীবনের শুরুতেই ক্যান্সারে একটি করে চোখ হারিয়েছে জাতীয় ক্যান্সার ইন্সটিটিউটে দেখা পাওয়া গেল এমন দুই কোমলমতির। একটি শিশুর কৃত্রিম চোখ লাগানো হলেও অপরজনের মা সেটিও পারেননি টাকার অভাবে। তবে কয়েক মাস ধরে জাতীয় ক্যান্সার ইন্সটিটিউটে চিকিৎসা নিতে এসে প্রতিবারই ৪/৫ দিন বারান্দায় থাকার পর শয্যা মিলেছে ভুক্তভোগীদের।

সদ্য ভূমিষ্ঠ বা শিশু সন্তান ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়েছে অভিভাবকের এমন ধারণা বিশ্বাসে রূপ নেবার আগেই ছড়িয়ে যায় অনেকাংশে। এছাড়াও রাজধানীতেই ক্যান্সারের পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা থাকায় যাতায়াত, থাকা, খাওয়া, চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে যেয়ে মাঝপথেই থেমে যায় অধিকাংশের চিকিৎসা।

তবে রেফারেল সিস্টেম শক্তিশালী করার মধ্য দিয়ে চিকিৎসার আওতায় আসা ৯০ভাগের সুস্থতা সম্ভব বলে মনে করেন শিশু বিশেষজ্ঞরা।

শিশু ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ ডা. রাশেদ জাহাঙ্গীর কবির বলেন, প্রাথমিক স্টেজে ক্যান্সার ধরা পড়ার পরই আমাদের কাছে নিয়ে আসা হলে আমরা অনেক শিশুকে বাচাতে পারবো।

রাজধানীর বাইরে ক্যান্সার হাসপাতাল নির্মাণের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে অধিক সংখ্যক শিশু চিকিৎসার আওতায় আসবে বলে জানিয়েছেন জাতীয় ক্যান্সার ইন্সটিটিউটের পরিচালক।

জাতীয় ক্যান্সার ইন্সটিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মোয়াররফ হোসেন বলেন, আট বিভাগে আটটা ক্যান্সার ইন্সটিটিউট করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর যে পরিকল্পনা শিশু ক্যান্সারও তার অন্তর্ভুক্ত। এর ফলে সবার হাতের নাগালে চিকিৎসা চলে আসবে।

শিশু ক্যান্সারের সবচে ভালো দিক, প্রাথমিক অবস্থায় চিকিৎসা শুরু করা গেলে সিংহভাগের নিরাময় সম্ভব। অথচ আক্রান্ত কয়েক লাখের সাথে প্রতি বছর যোগ হওয়া ১৩ হাজারের মাত্র ১০ থেকে ১২ ভাগ পাচ্ছে প্রকৃত চিকিৎসা। তাই রাজধানীর বাইরে ক্যান্সারের পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা ছড়িয়ে দেবার আহ্বান বিশেষজ্ঞদের। সূত্র: সময়টিভি

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here