‘শেখ হাসিনা মাদার অব হিউম্যানিটি সমাজকল্যাণ পদক’ দেয়ার সিদ্ধান্ত

0
182

মুক্তিযুদ্ধ, শিক্ষা, কৃষি, সংস্কৃতি, সাহিত্য, সাংবাদিকতার পর এবার জাতীয় পর্যায়ে ‘শেখ হাসিনা মাদার অব হিউম্যানিটি সমাজকল্যাণ পদক’ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

জনগণ ও সমাজসেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানসহ সারাদেশের মানুষের মানবিক মূল্যবোধকে জাগ্রত করতে এই পদক চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
এ লক্ষ্যে একটি নীতিমালা তৈরী করে তা আগামী প্রশাসনিক উন্নয়ন সংক্রান্ত সচিব কমিটিতে অনুমোদনের জন্য পঠিয়েছে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়। মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলমের সভাপতিত্বে সচিব কমিটির এই বৈঠক আগামী রোববার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত হবে।

প্রস্তাবে, অনুমানিক সাড়ে ২২ লাখ টাকা ব্যয়ে জাতীয় পর্যায়ে এই পুরস্কার দেয়া হবে মোট ৫টি। তবে কোনো কোনো ক্ষেত্রে যোগ্য ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান না পাওয়া গেলে পদক সংখ্যা হ্রাস করা হতে পারে। সমাজকল্যাণ ও সামাজিক ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠায় বিশেষ আগ্রহ ও স্বীকৃতিসহ মানবকল্যাণ ও উন্নয়নে নিবেদিত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে এই পদক দেয়ার জন্য প্রস্তাব করা হয়েছে নীতিমালাতে।

এজন্য ১৮ ক্যারেট মানের ২৫ গ্রাম স্বর্ণ নির্মিত একটি পদক, একটি রেপ্লিকা ও একটি সম্মাননা সনদসহ ব্যক্তি ও দপ্তর, সংস্থা/প্রতিষ্ঠান পর্যায়ে প্রতি পদকের জন্য দুই লাখ টাকা হারে প্রদান করা হবে।
প্রতিবছর ২ জানুয়ারী সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় আয়োজিত জাতীয় সমাজসেবা দিবসের অনুষ্ঠানে এই পদক প্রদান করা হবে। এর আগে ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে পুরস্কার প্রদানের আবেদন গ্রহণ করার কথা বলা হয়েছে প্রস্তাবিত নীতিমালায়।
পুরস্কার প্রদানের লক্ষ্যে জেলা প্রশাসকের (ডিসি) নেতৃত্বে ১০ সদস্য বিশিষ্ট প্রাথমিক বাছাই কমিটি আবেদন সমূহ প্রাথমিক মূল্যায়ন শেষে প্রতিবেদন আকাড়ে প্রতিটি পুরস্কারের বিপরীতে সর্বোচ্চ ২টি করে মোট ১০টি নাম সুপারিশসহ জাতীয় কমিটিতে তালিকা পাঠাবে।

তবে রাষ্ট্রবিরোধী কার্যকলাপ/ফৌজদারি আইনে শাস্তিপ্রাপ্ত বা অভিযুক্ত বা ফৌজদারি অপরাধে দ-িত বা দেউলিয়া কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান এই পদক পাওয়ার যোগ্য হবে না উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একবার পদক পাওয়া ব্যক্তি/প্রতিষ্ঠান পরবর্তী ১০ বছর একই বিষয়ে পুনরায় পদক পাওয়ার জন্য বিবেচিত হবে না।

জাতীয় কমিটির প্রধান হবেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী/প্রতিমন্ত্রী। এই কমিটিতে ১২ জন সদস্য থাকবেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে নীতিমালায়। এই কমিটি ব্যক্তি/প্রতিষ্ঠানের তথ্য যাচাই-বাছাই করে চূড়ান্ত মূল্যায়ন প্রতিবেদনসহ পুরস্কার পাওয়ার যোগ্যদের নামের তালিকা মন্ত্রিসভা কমিটিতে অনুমোদনের জন্য পাঠাবে।

