শূন্য থেকে শীর্ষ ধনী বেজোস

0
160

সাল ১৯৯৪। ওয়াল স্ট্রিটের একটি কোম্পানির ভাইস প্রেসিডেন্ট এর দায়িত্ব পালন করছিলেন জেফ বেজোস। সদ্য ৩০ ছোঁয়া এক তরুণের জন্য নিশ্চয়ই লোভনীয় চাকরি। কিন্তু জেফ বেজোসের মন টিকলো না চাকরিতে। তার একটাই চিন্তা উদ্যোক্তা হতে হবে। নিউইয়র্ক ছেড়ে বেজোস চলে এলেন রাজধানী ওয়াশিংটনে। একটি গ্যারেজে শুরু করলেন একটি অনলাইন বইয়ের দোকান। এর পরের গল্পের পুরোটাই ইতিহাস। প্রায় শূন্য থেকে শুরু করা অ্যামাজন এখন যুক্তরাষ্ট্রের ২য় তালিকাভুক্ত কোম্পানি যার সম্পদমূল্য ১ লাখ ডলার। বিষেশজ্ঞদের অভিমত অ্যাপলকে টেক্কা দিয়ে অদূর ভবিষ্যতে অ্যামাজনেই হবে পুঁজিবাজারের ইতিহাসের প্রথম কোম্পানি, যার সম্পদমূল্য হবে ২ লাখ কোটি ডলার!

প্রথমে জেফ বেজোসের অনলাইন বই ব্যবসার নাম ছিলো ক্যাডাবরা। কয়েকমাস পরেই নাম বদলে রাখা হয় অ্যামাজন। অ্যামাজন চালু করার পেছনে একটি নিবন্ধ সর্বোচ্চ ভূমিকা রেখেছিলো। বেজোস একটি নিবন্ধে জানতে পারেন ইন্টারনেট বাণিজ্য একদিন সর্বোচ্চ অবস্থানে যাবে এবং এর প্রবৃদ্ধি হবে ২৩০০ শতাংশ। সেখান থেকেই অ্যামাজনের ধারণা আসে বেজোসের। তিনি অনলাইনে বিক্রি করা যেতে পারে এমন ২০টি পণ্যের তালিকা তৈরী করেন। পরে তিনি এই তালিকা ছোট করে ৫টি পণ্যের আরেকটি তালিকা বানান। তালিকায় ছিলো সিডি, কম্পিউটার যন্ত্রাংশ, সফটওয়্যার, ভিডিও এবং বই। পরে বেজোস বইকেই নিজের পণ্য নির্ধারণ করেন। কারণ সারা বিশ্বেই বইয়ের চাহিদা রয়েছে এবং বই এর দাম কম। বেলভিউতে বেজোসের ভাড়া করা গ্যারেজই হয় অ্যামাজনের প্রথম হেডকোয়ার্টার। বেজোসের বাবা-মা এই সদ্য তৈরী প্রতিষ্ঠানে জীবনের সম্পূর্ণ সঞ্চয় আড়াই লাখ ডলার বিনিয়োগ করেন। ১৯৯৫ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয় অ্যামাজনের অনলাইন বুক স্টোর। প্রথম বিক্রিত বই ছিলো ডগলাস হেফসটাডটরস এর ‘ফুøইড কনসেপ্ট অ্যান্ড ক্রিয়েটিভ অ্যানালজিস’। দুই মাসে অ্যামাজনের বিক্রি প্রতি সপ্তাহে দাড়ায় ২০ হাজার ডলার। অক্টোবরে অ্যামাজন নিজেদের পাবলিক কোম্পানি ঘোষণা করে। ১৯৯৭ সালের ১৫ মে ১৮ ডলারে প্রাথমিক গণপ্রস্তাবে (আইপিও) যায় অ্যামাজন। আর বৃহষ্পতিবার অ্যামাজনের শেয়ারপ্রতি দর ছিল ১৯৯৪ ডলার!

১৯৯৮ সাল থেকে বই এর বাইরেও অন্যান্য পণ্য বিক্রি শুরু করে অ্যামাজন। এই সিদ্ধান্তই অ্যামাজনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। একই সাথে সহজ হয়ে যায় মানুষের জীবন যাপন। ২০০৫ সালে ক্লাউড কম্পিটিং শুরু করে অ্যামাজন। ক্লাউড কম্পিটিং এর শুরুর দিকের পথপ্রদর্শক হওয়ায় এই ব্যবসার প্রায় পুরো নিয়ন্ত্রনই বেজোসের হাতে। ২০১০ সালে অ্যঅমাজন নিয়ে আসে ই বুক রিডার কিন্ডল। আর ২০১৫ সালে অ্যামাজন মিউজিক এবং অ্যামাজন ভিডিওস এর মাধ্যমে স্ট্রিমিং ব্যবসায় নামে কোম্পানিটি। আর ২০১৮ সালের ৫ সেপ্টেম্বর ২য় তালিকাভুক্ত মার্কিন কোম্পানি হিসেবে অ্যামাজনের মোট বাজারমূল্য দাঁড়ায় ১ লাখ কোটি মার্কিন ডলার।

যখন একটি লোভনীয় চাকরি ছাড়েন বেজোস তথন তাকে নিরুৎসাহিত করার মানুষের অভাব ছিলোনা। কিন্তু উচ্চভিলাসি ও দূরদৃষ্টিসম্পন্ন বেজোস এতে দমে যাননি। সেজন্যই আজ তিনি ১৬ হাজার ৪৭০ কোটি ডলারের মালিক। বিশ্বের সবচেয়ে ধণী মানুষ। এজন্যই হয়তো বলা হয় ব্যবসায় আইডিয়ার চাইতে বড় পুঁজি আর নেই।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here