শেয়ারবাজারে অ্যাকাউন্ট খোলার হিড়িক, দুই মাসে বেড়েছে ৮২ হাজার

0
175

দেশের শেয়ারবাজারে ক্রমেই বাড়ছে নতুন বিনিয়োগকারীর সংখ্যা ও বেনিফিশিয়ারি ওনার্স (বিও) হিসাব খোলার প্রবণতা। চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকের শেষ দুই মাসে অর্থাৎ আগস্ট-সেপ্টেম্বরে নতুন বিনিয়োগকারী বেড়েছে ৮২ হাজার ৩৭৬ জন। এর মধ্যে সেপ্টেম্বরে বেড়েছে ৩৬ হাজার ২০৭ জন বিনিয়োগকারী। এই দুই মাসে গড়ে প্রতিদিন নতুন বিও অ্যাকাউন্ট বা হিসাব খুলেছেন ১ হাজার ৩৫০ জন। অবশ্য অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইতে দেড় লাখেরও বেশি বিনিয়োগকারী বিও হিসাব বন্ধ করে শেয়ারবাজার ছাড়েন।

সেন্ট্রাল ডিপজিটরি বাংলাদেশের (সিডিবিএল) হালনাগাদ তথ্যানুযায়ী, নতুন-পুরাতন মিলে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত শেয়ারবাজারে মোট বিনিয়োগকারীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৬ লাখ ৯৫ হাজার ৫১০ জনে। যা ৩১ জুলাই ছিল ২৬ লাখ ১৩ হাজার ১৩৪ জনে। অর্থাৎ জুলাইয়ের তুলনায় সেপ্টেম্বর শেষে নতুন বিনিয়োগকারী বেড়েছে ৮২ হাজার ৩৭৬ জন। এই ৬১ দিনের প্রতিদিন গড়ে নতুন বিনিয়োগকারী বেড়েছে ১ হাজার ৩৫০ জন। এদিকে আগস্টের তুলনায় সেপ্টেম্বরে ৩৬ হাজার ২০৭ জন নতুন বিনিয়োগকারী প্রবেশ করেছেন শেয়ারবাজারে।

দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) শেয়ারধারী পরিচালক মিনহাজ মান্নান ইমন বলেন, সরকার ও সংশ্লিষ্টদের সক্রিয়তায় শেয়ারবাজারে কাক্সিক্ষত ফলাফল আসতে শুরু করেছে। নানা মুখী সুখবরে আগামী দিনগুলোয় শেয়ারবাজারে গতি আসবে- এমন ইঙ্গিতে আশা সঞ্চার হয়েছে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে। বিনিয়োগের জন্য সুসময় মনে করে শেয়ারবাজারে আসতে শুরু করেছেন নতুন বিনিয়োগকারীরা। তিনি আরও বলেন, চীনা জোটের কাছ থেকে পাওয়া অর্থ শিগগিরই শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করা হবে। এতে কিছুটা হলেও বাজার গতিশীল হবে।

তথ্যমতে, আগস্ট-সেপ্টেম্বরে পুরুষ বিনিয়োগকারী বেড়েছে ৫৮ হাজার ৯৩৬ জন এবং নারী বিনিয়োগকারী বেড়েছে ২৩ হাজার ২১৩ জন। এছাড়া ২২৭টি বেড়েছে কোম্পানির বিও হিসাব। এদিকে আলোচ্য সময়ে নতুন করে স্থানীয় বা আবাসিক বিনিয়োগকারী বেড়েছে ৮০ হাজার ২৭৫ জন এবং প্রবাসী বা অনাবাসিক বিনিয়োগকারী বেড়েছে ১ হাজার ৮৭৪ জন। এর মধ্যে একক বিনিয়োগকারী বেড়েছে ৪৫ হাজার ৩৫৪ জন এবং যৌথ বিনিয়োগকারী বেড়েছে ৩৬ হাজার ৭৯৫ জন।

অর্থনীতিবিদ ও শেয়ারবাজার বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক আবু আহমেদ বলেন, যে পরিমাণ বিও হিসাব বেড়েছে তার প্রায় ৯০ শতাংশই আইপিওতে ব্যবহারের জন্য। বাকি ১০ শতাংশ হয়তো নিয়মিত লেনদেনের জন্য ব্যবহার হবে। আবার দেখা যাবে কিছু দিন পরেই কমে যাবে। এটা চলমান প্রক্রিয়া। শেয়ারবাজার চাঙা করতে হলে ভালো কোম্পানি আনার পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের পলিসি সাপোর্ট দেওয়া দরকার বলে মনে করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের এই অধ্যাপক।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here