স্থানীয়দের নিয়ে পাহাড়ের দ্বন্দ্ব-সংঘাত বন্ধের প্রয়াস চালাতে হবে’

0
176

স্থানীয়দের নিয়ে পাহাড়ের দ্বন্দ্ব-সংঘাত বন্ধের প্রয়াস চালাতে হবে বলে মনে করেন নিরাপত্তা বিশ্লেষক এয়ার কমোডর (অব.) ইসফাক ইলাহি চৌধুরী। এ প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, পাহাড়কে শান্ত রাখতে হলে পার্বত্য শান্তিচুক্তি দ্রুত বাস্তবায়ন করা উচিত। স্থানীয় নেতৃত্ব, জনগণকে এই প্রক্রিয়ার মধ্যে রাখতে হবে। ঢাকা থেকে কোনো সমাধান চাপিয়ে দেওয়া ঠিক হবে না। কোনো অসন্তোষ থাকলে মিটানোর আশু উদ্যোগই সবার কাঙ্খিত।

তিনি আরও বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের শান্তিচুক্তি হয়েছে প্রায় একুশ-বাইশ বছর হলো। তবে এর চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ শান্তিচুক্তি এখনো পুরোপুরি বাস্তাবায়ন হয়নি। ভূমি ব্যবস্থা এখনো বাস্তবায়ন হয়নি, স্বায়ত্বশাসনের ব্যাপারেও কি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে? এ নিয়ে তো পাহাড়ে অসন্তোষ রয়েছে। সামনে যেহেতু জাতীয় সংসদ নির্বাচন, এ নিয়েও দ্বন্দ্ব, বিভিন্ন গ্রুপিং তৈরি হতে পারে। সেই দ্বন্দ্ব এখন সংঘাতে রূপ নিচ্ছে। স্থানীয়দের নিয়ে খুব দ্রুত শান্তিপূর্ণ একটা সমাধানে আসা উচিত্

এক প্রশ্নের জবাবে এয়ার কমোডর (অব.) ইসফাক ইলাহি চৌধুরী বলেন, সংঘাতের অস্ত্র পায় কোথায়, কে বা কারা দেয় এই অস্ত্র, কোথা থেকে আসছে অস্ত্রগুলো? অস্ত্র সংগ্রহ ও অস্ত্রবাজির সঙ্গে জড়িতদের যদি আমরা আইনের আওতায় আনতে না পারি তাহলে তো এসব এ ধরনের দ্বন্দ্ব-সংঘাত-সংঘর্ষ বাড়তেই থাকবে। এই সমস্যা সর্বদলীয়ভাবে মোকাবিলা করতে হবে। কেবল পুলিশ বা নিরাপত্তা বাহিনীর উপরই নির্ভর করে না সমস্যার সমাধান। যদিও তাদেরকে নিরাপত্তা বজায় রাখার জন্য কাজ করে যেতে হবে। সব সময় তৎপর থাকতে হবে। তবে সমস্যা সমাধানে স্থানীয় নেতৃত্ব, বিভিন্ন যেসব গোষ্ঠী বা সংগঠন রয়েছে তাদের সঙ্গে বসে সমস্যার সমাধান করা উচিত।

তিনি বলেন, আমরা অনেক উন্নয়নমূলক কাজ করছি। কিন্তু সেই উন্নয়নে স্থানীয় জনগণের অংশীদারিত্ব আছে কী, থাকলে কতটুকু, সেটাও আমাদের দেখতে হবে। ওখানে পর্যটন সুবিধা বাড়ছে, কিছু কিছু কলকারখানাও হচ্ছে, সেখানে যদি স্থানীয়রা সুযোগ-সুবিধা বা সেসব কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করতে না পারে তাহলে তো অসন্তোষ থাকবে। এসব বিষয়ে আমাদের আরও মনোযোগ দেওয়া উচিত।

তিনি আরও বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের নিরাপত্তা পুলিশ বা নিরাপত্তা বাহিনী দেখবে। এটা এমন কোনো সংঘাত নয় যেখানে সেনাবাহিনীর যুক্ত হওয়া উচিত। ছোটখাটো ঘটনা ঘটলেই সেনাবাহিনীকে ডাকতে হবে এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। যেকোনো ঘটনায় সেনাবাহিনীকে ডাকলে পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে নিয়ে যেতে পারে। আমার মনে হয়, এসব ঘটনা সামলানোর জন্য পুলিশ বা নিরাপত্তা বাহিনীর উপর ছেড়ে দেওয়া উচিত। বেসামরিক প্রশাসনেরই এই সমস্যা ডিল করা উচিত। সীমান্তে নজরদারি আরও বাড়ানো দরকার বলেও মনে করেন এই নিরাপত্তা বিশ্লেষক।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here