শ্রেষ্ঠ উপায়ে দান করুন

0
186

কজন মানুষ যখন তার জীবনকে সব ধরনের উত্তম স্বভাব দ্বারা সুসজ্জিত করবে, তখন সে হবে একজন শ্রেষ্ঠ। একজন শ্রেষ্ঠ মানুষের সব কাজই শ্রেষ্ঠ।

তার ইবাদত-বন্দেগি, চলাফেরা, কথাবার্তা সবই শ্রেষ্ঠ। সেইভাবে একজন শ্রেষ্ঠ মানুষ যখন দান করবে, তখন তার দান-সদকাও হতে হবে শ্রেষ্ঠ।

আমরা অনেকে ইবাদত-বন্দেগিতে মনোযোগী হলেও কখনো ভাবি না কীভাবে দান করলে সেই দান হবে শ্রেষ্ঠ।

আমরা কী দান করব এবং কোন সময় দান করব- সেই বিষয়ে পবিত্র কোরআনের সুরা আল মুমিনুনের ১০ নম্বর আয়াতে আল্লাহপাক ইরশাদ করেছেন, আমি তোমাদের যে রিজিক দিয়েছি তোমাদের কারো মৃত্যুর সময় আসার পূর্বেই তা থেকে খরচ কর। সে সময় (মৃত্যুর পর) সে বলবে : হে আমার রব, তুমি আমাকে আরো কিছুটা অবকাশ দিলে না কেন? তাহলে আমি দান করতাম এবং নেককার লোকদের মধ্যে শামিল হয়ে যেতাম।

সুতরাং একজন মুমিন বান্দা যখন সে তার উপার্জিত অর্থ থেকে দান করবে তখন তাকে অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে, দানটাও যেন সর্বোত্তম পন্থায় হয়।

একটি হাদিসে এসেছে, হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেন, এক ব্যক্তি নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খেদমতে এসে জিজ্ঞাসা করল- কোন দানের সওয়াব সর্বাধিক।

তিনি বললেন, সর্বশ্রেষ্ঠ দান হলো, যখন তুমি তোমার সুস্থাবস্থায় দান করবে। এমতাবস্থায় দান করবে- যখন তোমার অন্তরে মালের মহব্বত রয়েছে, যখন সম্পদ বিলাতে মন চায় না, যখন সম্পদ খরচ করতে কষ্ট হয় এবং আশঙ্কা থাকে যে, দান করার ফলে পরবর্তী সময়ে তুমি অভাবের শিকার হবে। এমন অবস্থায় থেকে যে দান করবে তার সওয়াব হবে অধিক। তারপর তিনি বলেন, দান করার চিন্তা মনে এলে তখন বিলম্ব কর না। (সহিহুল বোখারি)

এই হাদিসে এমন কিছু লোকের কথা বলা হয়েছে, যারা দানকে বিলম্বিত করে থাকে। তারা চিন্তা করে যখন মৃত্যুর সময় ঘনিয়ে আসবে, তখন অসিয়ত করে যাব যে, অমুককে এ পরিমাণ অর্থ দেবে, আর অমুককে এই পরিমাণ অর্থ দেবে। তাই নবী (সা.) বলেছেন, তুমি বলছ এ পরিমাণ অর্থ অমুককে দেবে, কিন্তু এখন তো আর ওই সম্পদ তোমার নেই।

শরিয়তের মাসয়ালা : কোনো ব্যক্তি যদি অসুস্থ অবস্থায় দান করে বা অসিয়ত করে আর ওই রোগের কারণে তার মৃত্যু হয়, তাহলে তার সম্পদের কেবল এক-তৃতীয়াংশের মধ্যে তার দান কার্যকর হবে। অবশিষ্ট দুই-তৃতীয়াংশের মালিক হবে উত্তরাধিকারীরা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here