হিউম্যান মিল্ক ব্যাংক: ধর্মীয় বিতর্কের পর করোনাভাইরাস

0
35

 জন্মের পর শিশুর জন্য অত্যাবশ্যকীয় মাতৃদুগ্ধ না পাওয়া গেলে তাদের সেই চাহিদা পূরণে ‘হিউম্যান মিল্ক ব্যাংক’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল গত বছরের শেষ দিকে। বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো এই উদ্যোগের খবর শুনে তাতে আপত্তি করেছিলেন ধর্মভিত্তিক বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা। অন্যান্য ইসলামী দেশেও এ ধরনের উদ্যোগের কথা জানিয়ে তাদের কিছুটা শান্ত করা গেলেও গুরুত্বপূর্ণ এই উদ্যোগ এখন আটকে আছে করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে।

এর মধ্যে জন্মের পরই মা হারানো বিপন্ন শিশুর জন্য অন্য মায়ের বুকের দুধ চেয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আহ্বান জানানো হয়েছে। তাতে সাড়াও মিলেছে। তবে তার বাইরে থেকে যাওয়া আরও বহু শিশুর জন্য কিছু করতে না পারার দুঃখবোধ রয়েছে ‘হিউম্যান মিল্ক ব্যাংক’ প্রতিষ্ঠার উদ্যোক্তাদের মধ্যে।

ঢাকার মাতুয়াইলের সরকারি শিশু-মাতৃ স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটে (আইসিএমএইচ) এ মিল্ক ব্যাংক স্থাপনের জন্য বিদেশ থেকে আনা হয়েছিল আধুনিক যন্ত্রপাতি

দামী ওই সব যন্ত্রপাতি দীর্ঘ দিন ধরে পড়ে আছে বলে জানিয়েছেন হিউম্যান মিল্ক ব্যাংকের উদ্যোক্তা মাতুয়াইলের শিশু-মাতৃ স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের ডা. মুজিবুর রহমান।

তিনি শুক্রবার বলেন, মিল্ক ব্যাংকের কার্যক্রম নিয়ে ‘আলেম সমাজের একাংশ’ শুরুতে আপত্তি জানিয়েছিলেন। এজন্য মিল্ক ব্যাংক সংক্রান্ত সব কাগজপত্র তারা ইসলামিক ফাউন্ডেশনে পাঠিয়েছেন।

“বিষয়টি সুরাহা করতে আলেম সমাজের প্রতিনিধি ছাড়াও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, ধর্ম মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিদের একটি বৈঠকে অংশ নেওয়ার কথা ছিল। কিছু শর্তে তারা মিল্ক ব্যাংক স্থাপনের অনুমতি দিতে রাজিও হয়েছিলেন। কিন্তু বৈঠকটাই তো আর হচ্ছে না।”

সম্প্রতি রাজধানীর ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের একজন শিক্ষিকা মারা যান। তার সাতদিন বয়সী শিশুকে দুগ্ধ দান করতে আহ্বান জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি পোস্ট দেওয়া হয়।

এ বিষয়টি উল্লেখ করে ডা. মুজিবুর রহমান বলেন, “মিল্ক ব্যাংক থাকলে হয়ত ওই বাচ্চার জন্য দুধ জোগাড় করে দেওয়া সহজ হত। এটা তো প্রমাণিত যে বিষয়টা কত জরুরি। তার বাচ্চাটাকে মায়ের দুধ দেওয়ার জন্য সবাই চেষ্টা করছে। এ ব্যবস্থাটি চালু থাকলে ওই বাচ্চার মতো আরও অনেক বাচ্চার কষ্ট দূর হত।”

তিনি জানান, মিল্ক ব্যাংকের জন্য সমাজের বিভিন্ন ব্যক্তির অনুদানে যন্ত্রপাতি কেনা হয়েছে। দীর্ঘদিন সেগুলো অব্যবহৃত পড়ে আছে।

“প্রায় ১০-১২ কোটি টাকার যন্ত্রপাতি আনা হয়েছে। আলেম সাহেবরা হয়ত মনে করেছেন বিদেশি কোনো দাতা সংস্থা দিয়েছেন। কিন্তু এসব যন্ত্রপাতি কিনতে যারা আর্থিক সহায়তা করেছেন তারা সবাই মুসলিম। নষ্ট হয়ে যেতে পারে বলে আমি মাঝে মাঝে মেশিনগুলো চালু করি।” ডা. মুজিবুর বলেন, মিল্ক ব্যাংক হলে ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে যেন কোনো সমস্যা তৈরি না হয় সেদিকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকবেন তারা।

“আমরা কয়েকটি বিষয় নিশ্চিত করছি। একজন মায়ের দুধ শুধু একটা বাচ্চাকেই খাওয়ানো হবে। এ বিষয়ে তাদের দুজনেরই বিস্তারিত তথ্য আমরা লিখে রাখব। ছেলে বাচ্চার মায়ের দুধ ছেলেকে, মেয়ে বাচ্চার মায়ের দুধ মেয়ে বাচ্চাকে খাওয়ানো হবে।”ভিকারুননিসার ওই শিক্ষিকার পরিবারের একজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শিশুটির জন্য দুগ্ধদান করতে অনেকেই এগিয়ে এসেছেন। এ নিয়ে বিস্তারিত কিছু বলতে রাজি হননি তিনি।

মাতৃদুগ্ধ না পাওয়া আরেকটি শিশুর একজন অভিভাবকের সঙ্গে কথা হয় বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের। পেশায় চিকিৎসক ওই নারী বলেন, দেশে একটা হিউম্যান মিল্ক ব্যাংক হওয়া খুবই জরুরি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here