সতর্ক অবস্থানে ক্রিকেটাররা

0
86

ভয়াবহ এক দুর্যোগময় সময় কাটাচ্ছে বিশ্ব। করোনা ভাইরাস এখন বৈশ্বিক মহামারিতে পরিণত হয়েছে। বিশ্ব জুড়ে প্রতিনিয়তই বাড়ছে এ ভাইরাসের আক্রান্তের সংখ্যা। এ অবস্থায় যে যেখান থেকে পারছেন সহায়তায় এগিয়ে আসছেন। দূর থেকে হলেও, করোনা ভাইরাস নিয়ে সচেতন করে সতর্ক করছেন অনেকে। সেই তালিকায় আছেন বাংলাদেশের ক্রিকেটাররাও।

সদ্য সাবেক হওয়া ওয়ানডে অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নিজের অফিশিয়াল পেইজে করোনা ভাইরাস নিয়ে সচেতনতার বার্তা দেন।

তিনি লিখেছেন, ‘নিজের পরিচিত কিংবা দূরের কাউকে জড়িয়ে ধরা যাবে না! নতুন করোনা ভাইরাস রোগ সম্পর্কে কথা বলুন (কোভিড-১৯)। রোগের সঙ্গে এর ভৌগোলিক অবস্থান বা জাতিসত্তা সংযুক্ত করা যাবে না। মনে রাখবেন, ভাইরাসটি নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠী, জাতি বা বর্ণের মানুষকে আক্রান্ত করতে পারে না। কোভিড-১৯ আছে এমন লোক সম্পর্কে, কোভিড-১৯ এর জন্য চিকিত্সা গ্রহণ করছে এমন লোক সম্পর্কে, কোভিড-১৯ থেকে সুস্থতা লাভ করেছেন এমন লোক সম্পর্কে বা কোভিড-১৯ সংক্রমণের পরে মারা যাওয়া লোক সম্পর্কে কথা বলা যাবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘এ রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের কোভিড-১৯ এর ‘শিকার’ হিসেবে উল্লেখ করা যাবে না। কোভিড-১৯ ব্যক্তিদের সংক্রমণের বিষয়ে কথা বলুন। কোভিড-১৯ আক্রান্ত লোকেরা ‘অন্যকে সংক্রামিত করে’ বা ‘‘ভাইরাস ছড়িয়ে দেওয়া—এসব বলা যাবে না কারণ এটি ইচ্ছাকৃত সংক্রমণ ছড়ানো বোঝায় এবং দোষ চাপিয়ে দেয়। বৈজ্ঞানিক তথ্য এবং সর্বশেষ অফিশিয়াল স্বাস্থ্য পরামর্শের ওপর ভিত্তি করে কোভিড-১৯ এর ঝুঁকি সম্পর্কে সঠিকভাবে কথা বলুন। অসমর্থিত গুজবের পুনরাবৃত্তি এবং আতঙ্ক ছড়ায় এমন ভাষা ব্যবহার যেমন ‘প্লেগ’, ‘অ্যাপোক্যালিপস’ ইত্যাদি করা যাবে না।’’

মাশরাফি জোর দিয়েছেন স্বাস্থ্য সুরক্ষায়। তিনি বলেন, ‘ইতিবাচকভাবে কথা বলুন এবং হাত ধোয়া সম্পর্কিত টিপস অনুসরণ করে কার্যকর প্রতিরোধ ব্যবস্থার ওপর জোর দিন। বেশির ভাগ মানুষের ক্ষেত্রে এটি এমন একটি রোগ যা তারা কাটিয়ে উঠতে পারে। নিজেকে, প্রিয়জনদের এবং সবচেয়ে দুর্বলকে সুরক্ষিত রাখতে আমরা সকলেই নিতে পারি এমন সহজ পদক্ষেপ।’

আরেক পেসার রুবেল হোসেনও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছিলেন সরব। তিনি করোনার প্রভাবে দ্রব্যমূল্যের দাম বেড়ে যাওয়া নিয়ে লিখেছেন, ‘লোভী ও নির্মম জাতি আমরা। চীনে এতো বড়ো একটা বিপর্যয় গেল মাস্কের দাম কমিয়ে দিল উত্পাদনকারী প্রতিষ্ঠান, কারণ তারা মানুষ। আর করোনার নাম শুনেই পাঁচ টাকার মাস্ক ৫০ টাকা, আর ২০ টাকার মাস্ক ১০০-১৫০ টাকা! কারণ আমরা লোভী অমানুষ! মাস্ক, স্যানিটাইজার এবং মুদি বাজারের সব জিনিসপত্রের দাম বেড়েই চলেছে। ধিক্কার জানাই ঐ সব লোভী মুনাফাখোর ব্যবসায়ীকে, যারা কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম বাড়াচ্ছে। তারাই আসলে দেশের করোনা ভাইরাস।’

উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান ও সাবেক অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম এক ভিডিও বার্তায় বলেন, ‘করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে দুটি বিষয় খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এক, ব্যক্তিগত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা। হাত ঘন ঘন সাবান-পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে। দুই, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা। অর্থাত্ খুব জরুরি না হলে ভিড় বা জনসমাগম এড়িয়ে চলা। বিদেশ থেকে আসা প্রবাসী ভাই-বোনদের প্রতি একটি অনুরোধ। আপনারা নিজের পরিবার এবং দেশের সবার সুস্থতার জন্য কমপক্ষে ১৪ দিনের হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকুন। মনে রাখবেন আপনি শুধু আপনার জন্য নয়, আপনার সন্তান, পরিবার, আত্মীয়স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশী এবং দেশের সব মানুষের জন্য নিজেকে সচেতন রাখবেন। আর দয়া করে এখন কেউ এক সঙ্গে বাইরে ঘুরতে বের হবেন না।’

তিনি আরো বলেন, ‘এই সময় বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ায় যে কোনো তথ্যের বিষয়ে সতর্ক থাকবেন। অনেকেই বিভিন্নভাবে ভুল অথবা মিথ্যা তথ্য ছড়াতে পারে। গুজবে কান দেবেন না। আমি নিজের এবং পরিবারের সচেতনতার জন্য এখন বাসায় অবস্থান করছি। খুব জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের হচ্ছি না। যতটুকু সম্ভব সচেতন থাকার চেষ্টা করছি। নিজে সুস্থ থাকুন এবং অন্যকেও সুস্থ রাখার সহযোগিতা করুন। মনে রাখবেন আমার হাতেই আমার সুরক্ষা।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here