সাংবাদিক মিঠু হত্যা মামলায় তিন ছিনতাইকারীর মৃত্যুদণ্ডাদেশ বহাল

0
286

এটিএন বাংলার সিনিয়র ক্যামেরাপারসন শফিকুল ইসলাম মিঠু হত্যা মামলায় তিন ছিনতাইকারীকে বিচারিক আদালতের দেওয়া মৃত্যুদণ্ডাদেশ বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট। এই আসামিরা হলো সুজন, রাজু ও রতন। আসামিদের করা আপিল ও ডেথ রেফান্সের শুনানি শেষে বুধবার (৩১ অক্টোবর) বিচারপতি ভবানী প্রসাদ সিংহ ও বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রায় ঘোষণা করেন।

আদালতে আসামিদের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট আনোয়ারুল ইসলাম ও জাহাঙ্গীর আলম। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি আটর্নি জেনারেল বশির আহমেদ।

এরআগে, ২০১৩ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি এটিএন বাংলার সিনিয়র ক্যামেরাপারসন শফিকুল ইসলাম মিঠু হত্যা মামলায় তিন ছিনতাইকারীর ফাঁসির দণ্ডাদেশ দেন  ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ ড. মো. আক্তারুজ্জামান। পাশাপাশি আসামিদের ২০ হাজার টাকা করে জরিমানাও করা হয়। পরে ওই রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল ও মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের জন্য ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে আসে। তবে এ মামলার অন্য আসামি রাহাত খান মামলার তদন্তকালে পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে মারা যান।

আসামি সুজনের বাড়ি শরীয়তপুর জেলার গোসাইরহাট থানার বুককাঠি গ্রামে। তার বাবার নাম পিয়ারু মিয়া। আসামি রাজুর বাড়ি ঢাকার সাভার থানার চাপাইন গ্রামে। তার বাবার নাম কচি মিয়া। আর আসামি রতনের বাড়ি টাঙ্গাইলের মধুপুরের সান্দারকুলে। তার বাবার নাম জাহাঙ্গীর মিয়া।

প্রসঙ্গত, ২০১০ সালের ৮ মে রাত সাড়ে ১০টার পর সাংবাদিক মিঠু তার উত্তরার বাসায় যাওয়ার জন্য ফার্মগেট পুলিশ বক্সের সামনে যানবাহনের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। এ সময় আসামিরা পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী একটি প্রাইভেটকারে করে মিঠুকে এয়ারপোর্টের রাস্তায় নামিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব দেন। মিঠু ওই প্রাইভেটকারে উঠলে তারা সাংবাদিক মিঠুর সব কিছু ছিনতাই করে নেন। পরে সাংবাদিক পরিচয় জানতে পেরে তারা গাড়ির ভেতরে সাংবাদিক মিঠুকে গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে লাশ তুরাগ থানা এলাকার রোস্তমপুরে বেড়িবাঁধ সড়কের পাশ থেকে ফেলে দেন। পরে ওই ঘটনায় নিহতের ভাই রহমত উল ইসলাম তুরাগ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ঘটনাটি তদন্ত করে ডিবির এসআই আবুল হাই সরকার ২০১০ সালের ৩১ অক্টোবর আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন।

এরপর ২০১২ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করা হয়। এ মামলার ৩৬ জন সাক্ষীর মধ্যে ২০ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করেন আদালত। গ্রেফতারের পর আসামিরা হত্যার দায় স্বীকার করে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে জবানবন্দি দেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here