‘শরণার্থীদের কষ্ট কি তা আমি জানি’ জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রী

0
192

রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আশ্রয় দেওয়া প্রসঙ্গে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দফতরে দেওয়া বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এসব কথা বলেছেন, শরণার্থীদের কষ্ট কি তা আমি জানি।

আমিও দুইবার শরণার্থী ছিলাম। প্রথমবার ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময়। তখন আমার বাবা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে গ্রেফতার করে পাকিস্তানে নিয়ে যাওয়া হয়।

দ্বিতীয়বার ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট। যখন মা-বাবা, ১০ বছরের ছোট রাসেলসহ তিন ভাই, দুই ভাইয়ের স্ত্রী, এক চাচাসহ ১৮জনকে নির্মমভাবে গুলি করে হত্যা করা হয়। ওই সময় ১৯৮১ সাল পর্যন্ত ছয়বছর আমি আর আমার ছোটবোন শরণার্থী হিসেবে বিদেশে ছিলাম।

সোমবার মধ্যরাতে ঢাকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং নিউইয়র্কের কূটনৈতিক সূত্র এ তথ্য জানায়।

‘বৈশ্বিক শরণার্থী বিষয়ক উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক: বৃহত্তর সার্বভৌমত্ব ও সহযোগিতার একটি মডেল’ শীর্ষক বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গা সঙ্কট নিরসনে বিশ্ব সম্প্রদায়ের উদ্দেশ্যে তিনটি প্রস্তাব তুলে ধরে বলেন, রোহিঙ্গা সঙ্কট সৃষ্টি করেছে মিয়ানমার, তাদেরকেই এ সঙ্কট সমাধানের পথ খুঁজে বের করতে হবে।

দায়িত্বশীল সরকার হিসেবে আমরা আমাদের সীমান্ত খুলে দিয়ে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছি। এর মাধ্যমে আমরা শুধু তাদের জীবনই বাঁচাইনি, পাশাপাশি সীমান্তে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাও বজায় রেখেছি। সব শরণার্থীরই নিজভূমিতে নিরাপদে ফিরে যাওয়ার ইচ্ছা রয়েছে, যা আমাদের ভুলে গেলে চলবে না।

মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদেরও তাদের মাতৃভূমিতে নিরাপদে ও সম্মানের সঙ্গে ফেরত নিতে হবে। শরণার্থীদের নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য তাদের নিজ দেশকেই উদ্যোগী হওয়া গুরুত্বপূর্ণ। যে কারণে শরণার্থী সঙ্কট দেখা দিয়েছে তার মূলোৎপাটন করা দরকার।

প্রস্তাব গুলোর মধ্যে প্রথমে রয়েছে, রোহিঙ্গাদের বিপক্ষে বৈষম্যমূলক আইন, নীতি ও পদ্ধতি মিয়ানমারকে বাতিল করতে হবে। জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতির মূল কারণগুলো উদঘাটন ও সময়মতো প্রকাশ করতে হবে।

দ্বিতীয়ত, মিয়ানমারের সব রোহিঙ্গাদের সুরক্ষা, অধিকার ও নাগরিকত্ব পাওয়ার উপায় এবং নিরাপত্তা নিশ্চিতের সহায়ক পরিবেশ তৈরি করতে হবে। প্রয়োজনে সব রোহিঙ্গা নাগরিকের নিরাপত্তার জন্য মিয়ানমারে ‘নিরাপদ অঞ্চল’ তৈরি করতে হবে।

তৃতীয়ত, রোহিঙ্গাদের ওপর নির্মম নির্যাতন বন্ধে মিয়ানমারকে জবাবদিহিতা ও বিচারের আওতায় আনা। বিশেষ করে জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলের ‘ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং মিশনে’র সুপারিশ বাস্তবায়ন করতে হবে।’’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here