১৩ ব্যাংকে প্রভিশন ঘাটতি ১১ হাজার কোটি টাকা

0
204

ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের সঙ্গে বেড়েছে প্রভিশন বা নিরাপত্তা সঞ্চিতি ঘাটতি। গত জুন শেষে সরকারি ও বেসরকারি খাতের ১৩টি ব্যাংকে ঘাটতি দেখা দিয়েছে প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে ৯ হাজার ১০৭ কোটি টাকার ঘাটতি রয়েছে সরকারি ব্যাংকে। নিয়ম হলো- প্রভিশন ঘাটতি রেখে কোনো ব্যাংক তার শেয়ারহোল্ডারকে লভ্যাংশ দিতে পারে না। তবে কয়েক বছর ধরে প্রভিশন ঘাটতি থাকার পরও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিশেষ আনুকূল্যে লভ্যাংশ ঘোষণার অনুমতি পাচ্ছে বিভিন্ন ব্যাংক। আমানতকারীদের সুরক্ষা দিতে ঋণের শ্রেণিমান বিবেচনায় ব্যাংকগুলোকে নির্ধারিত হারে প্রভিশন রাখতে হয়। ব্যাংকগুলোর মুনাফা থেকে সাধারণ ঋণের বিপরীতে দশমিক ২৫ শতাংশ থেকে শুরু করে ৫ শতাংশ পর্যন্ত প্রভিশন রাখতে হয়। আর নিম্নমান, সন্দেহজনক এবং মন্দ বা ক্ষতি মানে শ্রেণিকৃত ঋণের বিপরীতে যথক্রমে ২০, ৫০ ও ১০০ শতাংশ হারে প্রভিশন সংরক্ষণ করতে হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী জুন পর্যন্ত ব্যাংকগুলোর মোট ঋণ রয়েছে ৮ লাখ ৫৮ হাজার ৫২২ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপিতে পরিণত হয়েছে ৮৯ হাজার ৩৪০ কোটি টাকা। শ্রেণিকৃত ঋণের মধ্যে ৭৪ হাজার ৯২৬ কোটি টাকা মন্দমানে শ্রেণিকৃত। সন্দেহজনক মানে রয়েছে সাত হাজার ১৭৮ কোটি টাকা এবং সাত হাজার ২৩৬ কোটি টাকা নিম্নমানে শ্রেণিকৃত। শ্রেণিমান বিবেচনায় ব্যাংকগুলোর ৫২ হাজার ৮৭৮ কোটি টাকা প্রভিশন রাখার প্রয়োজন ছিল। কিছু ব্যাংক প্রয়োজনের চেয়ে বেশি রাখলেও ১৩ ব্যাংকে বিপুল অঙ্কের ঘাটতির কারণে সামগ্রিক খাতে সংরক্ষণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪৪ হাজার ৮৮৮ কোটি টাকা। ফলে সামগ্রিকভাবে ব্যাংক খাতে সাত হাজার ৯৯০ কোটি টাকার ঘাটতি দেখা দিয়েছে।

তালিকায় শীর্ষে থাকা সোনালী ব্যাংকের ঘাটতি দাঁড়িয়েছে তিন হাজার ৬২৩ কোটি টাকা। পর্যায়ক্রমে বেসিক ব্যাংকে তিন হাজার ২২৩ কোটি, রূপালীতে এক হাজার ৩৭২ কোটি ও অগ্রণী ব্যাংকে ৮৯০ কোটি টাকার ঘাটতি হয়েছে। বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মধ্যে ন্যাশনাল ব্যাংকে ৪৭৮ কোটি, কমার্স ব্যাংকে ৪২২ কোটি, এসআইবিএলে ৩৬৮ কোটি, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকে ১৬০ কোটি, এবি ব্যাংকে ১৪৭ কোটি, প্রিমিয়ারে ১১৬ কোটি, মিউচুয়াল ট্রাস্টে ১০৬ কোটি, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকে ৪৬ কোটি এবং আইএফআইসি ব্যাংক ২১ কোটি টাকার ঘাটতি রয়েছে। সমকাল

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here