সানার এখন অন্য রকম লড়াই

0
227

সুল নগরী এক বছর আগেই ইসলামিক স্টেটের (আইএস) কবল থেকে মুক্ত হয়েছে। কিন্তু তাদের চালানো অত্যাচার উৎপীড়নের শিকার হওয়া পরিবারগুলোকে এখনো প্রবলভাবে তার জের টানতে হচ্ছে। সানা ইব্রাহীম তেমনই একজন নারী। বয়স তাঁর ৬১ বছর। কিন্তু তাঁকে ২২ নাতি-নাতনির মুখের আহার জোগাড়ের জন্য প্রতিদিনই কঠোর সংগ্রাম চালিয়ে যেতে হচ্ছে।

শহরটি জিহাদিদের দখলে থাকাকালে এই নারী তাঁর পরিবারের পাঁচ সদস্যকে হারিয়েছেন। কিন্তু কখনোই হার মানেননি। পরিস্থিতির সঙ্গে লড়াই করে যাচ্ছেন।

কালো লম্বা পোশাক পরা এই নারীকে ঘিরে রয়েছে ছোট ছোট শিশু। মেয়েদের চুল সুন্দর বাঁধা আর ছেলেরা রঙিন টিশার্ট পরা। সবচে ছোটটির বয়স মাত্র দুই বছর। স্বামী মোয়াফাক হামিদের (৭১) প্রতিও তাঁকে লক্ষ রাখতে হয়। এর বাইরে বাড়ির ৩২ সদস্যের সবার জন্য আহার জোগাড় তাঁর জন্য এক কঠিন চ্যালেঞ্জ। মসুল তিন বছর ধরে জিহাদিদের দখলে ছিল। এ সময় তাঁর দুই ছেলে ফারেস ও গাজওয়ান ও মেয়ের জামাই মাসুদকে অপহরণ করে আইএস। তাঁরা সবাই একটি নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য। আইএস এই বাহিনীকে বিরোধী মনে করে।

সানা বলেন, আইএস সম্ভবত তাঁর প্রিয়জনদের হত্যা করেছে। তিনি তাঁদের লাশ পাবার অপেক্ষায় আছেন। আইএসের দখলদারির সময় তারা কয়েক শ সরকারি সৈন্য ও পুলিশ সদস্যকে ধরে নিয়ে হত্যা করেছে। এরপর তাঁদের লাশ নগরীর উত্তরাঞ্চলে গণকবরে চাপা দিয়েছে। ২০১৬ সালে ইরাকি বাহিনী মসুল পুনরুদ্ধারে কয়েক মাস ধরে জিহাদিদের সঙ্গে লড়াই করে। এরপর ২০১৭ সালের জুলাই মাসে সরকারি বাহিনী নগরী থেকে জিহাদিদের উৎখাতে সমর্থ হয়। সানার অপর দুই সন্তান যুদ্ধে নিহত হয়েছেন। তাঁর ২০ বছর বয়সী ছেলে ইউসেফ ও তাঁর মেয়ে নূর (১৮) যুদ্ধে নিহত হয়েছেন। ওল্ড সিটি থেকে পালানোর সময় তাঁরা প্রাণ হারান।

মসুলের ঐতিহাসিক পশ্চিমাঞ্চলীয় জেলা যুদ্ধে প্রায় ধ্বংস হয়ে গেছে।

সানার বাড়ি ধ্বংস হয়ে যাওয়ার পর তাঁকে ও তাঁর পরিবারকে টিকে থাকার জন্য অন্যত্র চলে যেতে হয়েছে। তাঁরা তখন নগরীর পূর্ব পাশে চলে আসেন। মাসিক পাঁচ লাখ দিনার ভাড়ায় তারা ১৫০ বর্গমিটারের একটি বাসায় ওঠেন।
বেঁচে থাকা সানার অপর চার সন্তান বেকার। তাই এই বাসা ভাড়া জোগাড় করতে সানাকে যথেষ্ট বেগ পেতে হয়। তিনি বলেন, ‘আমরা মসুলে দুর্গতদের জন্য সহায়তা দানকারীদের প্রতি কৃতজ্ঞ। এই দাতাদের সাহায্য ছাড়া আমাদের ক্ষুধা ও অসুখে মারা যেতে হতো।’

এমন একজন দাতা এএফপি’র প্রতিনিধির নজরে পড়েন। তিনি একটি দাতব্য সংস্থায় খাবার ও পোশাক ভর্তি ব্যাগ নিয়ে আসেন।

এক সরকারি কর্মকর্তা বলেন, ওই নারী তাঁর ছেলের বেতনের একটি অংশ সানার পরিবারের সদস্যদের সহায়তায় দান করেন। ছোট রান্নাঘরে সানা ও তাঁর ছোট ছেলের স্ত্রী শিশুদের জন্য রান্না করছিলেন। ব্যস্ততার মধ্যেও সানা উজ্জ্বল ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখেন। তিনি তাঁর নাতি–নাতনিদের উচ্চশিক্ষিত হয়ে ভালো চাকরি পাওয়ার আশা করেন।

– প্রথম আলো

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here