শেষ মুহূর্তে গোল হজম, তিনে উঠতে ব্যর্থ ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড

0
40

ওল্ড ট্রাফোর্ডে শেষ মুহূর্তে গোল হজম করে সাউদাম্পটনের সঙ্গে পয়েন্ট ভাগাভাগি করেছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। আর গুরুত্বপূর্ণ সময়ে পয়েন্ট হারিয়ে লিগের শীর্ষ তিনে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হলো রে ডেভিলরা। ঘরের মাঠে ম্যাচের ৯৬ মিনিটে গোল হজম করে সাউদাম্পটনের বিপক্ষে ২-২ গোলে ড্র করে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড।

এদিন সাউদাম্পটনকে হারাতে পারলেই চেলসি এবং লেস্টার সিটিকে টপকে লিগ টেবিলের তিন নম্বরে উঠে আসার সম্ভবনা ছিল ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সামনে। আর সেই সঙ্গে তাদের শেষ কয়েক ম্যাচের পারফরম্যান্সও ইঙ্গিত দিচ্ছিল জয়েরই। তবে শেষ পর্যন্ত সাউদাম্পটনের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে জয় বঞ্চিত ইউনাইটেড। আর সেই সঙ্গে বঞ্চিত শীর্ষ তিন থেকেও।

ওল্ড ট্রাফোর্ডে এদিন ম্যাচের ১২তম মিনিটেই স্টুয়ার্ট আর্মস্ট্রংয়ের গোলে এগিয়ে যায় সাউদাম্পটন। ১-০’তে পিছিয়ে পড়লেও ম্যাচে ফিরতে রেড ডেভিলরা সময় নেয় মাত্র ৪ মিনিট। অ্যান্থোনি মার্শিয়ালের বাড়ানো বল জালে জড়ান চলতি মৌসুমে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা মার্কাস রাশফোর্ড। তাতেই ১-১ গোলে সমতায় ফেরে স্বাগতিকরা। এর ঠিক মিনিট তিনেক পরেই দুকে এগিয়ে নেন প্রথম গোলের যোগান দাতা অ্যান্থোনি মার্শিয়াল। ম্যাচের ২০ মিনিট পর্যন্ত ১-০ গোলে পিছিয়ে থাকা ইউনাইটেড তিন মিনিটের ব্যবধানে এগিয়ে যায় ২-১ গোলের ব্যবধানে।

মার্শিয়ালের গোলের অ্যাসিস্ট নিজের খাতায় লেখান ব্রুনো ফার্নান্দেজ। এটি ব্রুনোর ১১তম ইপিএল ম্যাচের ৭ম অ্যাসিস্ট। এদিকে এই গোলের মাধ্যমে রেড ডেভিলদের হয়ে প্রিমিয়ার লিগে গোলের অর্ধশতক পূর্ণ করেন মার্শিয়াল। প্রথমার্ধে দুই দলই আর তেমন কোনো আক্রমণ করতে না পারায় শেষ পর্যন্ত ইউনাইটেড ২-১ গোলের ব্যবধানে পিছিয়ে থেকেই বিরতিতে যায়।

বিরতি থেকে ফিরে ম্যাচের ৫৩ মিনিটে ব্রুনো ফার্নান্দেজ দুর্দান্ত এক কাউন্টার অ্যাটাকে নেতৃত্ব দেন, তার কাছ থেকে পাওয়া বল শট করেন রাশফোর্ড। তবে তা প্রতিপক্ষের গায়ে লেগে ফিরে আসে। এরপরে আক্রমণের ধার আরও বাড়িয়ে দেয় ইউনাইটেড। ম্যাচের ৬৭ মিনিটে গোল করার বেশ কাছেই পৌঁছে গিয়েছিলেন রাশফোর্ড তবে বার্টনার্ডের দুর্দান্ত ব্লকে সে যাত্রায় বেঁচে যায় দ্য সেইন্টরা।

শেষ দিকে এসে খোলস ছেড়ে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করতে থাকে সাউদাম্পটন, ম্যাচের ৮৫ মিনিটে রেডমন্ডের বাঁ প্রান্ত থেকে ডি বক্সে ঢুকে পড়ে দুর্দান্ত এক শট নেয় টপ কর্নারে। তবে তার থেকেও দুর্দান্ত সেভ দেন ডি গিয়া। সে যাত্রায় রক্ষা পায় ইউনাটেড। ম্যাচ গড়ায় যোগ করা অতিরিক্ত সময়ে, তখনও ঘরের মাঠে ২-১ গোলের ব্যবধানে এগিয়ে রেড ডেভিলরা। আর কয়েক মিনিট এই লিড ধরে রাখতে পারলেই নিশ্চিত লিগের তিন নম্বর স্থান।

তবে দ্য সেইন্টদের পরিকল্পনা ছিল ভিন্ন, ম্যাচের ঠিক ৯৬ মিনিটে বেন্ডার্কের দুর্দান্ত এক অ্যাসিস্ট থেকে ইউনাইটেডের জালে বল জড়ান বদলি ফরোয়ার্ড মাইকেল ওবাফেমি। আর তাতেই ধূলিসাৎ রেড ডেভিলদের সেরা তিনে জায়গা করে নেওয়ার স্বপ্ন। গোলের পর পরই রেফারি ম্যাচ শেষের বাঁশি বাজিয়ে দেন। আর সাউদাম্পটন ২-২ গোলের সমতায় ম্যাচ শেষ করে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের বিপক্ষে।

এই ম্যাচে পয়েন্ট ভাগাভাগি করায় পয়েন্ট টেবিল কোনো পরিবর্তন আসেনি রেড ডেভিলদের তবে নিউক্যাসেলকে টপকে ১২ নম্বরে উঠে এসেছে সাউদাম্পটন। নিজেদের শেষ ম্যাচে চেলসি ও লেস্টার সিটি হেরে পয়েন্ট খুয়িয়েছে। আর এই সুযোগেই শীর্ষ তিনে চলে যাওয়ার সম্ভবনা ছিল রেড ডেভিলরা। বর্তমান প্রিমিয়ার লিগের পয়েন্ট টেবিল অনুযায়ী ৩৬ ম্যাচে ১৮ জয় ৬ ড্র এবং ১১ হারে ৬০ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে চেলসি, ৩৫ ম্যাচে ১৭ জয়, ৮ ড্র এবং ১০ হারে ৫৯ পয়েন্ট নিয়ে ৪র্থ স্থানে লেস্টার। আর সাউদাম্পটনের বিপক্ষে ড্র করে ৩৫ ম্যাচে ১৬ জয়, ১১ ড্র এবং ৮ হারে ৫৯ পয়েন্ট নিয়ে ৫ম স্থানে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড।
সূত্র- সারা বাংলা

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here