হাত বাড়ালেই মাদক বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে!

0
218

সারাদেশে যখন মাদকসেবী ও মাদক ব্যবসায়ীদের প্রতি জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছে সরকার, সেই সময়ে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়কে মাদক সেবনের নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে বেছে নিয়েছে মাদকসেবীরা।

ক্যাম্পাসের কিছু পয়েন্টে চলছে প্রতিনিয়ত মাদকসেবীদের আড্ডা। বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারী মাদকাসক্তের অভিযোগে হাতেনাতে ধরা পড়লেও কার্যকরী কোনো পদক্ষেপ নেয়নি প্রশাসন। ফলে মাদকের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের ২৫ এপ্রিল মাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আবু কালাম মো. ফরিদ উল ইসলাম ও সহকারী প্রক্টর ছদরুল ইসলাম সরকারের নেতৃত্বে পুলিশ একাডেমি ভবন-৩ থেকে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শাখা কর্মকর্তা আতিকুজ্জামান সুমনের অফিস কক্ষ থেকে বিদেশি মদের বোতল ও নেশাজাতীয় দ্রব্যের উপকরণ উদ্ধার করে।

এ ঘটনায় ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরে আর কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শিক্ষকসহ কয়েকজন কর্মকর্তা নিয়মিত মাদক সেবন করেন। কয়েক মাস আগে কয়েকটি গোয়েন্দা সংস্থার বরাত দিয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মাদক শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশ করে একটি জাতীয় দৈনিক। ওই প্রতিবেদনে বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ কয়েকজন ছাত্রনেতার নাম উঠে আসে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, রংপুর জেলার হারাগাছ এলাকা ও মডার্ন মোড়ের বেশ কয়েকজন মাদক কারবারি বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন প্রভাবশালী কর্মচারী ও শিক্ষার্থীর সহযোগিতায় ক্যাম্পাসে মাদক সরবরাহ করে থাকে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের পিছনে, একাডেমিক ভবনের পিছনে, বকুলতলা রোডের পাশে, নির্মাণাধীন শেখ হাসিনা হলের দক্ষিণ পাশসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে প্রতিদিন বিকেল থেকে রাত অবধি মাদকের আসর বসে।

এছাড়া, চলতি বছরের (৩১ তারিখ) মে মাসে লালমনিরহাট জেলার কালীগঞ্জ থানায় নিষিদ্ধ ফেন্সিডিল ও গাঁজাসহ হাতেনাতে ধরা পড়ে সোহেল রানা (৩৮) নামে বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন কর্মচারী। পরে তাকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাময়িক বহিস্কার করা হয়।

জানা যায়, ক্যাম্পাসে মাদক সরবরাহকারী ও মাদকসেবীদের বিস্তর তথ্য প্রক্টর অফিসে জমা থাকলেও তাদের বিরুদ্ধে কখনও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্বশীল এই দপ্তর। এতে প্রক্টর অফিস ও প্রক্টোরিয়াল বডির উপর ক্ষুব্ধ শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোসহ বিভিন্ন জায়গায় মাদকসেবনকারী আছে। প্রশাসনের কাছে এ সম্পর্কিত পর্যাপ্ত তথ্য রয়েছে। আমরা তাদেরকে হাতেনাতে ধরার চেষ্টা করছি। হাতেনাতে ধরা পেলেই আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।’ সূত্র : পরিবর্তন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here