সাগরে ইলিশ মিললেও চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনায় আকাল

0
169

হ্যাপী আক্তার : সাগরে মিললেও চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনায় কাঙ্ক্ষিত ইলিশের দেখা পাচ্ছেন না জেলেরা। ফলে চলতি বর্ষার শেষ সময় এসে ইলিশের আকালে হতাশ তারা। এতে গত রমজানের ঈদের মতো এই ঈদেও তাদের মাঝে নেই উৎসব কিংবা আনন্দের হাসি। আর নদীতে ইলিশের সংকট নিয়ে মৎস্যবিজ্ঞানীরা নানা যুক্তি তুলে ধরেছেন।

চাঁদপুরে উত্তরে ষাটনল থেকে দক্ষিণে চরভৈরবী। বিশাল এই পদ্মা-মেঘনায় জেলেদের জালে ধরা দিচ্ছে না কাঙ্ক্ষিত রূপালি ইলিশ। তবে, সামান্য কিছু পেলেও তা খরচের তুলনায় অপ্রতুল। ফলে এই জনপদের জেলেদের মাঝে এখন হতাশা ভর করেছে। সঙ্গে ঈদের আনন্দও নেই তাদের মাঝে। তবে দক্ষিণের সাগরে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ ধরা পড়ছে। আর সেই ইলিশ চাঁদপুরের প্রধান আড়তে সরবরাহ হচ্ছে। অথচ নদীপাড়ের মাছের আড়তগুলো এখন অনেকটাই ফাঁকা। এই নিয়ে জেলে এবং আড়তদারদের মধ্যে হতাশা বিরাজ করছে।

নদী পাড়ের জেলেরা বলছে,  অন্য বছরের তুলনায় এবার নদীতে ইলিশ নেই বলেই চলে।  ‘আগে গুলটি জালে খেপ দিলে অনেক ইলিশ মাছ আসতো। বর্তমানে ২-১ টা আসে। এমন অবস্থায় আমাদের জীবিকা রক্ষা করতে বহু কষ্ট হয়। এবার ঈদে তেমন একটা আনন্দ হবে না। আমরা এবার ঈদ করবো, ওই পরিমাণ ক্ষমতা নেই।

এক আড়তদার বলেন, ‘সারাদিনে আমাদের আড়তে দুইটা মাছও বিক্রি করতে পারিনি।’

এদিকে, জেলেদের হতাশ না হয়ে আরেকটু অপেক্ষা জন্য বলেছেন, ইলিশ গবেষকরা। পাশাপাশি নদ-নদীতে ইলিশের আকালের ব্যাপারে যুক্তি তুলে ধরছেন তারা।

চাঁদপুর সৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের মূ্খ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মাসুদ হোসেন খান বলেছেন, নদীতে যে হারে পরিবেশ দুষণ হচ্ছে, তার জন্য সকলকেই সচেতন হতে হবে না হলে এক সময় নদীতে ইলিশের মাত্রা আরো কমে যাবে।

ইলিশ গবেষণা ও জোরদারকরনের প্রকল্প পরিচালক  আব্দুর বাশার বলেছেন, নার্সারি পর্যায়ে কি ধরনের  ইলিশ ধরা পড়ছে, সে বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করা হচ্ছে।

চাঁদপুর সৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের ইলিশ গবেষক ড. আনিসুর রহমান বলেছেন, গভীর সাগর থেকে যেহেতু ইলিশ আসতে শুরু করেছে। মেঘনা ও মোহনা এসব অঞ্চলেও ইলিশ চলে আসবে। তাই জেলেদের হতাশ হবার কোনো কারণ নেই।

চাঁদপুরে পদ্মা-মেঘনায় ইলিশ নির্ভর জেলেদের সংখ্যা প্রায় ৬০ হাজার। তাদের পরিবারের সংখ্যা প্রায় আড়াইলাখ। ইলিশ ব্যবসায় জড়িত ২ হাজার ব্যবসায়ী। সূত্র : সময় টেলিভিশন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here