সুন্নত তরিকায় বয়ান করার পদ্ধতি

0
444

জাবির ইবনু আবদুল্লাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন ভাষণ দিতেন তখন তাঁর চোখ দুটি লাল হয়ে যেতো, কন্ঠস্বর জোরালো হতো, তাঁর ক্রোধ বৃদ্ধি পেতো, যেন তিনি কোন সেনাবাহিনীকে সতর্ক করছেন। [সহীহ মুসলিম, হাদীস নং-৮৬৭, সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং-৪৫] হাজার ইবন হাজার (রহ.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন. একদা আমরা ইরবায ইবন সারিয়া (রা.) এর নিকট গমন করি, যার শানে এ আয়াত নাযিল হয়. তাদের জন্য কোন অসুবিধা নেই, যারা আপনার নিকট এ জন্য আসে যে, আপনি তাদের জন্য বাহনের ব্যবস্থা করবেন। আপনি বলেন. আমি তো তোমাদের জন্য কোন বাহন পাই না।

রাবী বলেন, আমরা তাঁর কাছে উপস্থিত হয়ে তাঁকে সালাম করি এবং বলি. আমরা আপনাকে দেখার জন্য, আপনার খিদ্মতের জন্য এবং আপনার কাছ থেকে কিছু সংগ্রহের জন্য এসেছি। তখন তিনি বলেন. একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের সঙ্গে সালাত আদায়ের পর, আমাদের দিকে ফিরে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভাষণ দেন, যাতে আমাদের চোখ অশ্রুশিক্ত ও ভারাক্রান্ত হয় এবং অন্তর ভীত-সন্ত্রস্থ হয়। আমাদের মধ্যে একজন বলেন. ইয়া রাসূলাল্লাহ! মনে হচ্ছে এ আপনার বিদায়ী ভাষণ, কাজেই আপনি আমাদের আরো কিছু অছীয়ত করুন। [সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং-৪৬০৭, ইফাবা-৪৫৫২, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং-১৭১৪৫, তিরমিজী, হাদীস নং-২৬৭৬]

উপরোক্ত দু’টি হাদীসে আমরা দু’টি বয়ানের চিত্র দেখতে পাই। সহীহ মুসলিমের হাদীস দ্বারা বুঝতে পারি যে, বয়ানের সময় উচু আওয়াজ করা এটি নববী বয়ান পদ্ধতির অন্তর্ভূক্ত। দ্বিতীয় হাদীসটিতে দেখতে পাই যে, এমন হৃদয়কাড়া পদ্ধতিতে বয়ান করা যে, যাতে করে মানুষের চোখ অশ্রুসিক্ত হয়, দিল নরম হয়, আল্লাহর ভয়ে কম্পমান হয়। এর দ্বারা বুঝা যায় যে, শুধু জোরে আওয়াজ নয়, বরং নরম সুরে বয়ান করাও সুন্নতের অন্তর্ভূক্ত।

উপমহাদেশের প্রসিদ্ধ মুহাদ্দিস আল্লামা শাব্বির আহমাদ উসমানী রহ.  তার অনবদ্য শরাহ গ্রন্থ “ফাতহুল মুলহিম” এ বয়ানের তিনটি পদ্ধতি সালাফ থেকে নকল করেছেন। যথা-১নরম, কোমল এবং সুরেলা কণ্ঠে আল্লাহর নিয়ামত বর্ণনা করা। ভীতিকর শব্দ করে নয়। এর দ্বারা মানুষের অন্তর নরম হয় এবং বক্তার জন্যও তা আরামদায়ক হয়। ২উত্থান পতন ব্যতীত স্বাভাবিক স্বরে বয়ান করা। ৩জ্বালাময়ী শব্দে, তীব্র আওয়াজে বয়ান করা। [ফাতহুল মুলহিম-৫/৩২৬-৩২৭]

উপরোক্ত তিন পদ্ধতিতে বয়ান করাই সালাফে সালেহীন থেকে প্রমাণিত।সুতরাং তীব্র আওয়াজে বয়ান করাও যেমন সুন্নাহ  সম্মত। তেমনি নরম সুরে বক্তৃতা প্রদান করাও সুন্নাহ সম্মত।এক পদ্ধতিকে প্রাধান্য দিতে গিয়ে অন্য পদ্ধতিকে খেলাফে সুন্নাত বলার কোন সুযোগ নেই।তবে উপস্থিত শ্রোতার দিকে লক্ষ্য করে বয়ান পদ্ধতির ভিন্নতা গ্রহণ করাই যুক্তি সঙ্গত। প্রতিবাদী ও জাগরণী বয়ান তীব্র আওয়াজে হওয়াই সুন্নাহ সম্মত। আর দিল নরম করার উদ্দেশ্যে, মানুষকে আখেরাতমুখী করার মানসে করা বয়ান কোমল শব্দে হওয়াই বাঞ্ছনীয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here