হৃদরোগের চিকিৎসা এখনও ঢাকাকেন্দ্রিক

0
185

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা’র তথ্যানুযায়ী বিশ্বজুড়ে হৃদরোগীর সংখ্যা। বাংলাদেশেও এ রোগী বাড়ছে। তবে এর চিকিৎসা রাজধানী ঢাকাকেন্দ্রিক। অনেক রোগী ঢাকায় আনতে গিয়ে মারাও যান। তাই জেলা হাসপাতালগুলোয় কার্ডিওলজিস্ট নিয়োগের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও জনবলের ব্যবস্থা করতে পারলে বহু রোগীর জীবন বাঁচানো সম্ভব হতো বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক বলছেন, ‘হৃদরোগের চিকিৎসা জেলা সদর হাসপাতাল কেন্দ্রিক না হয়ে মেডিক্যাল কলেজভিত্তিক হলেই বেশি ভালো হবে।’ চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে কার্ডিয়াক সমস্যা ধরা পড়ে আবুল বাশারের। বাইপাস সার্জারির জন্য তাকে  ঢাকায় রেফার করা হয়। কিন্তু সময়ের সমন্বয় করতে না পারায় সার্জারি না করেই তিনি বাড়ি ফিরে যান। আবুল বাশারের মতো বিভিন্ন জেলায় এমন অনেক রোগী আছেন।

দেশের বেশিরভাগ জেলা সদরের হাসপাতালে হৃদরোগীর জন্য সুচিকিৎসার ব্যবস্থা নেই। যার কারণে বেশিরভাগ রোগীকেই রাজধানীর সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে রেফার করা হচ্ছে। এতে যেমন রোগীর জীবনের ঝুঁকি বাড়ছে তেমনি অর্থ ও সময় ব্যয় হচ্ছে। আবার অনেকে সময়মতো চিকিৎসা না পেয়ে মারাও যাচ্ছেন।

চিকিৎসকরা বলছেন, ‘আমাদের দরকার এই রোগ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো এবং সঠিক চিকিৎসা দেওয়া। সেই চিকিৎসা ইসিজি, ইকো ডপলার, এনজিওগ্রাম, স্টেন্টিং এবং সার্জারির জন্য ঢাকায় আসতেই হবে। হৃদরোগের চিকিৎসা করতে চাইলে জনবল ও অর্থ দুটোই লাগবে।’

টাঙ্গাইল জেলার সিভিল সার্জন ডা. সৈয়দ ইবনে সাঈদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘প্রায় ১০ জন কার্ডিওজিস্ট জেলা ও থানা পর্যায়ে আছে। এখানে ইসিজির সুযোগ থাকলেও ইকোসহ অন্য কোনও পরীক্ষার সুযোগ নেই। সরকারি হাসপাতালগুলোতে এগুলো থাকে না। টাঙ্গাইল জেলা হাসপাতালে চারটি বেড আছে হৃদরোগীদের জন্য। হার্ট অ্যাটাক হলে ঢাকাতেই পাঠাতেই হয়। যদি ব্লক ধরা পড়ে তাহলে রিং পরানো বা বাইপাস করা ঢাকা ছাড়া সম্ভব না।’

তিনি বলেন, ‘আমরা নিয়মিত যে ডিজিজ প্রোফাইল তৈরি করি এতে দেখা যাচ্ছে, উচ্চরক্তচাপ, হৃদরোগীর সংখ্যা বাড়ছে। জীবনযাপন যত জটিল হচ্ছে তত এসব রোগ বাড়ছে। চর্বি জাতীয় খাবার খাওয়া, দুশ্চিন্তার কারণে এসব রোগ বাড়ে।’

ডা. সাঈদ বলেন, ‘এনজিওগ্রামটা প্রতি উপজেলায় করা সম্ভব না। তবে, উপজেলা লেভেলে ইকো কার্ডিওগ্রাম মেশিন ও কার্ডিওলজিস্ট থাকলে ইকো করা যাবে। তাহলে রোগীদের অন্তত কিছুটা হলেও সময় বাঁচবে।’

চুয়াডাঙ্গার সিভিল সার্জন ডা. খন্দকার মিজানুর রহমান বলেন, ‘হৃদরোগীর চিকিৎসক আছে ঠিকই, কিন্তু ফ্যাসিলিটিজগুলো নেই। শুধু ইসিজির ব্যবস্থা আছে এখানে। হার্টের রোগীর জন্য সিসিইউ থাকা দরকার, আলাদা ইউনিট থাকা দরকার এরকম কিছু নেই।’

হেলথ রাইটস মুভমেন্টের ন্যাশনাল কমিটির প্রেসিডেন্ট ডা. রশীদ-ই-মাহবুব বলেন, ‘মেডিক্যাল কলেজের বাইরে হৃদরোগের চিকিৎসা খুবই সীমিত। হার্টের সার্জারি আরও সমস্যা। এ চিকিৎিসা ব্যয়বহুলও। এজন্য  খরচও রোগীর সীমার মধ্যে আনতে হবে। ল্যাবরেটরি সার্ভিসও বাড়াতে হবে।’

স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘আমাদের অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ একটি শাখা রয়েছে। এ শাখা থেকে শুধু হৃদরোগ নয়, অসংক্রামক রোগগুলোর চিকিৎসার ব্যবস্থা করছি। এই রোগগুলো প্রতিরোধ ও প্রতিকারের জন্য আমরা কার্যক্রম হাতে নিয়েছি। সারাদেশে এই কার্যক্রম চলছে। এই সুবিধাগুলো মেডিক্যাল কলেজ পর্যায়ে সীমিত রাখতে হবে। জেলা পর্যায়ে করতে যে ফ্যাসিলিটি বা লোকবল দরকার তা না হলে আমরা এই সেবা দিতে পারবো না। আপাতত আমরা মনে করছি না, জেলা হাসপাতালগুলো পর্যন্ত এই সেবা সম্প্রসারণ করা যাবে।’

সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে হৃদরোগের চিকিৎসা ব্যয় কমানোর ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘এ চিকিৎসায় খরচের বিষয়টি নির্ভর করে ওষুধের দামের ওপর ওষুধের দাম কমলে চিকিৎসা ব্যয়ও কমবে।’

– বাংলাট্রিবিউন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here