প্রসঙ্গত, ময়ানমারের বাস্তুচ্যুত অসহায় ১৩ লক্ষাধিক শরনার্থীকে আশ্রয়সহ মানবিক বিপর্যয়রোধে সফল উদ্যেগ গ্রহণ ও প্রায় ১১ লক্ষ রোগিঙ্গা জনগোষ্ঠিকে সার্বিক সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীতে নিয়ে আসার মহান উদ্যোগ গ্রহণ করায় গত বছর যুক্তরাজ্যের প্রভাবশালী টিলিভিশন চ্যানেল ফোর শেখ হাসিনাকে ‘মাদার অব হিউম্যানিটি’ হিসেবে ঘোষণা করে।
এরই ধারাবাহিকতায় সরকার ‘শেখ হাসিনা মাদার অব হিউম্যানিটি সমাজকল্যাণ পদক’ প্রবর্তণের সিদ্ধান্ত নেয়।
এ প্রসঙ্গে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সংবিধানে ‘সামাজিক নিরাপত্তার অধিকার অর্থাৎ বেকারত্ব, ব্যাধি বা পঙ্গুত্বজনিত কিংবা বৈধব্য, মাতাপিতৃহীনতা বা বার্ধক্যজনিত কিংবা অনুরূপ অন্যান্য পরিস্থিতিজনিতসহ অভাবগ্রস্থতার ক্ষেত্রে সরকারি সাহায্য লাভের অধিকার সংযুক্ত করে সামাজিক নিরাপত্তাকে রাষ্ট্রীয় কাঠামোতে অন্তর্ভূক্ত করেন।

এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৯৭-৯৮ অর্থবছরে দেশে প্রথমবারের মতো বয়স্কভাতা এবং ১৯৯৮-৯৯ সালে অর্থবছরে বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা ভাতা, মুক্তিযোদ্ধা সম্মানী ভাতাসহ বিভিন্ন প্রকার সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি শুরু করে আওয়ামী লীগ সরকার। পাশাপাশি সরকার প্রধান শেখ হাসিনা হিজড়া, বেদে ও অনগ্রসর জনগোষ্ঠির জীবনমান উন্নয়ন, চ-শ্রমিক, ক্যান্সার, কিডনি, লিভার সিরোসিস ও জন্মগত হৃদরোগীদের অর্থিক সহায়তা, দরিদ্র রোগীদের চিকিৎসা সেবা প্রদানের লক্ষ্যে হাসপাতালে সমাজসেবা কার্যক্রম সম্প্রসারণ করে ৪১৯টি উপজেলা হেলথ কমপ্লেক্স রোগী কল্যাণ সমিতি গঠন ও নিবন্ধন প্রদান করেন।

এছাড়াও ভিক্ষুক পূনর্বাসন, বাল্য বিবাহ রোধ, সরকারি চাকরিতে প্রতিবন্ধী কোটা চালু, প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্র, প্রতিবন্ধী শিক্ষা উপবৃত্তি, প্রতিবন্ধী মানুষের শিক্ষা, কর্মসংস্থান, চলাচল ও যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ করাসহ তাদের সামাজিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেয়া, পথশিশুদের পুনর্বাসন ও নিরাপদ আবাসনের ব্যবস্থা করা এবং দারিদ্র নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত অতি দরিদ্রদের জন্য টেকসই সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী গড়ে তোলা, প্রতিবন্ধী মোবাইল থেরাপী ভ্যানসহ নানাবিধ সামাজিক নিরাপত্তা কার্যক্রম গ্রহণ করেন।

একই সময়ে জাতীয় সামাজিক নিরাপত্তা কৌশল, ভবঘুরে ও নিরাশ্রয় ব্যক্তি (পুনর্বাসন) আইন, ২০১১, শিশু আইন, ২০১৩, পিতা-মাতার ভরণ পোষণ আইন, ২০১৩, প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা আইন, ২০১৩, নিউরো-ডেভেলপমেন্ট প্রতিবন্ধী সুরক্ষা ট্রাষ্ট আইন, ২০১৩ প্রণয়নসহ বিভিন্ন কৌশলগত সংস্কারের মাধ্যমে বাংলাদেশকে একটি কল্যাণ রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here