শিশু নির্যাতন রোধে ইসলাম

0
285

শিশু নির্যাতন একটি ভয়াবহ অপরাধ। দন্ডনীয় এই অপরাধের জন্য রয়েছে কঠোর শাস্তি। মিডিয়াতে শিশু নির্যাতনের করুণ আর্তনাদের চিত্র প্রায়ই দেখা যায়। যা দেখে হৃদয়বান ব্যক্তির হৃদয় কম্পিত হয়। শিশুদের অল্প বেতন দিয়েও কলকারখানায় কাজ করিয়ে তাদের ওপর অমানবিক নির্যাতন করা হয়। যা আইনত দন্ডনীয় অপরাধ।

সরকার আইন করার পরও শিক্ষকরা ছাত্রদের বিভিন্ন সময় গায়ে হাত তুলে যাচ্ছেন। বাসার কাজের শিশুকে রুটিন মাফিক নির্যাতন করা হচ্ছে। ক্ষতি করা হচ্ছে তাদের এই সাজানো সুন্দর সুখময় জীবন। মানুষকে ক্ষতি করতে বিশ্ব নবী (সা:) নিষেধ করেছেন। রাসুল (স:) বলেন, ‘ তায়ালা প্রতিটি জিনিসের উপযোগীতা নির্ধারন করে দিয়েছেন। কাজেই যে ব্যক্তি নিজেদের অথবা অন্যের ক্ষতি সাধন করে সে উপকার করল না। সে মহান আল্লাহর নির্ধারিত বিধানের পরিপন্থী কাজ করল’। (আল হাদিস)

শিশুরা জাতির ভবিষ্যত। আজকের শিশু বড় হয়ে একটি দেশকে উন্নত করবে। তারা এই সুন্দর দেশকে সুন্দর করে পরিচালনা করবে, কিন্তু সেই শিশু সন্তানকে নির্যাতন করে হত্যা করে ফেলা হচ্ছে। শিশু সন্তানকে হত্যা করতে আল্লাহ তায়ালা নিষেধ করেছেন। মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন, তোমরা নিজেদের সন্তানকে হত্যা করো না। (সূরা বাকারা:১৫১) অন্যত্র মহান আল্লাহ বলেন, ‘যেসব লোক নিজেদের সন্তানদের হত্যা করেছে তারা অবশ্যই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’ (সূরা আনআম-১৪০)

শিশু সন্তান যদি অন্য ধর্মাবলম্বী হয় তাহলেও তাকে নির্যাতন করা যাবে না। হজরত আল আসওয়াদ ইব্ন সারী (রা:) হতে বর্ণিত, রাসুল (স:) বলেন,‘খবরদার! তোমরা শিশুদের হত্যা করো না। এক ব্যক্তি বলল, ইয়া রাসুল্লাল্লাহ তারা কি মুশরিকের সন্তান নয়? রাসুল (স:) বললেন, তোমাদের মধ্যে যারা উত্তম তারা কি মুশরিকের সন্তান ছিলে না!’ (মুসনাদ আহমদ:১৫৬৭৪)

শিশুদের নির্যাতন করে হত্যা না করে তাদের প্রাণ বাঁচাতে হবে। কেউ শিশু নির্যাতন করে হত্যা করছে এ রকম দেখলে তাকে নিষেধ করে সেই শিশুকে বাঁচতে সাহায্য করতে হবে। যদি কেউ কোন ব্যক্তিকে প্রাণে বাঁচালো সে ব্যক্তি গোটা মানব জাতিকে বাঁচতে সাহায্য করল। মহান আল্লাহ বলেন,‘কেউ কাউকে নর হত্যার অপরাধ ব্যতিত হত্যা করলে সে যেন গোটা মানবজাতিকে হত্যা করলো। আর কেউ কারো প্রাণ বাঁচালো সে যেন গোটা মানবজাতিকে বাঁচালো’। (সূরা মায়িদা:৩২)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here