সচেতনতা শবে বরাতের ফজিলত সংক্রান্ত সহিহ হাদিস

0
523

বছরের কোনো কোনো মাস, দিন ও রাত্রিকে বিভিন্ন ইবাদতের জন্য আল্লাহ তায়ালা বিশেষভাবে বরকতময় ও বৈশিষ্টমণ্ডিত করে দিয়েছেন৷ বরকতময় এ সময়গুলোতে সামান্য মেহনত ও প্রচেষ্টার ফলে বিশাল প্রতিদানের অধিকারী হওয়া যায়, যা অন্য সময় অধিক মেহনত করেও অর্জন করা সম্ভব নয়৷ সেই সময়গুলোর মধ্যে ‘শবে বরাত’ অন্যতম৷

কিন্তু পরিতাপের বিষয় হলো, মহান এ রাতটি বাড়াবাড়ি ও ছাড়াছাড়ির শিকার৷ কিছু মানুষ এ রাতটির ফজিলতকে অস্বীকার করে বলছে শবে-বরাতের ফজিলত কোনো নির্ভরযোগ্য হাদীস দ্বারা প্রমাণিত নয়৷ অপর দিকে কিছু লোক এ রাত উদযাপনে এমন কিছু মনগড়া পদ্ধতি ও কর্মসূচি পালন করছে যা শরিয়তসম্মত নয়৷

‘শবে-বরাত’-এর শাব্দিক বিশ্লেষণ:
শবে-বরাত দু’টি শব্দের সমষ্টি৷ ‘শব’ শব্দটি ফার্সী, অর্থ- রাত, রজনী৷ ‘বরাত’ শব্দটিকে যদি ফার্সী ধরা হয় অর্থ হবে- সৌভাগ্য৷ শব্দ দু’টির একত্র অর্থ হবে- সৌভাগ্যের রাত বা ভাগ্য রজনী৷ আর যদি ‘বরাত’ শব্দটি আরবী ‘বারাআত’ শব্দের অপভ্রংশ ধরা হয়, তাহলে অর্থ হবে- পরিত্রাণ বা মুক্তি৷

অতএব শব্দ দু’টিকে আরবিতে অনুবাদ করা হলে অর্থ হবে- ‘লাইলাতুল বারাআহ’ যেমন ইমাম বাইহাকী রহ. তাঁর ‘আদ-দা’ওয়াতুল কাবীর’ গ্রন্থে একটি শিরোনাম দিয়েছেন এভাবে- ‘বাবুল ক্বাওলী ওয়াদ-দোয়া লাইলাতাল বারাআহ’ তবে হাদীসের ভাষায় বলা হয়েছে- ‘লাইলাতুন নিসফি মিন শা’বান’ অর্থাৎ শা’বানের মধ্যরাত্রি বা অর্ধ শা’বানের রাত৷

শবে-বরাতের ফজিলত সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য হাদিস: হযরত মুআজ ইবনে জাবাল রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত- রাসূল সা. ইরশাদ করেন, আল্লাহ তাআলা অর্ধ শা’বানের রাতে (শবে-বরাতে) তাঁর সৃষ্টির প্রতি মনোযোগী হন এবং মুশরিক ও বিদ্ধেষ পোষণকারী ব্যক্তি ছাড়া সবাইকে ক্ষমা করে দেন৷ (সহীহ্ ইবনে হিব্বান, হাদীস: ৫৬৬৫, সুনানে ইবনে মাযাহ, হাদীস: ১৩৯০, মুসান্নাফু ইবনে আবী শাইবাহ, হাদীস: ৩০৪৭৯, শুয়াবুল ঈমান, হাদীস: ৬২০৪)

হাদিসটির সনদ সম্পর্কে কিছু কথা: হাদীসটির সনদ সহীহ৷ এজন্যই ইমাম ইবনে হিব্বান হাদীসটিকে ‘কিতাবুস সহীহ’-এর মধ্যে বর্ণনা করেছেন৷ যদি শবে-বরাতের ফজিলত সম্বন্ধে দ্বিতীয় কোনো হাদিস না থাকতো, তবে এই একটি হাদিসই এ রাতের ফজিলত সাব্যস্ত হওয়ার জন্য এবং এ রাতে মাগফেরাতের উপযোগী নেক আমলের গুরুত্ব প্রমাণিত হওয়ার জন্য যথেষ্ট হতো৷ অথচ হাদীসের কিতাবসমূহে নির্ভরযোগ্য সনদে এ বিষয়ক আরও একাধিক হাদীস বর্ণিত হয়েছে৷

ইমাম মুনযিরী, ইবনে রযব, নূরুদ্দীন হাইসামী, কাসতালানী, যুরকানী এবং অন্যান্য হাদিস বিশারদগণ এই হাদীসকে আমলযোগ্য বলেছেন৷ (আরও দেখুন- কিতাবুস্ সুন্নাহ্, ১/২২৪, আত্ তারগীব ওয়াত্ তারহীব, ২/২৪১, ৪/২৩৮, মাজমাউয যাওয়ায়েদ, ৮/৬৫, শরহুল মাওয়াহিবিল লাদুন্নিয়্যা, ১০/৫৬১)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here