সেনাবাহিনী নামালে সমস্যা কোথায়? : আসিফ নজরুল (ভিডিও)

0
234

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনবিভাগের অধ্যাপক আসিফ নজরুল বলেছেন, সত্যিই যদি সুষ্ঠু নির্বাচন চান, বিরোধীদলকে সমানভাবে ক্যাম্পেইন করতে দেন । পুলিশ বা জেলা প্রশাসনকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে দেন। ইলেকশন কমিশনকে স্বাধীনভাবে কাজ করার কনফিডেন্স দেন। কিছুই যদি না পারেন, তাহলে বাংলাদেশে একটি মাত্র প্রতিষ্ঠান আছে যেখানে পুরোপুরি দলীয়করণ করা সম্ভব হয়নি, সেটা হচ্ছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। কেন সেই সেনাবাহিনীকে নামাচ্ছেন না? বুধবার চ্যানেল আই তৃতীয় মাত্রায় তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ মনে করে, তারা অভূতপূর্ব উন্নয়ন করেছে। তারা সারা পৃথিবীতে তাক লাগিয়ে দিয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা শুধুমাত্র তারাই লালন করে। এ ব্যাপারে তারা নিজেরা খুবই কনফিডেন্ট। এতই যখন কনফিডেন্ট, আপনি একটি ফেয়ার ইলেকশন করতে চাচ্ছেন না কেন? আওয়ামী লীগের হামলা আর পুলিশের ধরপাকড়ে বিরোধীদল তো মাঠেই নামতে পারছে না।

আসিফ নজরুল বলেন, আর্মি কি বিএনপি বা ঐক্যফ্রন্টের পক্ষে কাজ করবে বলে মনে করেন? আমি ইলেকশনকালীন সময়ে ম্যাজিস্ট্রেট ছিলাম। আমি জানি, আর্মি ব্যারেকে থাকে, স যখন এলাকায় যায়, সে জানে না, কে বিএনপি বা কে আওয়ামী লীগ। সে শুধু দেখে কে ককটেল ফোটালো বা কে গণ্ডগোলটা করলো। ছাত্রলীগ বা যুবলীগ হলে তাকে ধরা যাবে না এটা সে জানেই না। পুলিশ একটি থানাতে দুই তিন বছর ধরে আছে বলে যুবলীগ বা আওয়ামী লীগ তাকে চেনে, কিন্তু আর্মিকে সে চেনে না।

আসিফ নজরুল আরো বলেন, উপরের পর্যায়ে দলীয়করণ কিছুটা করা গেলেও আর্মি কাঠামো এমন যে, সেখানে সম্পূর্ণ দলীয়করণ করা সম্ভব না। যে আর্মি সারাবিশ্বে শান্তিরক্ষার কাজ করে। যে আর্মির উচ্চ প্রশাসন এই সরকারের আমলেই গত ১০ বছরে কাজ করেছে, আর্মি চিফ কে হবে বা ডিজিএফআই চিফ কে হবে, সরকাই তো এপয়েন্টমেন্ট দেয়। তারপরও আর্মিতে এখন পর্যন্ত রাজনীতিকরণ করা সম্ভব হয়নি। কারণ আর্মির শ্রেণিচরিত্র অন্যরকম। আপনি যদি কিছুই না পারেন, আর্মি নামান। যখন আপনি সিচুয়েশন কন্ট্রোল করতে পারছেন না, আর্মি নামাতে সমস্যা কোথায়?

তিনি বলেন, বিএনপির পক্ষে যে-ই নামছে তাকেই এ্যারেস্ট করছে পুলিশ। গায়েবী মামলা, মিথ্যা মামলাগুলো করা হয়েছে যাতে বিরোধীদল জড়ো না হতে পারে। গায়েবী মামলা বলে একটি বিষয় রাখা হয়েছে যাতে যাকেই ধরবে, তাকেই আসামি করা যায়। বিএনপির একজন নেতার বিরুদ্ধে দুই শতাধিক মামলাও আছে। পুলিশের কাছে কে কোন জায়গায় আছে সব তথ্য হালনাগাদ করা আছে। গত এক মাসে প্রায় এক হাজার লোককে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে পুলিশ খোঁজ নিচ্ছে। তাহলে সে কীভাবে মানুষ জড়ো করবে, কীভাবে নেতাকর্মীদের সংগঠিত করবে?

Episode: 5616, Date: 20.12.2018 part 02Guests: Dr. Mijanur Rahman, Vice Chancellor, Jagannath UniversityDr. Asif Nazrul, Professor, Department of Law, University of Dhaka

Posted by Tritiyo Matra on Wednesday, December 19, 2018

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here