সমাধান হল পদ্মা সেতুর নকশা জটিলতার

0
183

অবশেষে শতভাগ সমাধান হয়েছে পদ্মা সেতুর নকশা জটিলতার। সেতুর ২২টি পিলারের মধ্যে ২০টির সমাধান আগে হলেও আটকে ছিলো ৬ ও ৭ নম্বর পিলারের নকশা। আজ এ দুটি পিলারের সংশোধিত নকশাও চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে সেতু কর্তৃপক্ষ। এর ফলে কাজে গতি আসার ব্যাপারে আশাবাদী প্রকল্প পরিচালক।

৪২টি পিলার নিয়ে নির্মিত হচ্ছে দেশের কোটি মানুষের স্বপ্নে লালিত পদ্মা সেতু। সেতু নির্মাণের আনুষ্ঠানিক কাজের সূচনা হয়েছিলো মাওয়া প্রান্তে ৬ নম্বর পিলার দিয়ে। তবে সেখানেই সৃষ্টি হয় ভয়াবহ জটিলতা। এ অংশে নদীর তলদেশের মাটির গঠনের কারণে কিছুতেই বসানো যাচ্ছিলো না পিলার। প্রায় ১২৪ মিটার দৈর্ঘ্যের ৬টি খুঁটি দিয়ে তৈরি করা হচ্ছিলো এক একটি পিলার।

ওই জটিলতার সমাধান না হওয়ায় দ্রুত কাজ সরিয়ে নেয়া হয় জাজিরা প্রান্তে। সেখানে নদীর তলদেশের মাটিতে সমস্যা না থাকায় একের পর এক বসানো হয় পিলার ও স্প্যান। একই সঙ্গে কাজ চলে মাওয়া প্রান্তের নকশা জটিলতা সমাধানের। দেশি বিদেশি ৬টি প্রতিষ্ঠান প্রায় ১ বছর ধরে এ কাজ চালিয়ে শুরুতে এক একটি পিলারে ৬টির জায়গায় ৭টি করে খুঁটি বসিয়ে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করে। এ পদ্ধতিতে কয়েকটি পিলারে কাজ হলেও কিছু কিছু পিলারে যোগ করা হয় বিশ্বে প্রথমবারের মতো স্টিলের পাইলে ট্যাম প্রযুক্তি। এভাবেই চলে সমাধানের চেষ্টা।

পদ্মা সেতু প্রকল্প পরিচালক শফিকুল ইসলাম বলেন, ডিজাইনের সময়ে পাওয়া সব সয়েল তখন টেস্ট করা হয়নি। পরে যখন সব টেস্ট করা হল, তখন দেখা গেল প্রায় ২২টা পিয়ারে ভিন্ন রকমের সয়েল পাচ্ছি। এটা করতে গিয়ে কিছু টেস্ট করতে হল, যাতে সময় লাগলো অনেক বেশি। প্রায় বছরখানেক সময় লাগলো।

তবে এতসব চেষ্টায়ও কাজ হয়নি ৬ ও ৭ নম্বর পিলারে। সেখানে নানা কৌশল ব্যর্থ হলেও হাল ছাড়েননি কর্তৃপক্ষ। অবশেষে সংশোধিত নকশায় চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়া হলো মঙ্গলবার। এখন বাকী কাজ দ্রুত শেষ হবে বলে আশাবাদী প্রকল্প পরিচালক।

শফিকুল ইসলাম আরো বলেন, ‘পরামর্শদাতাদের সঙ্গে আমরা দেখা করেছি, তাদেরকে আমরা বলেছি, তোমরা গবেষণা করে দেখ। কীভাবে কী করা যায়।’

মাওয়া প্রান্তে নকশার সমাধান হলেও এ প্রান্তে স্প্যান দেখতে হলে অপেক্ষা করতে হবে আরও বেশ কয়েক মাস। কারণ ধারাবাহিকতা রাখতে এ মাসের শেষ সপ্তাহে সেতুর ৬ষ্ঠ স্প্যানটি বসানো হবে জাজিরা প্রান্তে আগের ৫টির সঙ্গেই। সূত্র: সময়টিভি

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here