সমকামিতার রায়ে ভারতের ধর্মীয় নেতাদের উদ্বেগ

0
212

মকামিতাকে বৈধতা দিয়ে ভারতের সুপ্রিম কোর্টের রায়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দেশটির হিন্দুত্ববাদী সংগঠন ও মুসলিম নেতারা। বৃহস্পতিবার রায়টি ঘোষণার পরই বিভিন্ন ধর্মীয় সংগঠনের পক্ষ থেকে এ রায়ের সমালোচনা করা হয়। এর মাঝে ভারতের শীর্ষ ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় দারুল উলূম দেওবন্দ ও হিন্দুত্ববাদী সংগঠন আরএসএস’ও রয়েছে। খবর: উর্দু দৈনিক সাহাফাত

আরএসএসের শীর্ষনেতারা এ রায়ের সমালোচনা করে বলেন, ‘সুপ্রিম কোর্ট রায় যাই দিক না কেন সমকামিতা কখনও সমাজের অংশ হতে পারে না।’

আরএসএসের একজন শীর্ষ নেতা দেশটির গণমাধ্যমকে বলেন, যারা পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করেন তাদের সঙ্গেও আইন থাকে না। কিন্তু সামাজিক স্বীকৃতি তাতে কখনোই থাকে না। সে রকমই সমকামিতা সমাজের মূল ¯্রােতের অংশ হতে পারে না।

সমাকামিতা অপরাধ না হলেও এ স্বাভাবিকও নয় বলে মন্তব্য করেছেন হিন্দুত্ববাদী সংগঠন সর্বভারতীয়র একজন নেতা। তিনি বলেন, তবে আমরা সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে সহমত।

ভারতের দারুল উলূম দেওবন্দ মাদরাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা নুমান কাসেমী এ রায়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, সুপ্রিম কোর্টের এ রায় প্রতিটি ধর্ম ও সমাজের জন্য লজ্জাজনক। প্রত্যেক ধর্ম সমকামিতাকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। চারিত্রিক ও মানসিকভাবেও এ কাজ অপছন্দনীয় ও অগ্রহণযোগ্য। ইসলাম এমন কাজকে কঠোরতার সঙ্গেই হারাম ঘোষণা করেছে। এ রায় কখনোই গ্রহণীয় হতে পারে না।

একসময় বিভিন্ন দেশে সমকামিতাকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়েছিল। ১৮৬১ সাল থেকে ব্রিটিশদের তৈরি ভারতীয় দ-বিধি (আইপিসি) অনুসারে সমকামিতাকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। ভারতীয় দ-বিধির ৩৭৭ ধারা অনুসারে সমকাম একটি দ-নীয় অপরাধ বলেই চিহ্নিত হয়েছিল। ২০০৯ সালে দিল্লি হাইকোর্ট একটি রায়ে সমকামিতাকে বৈধতা দিয়েছিল। আর ২০১৩ সালে দিল্লি হাইকোর্টের রায়কে খারিজ করে সুপ্রিম কোট। এরপর ২০১৮ সালের জানুয়ারি মাসে দীপক মিশ্রসহ তিন সদস্যের বেঞ্চ এই রায়কে পুনর্বিবেচনা করার কথা জানান। এরপরই বৃহস্পতিবার সমকামিতা অপরাধ নয় বলে ঘোষণা করেছে শীর্ষ আদালত।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here