হিজরী নববর্ষে করণীয় ও বর্জনীয়

0
202

মুসলিম উম্মাহর সংস্কৃতি ও মুসলমানদের জীবনে হিজরি সনের গুরুত্ব অপরিসীম। ইসলামের বিধি-বিধান হিজরি সন ও চান্দ্র তারিখের সঙ্গে সম্পর্কিত হওয়ায় ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান ও উৎসবসহ সব ক্ষেত্রেই হিজরি সনের ওপর নির্ভরশীল আমরা।

সময়ের সমষ্টিই মানবজীবন বা আয়ু। তিলে তিলে মানুষের আয়ু ক্ষয় হয়। দিন যায়, মাস যায়, বছর যায়; মানুষ তার জীবনের পরিণতির দিকে এগিয়ে যায়। আল্লাহ মানুষ সৃষ্টির সময় তার আয়ু নির্ধারিত করে দেন। তিনি আয়ু বাড়াতে ও কমাতে পারেন। নেক আমল, দান-খয়রাত, পিতা-মাতার খেদমত, গুরুভক্তি এবং আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীর সেবা আয়ু বৃদ্ধির কারণ হয়।

আল্লাহ তায়ালা সময়কে মানুষের প্রয়োজনে ব্যবহারোপযোগী করে প্রাকৃতিকভাবে বিভিন্ন ভাগে বিভক্ত করেছেন। যেমন: দিন, রাত, মাস, বছর ইত্যাদি। বছরকে আমরা সাল বা সন বলি। সূর্যের চারদিকে পৃথিবীর আবর্তনের সময়কালকে সৌরবর্ষ এবং পৃথিবীর চারদিকে চাঁদের আবর্তনের সময়কালকে চান্দ্রবর্ষ বলা হয়। মহানবী হজরত মুহাম্মাদ (সা.)-এর হিজরতের বছরকে ইসলামি সন গণনার প্রথম বছর ধরা হয়েছে বলে এটি হিজরি সন নামে পরিচিত। হিজরি সন চান্দ্রবর্ষ ও সৌরবর্ষ উভয় হিসাবে গণনা করা হয়। সৌরবর্ষে ৩৬৫ ও ৩৬৬ দিনে বছর হয়, চান্দ্রবর্ষে ৩৫৪ ও ৩৫৫ দিনে বছর হয়। ইসলামি শরিয়তের ফিকহি বিধানগুলোতে বছর বলতে চান্দ্র বর্ষকেই বোঝানো হয়।

‘মহররম’ শব্দের অর্থ সম্মানিত। ইসলামের ইতিহাসে এই মাসটি এমন কতগুলো উল্লেখযোগ্য স্মৃতিবিজড়িত, যে স্মৃতিসমূহের সম্মানার্থেই এই মাসকে মহররম বা সম্মানিত বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে।

মহররম মাসের করণীয় আমলসমূহ: হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসঊদ (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুল (সা.) বলেছেন- ‘যে ব্যক্তি আশুরার দিনে পরিবারের ব্যয় বৃদ্ধি করবে, ভালো খাওয়াদাওয়ার আয়োজন করবে, আল্লাহ পাক সারা বছর তার প্রাচুর্য বাড়িয়ে দেবেন।’ তাছাড়া চাঁদের প্রথম রাতে নফল নামাজ ও প্রথম দিনে নফল নামাজ পড়া। প্রথম দশ দিন নফল রোজা রাখা। বিশেষত দশ মহররম আশুরার সুন্নত রোজা। আশুরার দিনে ও রাতে নফল নামাজ পড়া। মাসের তেরো, চৌদ্দ ও পনেরো তারিখে আইয়ামে বিজের সুন্নত রোজা, উনত্রিশ ও ত্রিশ তারিখ নফল রোজা এবং প্রতি সোমবার ও বৃহস্পতিবার সুন্নত রোজা। এ মাসে প্রতি রাতে একশ বার দরুদ শরিফ ও সত্তরবার ইস্তিগফার। (তরিকত শিক্ষা, খান বাহাদুর আহ্ছানউল্লা রহ. পৃষ্ঠা: ৩০ ও ৯৬; রাহাতুল কুলুব, ইমাম রাজিন রহ.)

মহররম মাস সম্পর্কে প্রচলিত কিছু কুসংস্কার রয়েছে। যেমন: এই মাসে বিয়ে-শাদি না করা, নতুন ঘরবাড়ি নির্মাণ না করা, কোনো শুভ কাজ বা ভালো কাজের সূচনা না করা, গোশত না খাওয়া ও নিরামিষ আহার করা, পান না খাওয়া, নতুন কাপড় ও সুন্দর পোশাক না পরা, সাদা কাপড় বা কালো কাপড় তথা শোকের পোশাক পরা, সকল প্রকার আনন্দ উৎসব পরিহার করা, তাজিয়া-মাতম করা, নিজেকে আঘাত করে ক্ষতবিক্ষত ও রক্তাক্ত করা ইত্যাদি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here