২০৩০ সালে জিডিপি প্রবৃদ্ধি দেড় শতাংশ বাড়বে

0
182

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) বৈঠকে আগামী ১‘শ’ বছরের জন্য তিন লাখ কোটি টাকার ডেল্টা প্ল্যান বা ব-দ্বীপের মহাপরিকল্পনা অনুমোদন দেয়া হয়েছে। বিশ্বের ইতিহাসে এতো বড় মহাপরিকল্পনা এর আগে কোন দেশ প্রণয়নকরেনি। এ পরিকল্পনার কাজ শুরু হলে ২০৩০ সালের মধ্যে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ১ দশমিক ৫ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে।

মঙ্গলবার শেরে বাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে এ দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাটি অনুমোদন দেয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন এনইসি চেয়ারপারসন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সভাশেষে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল সাংবাদিকদের বিস্তারিত জানান। পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ব-দ্বীপ পরিকল্পনায় ২০১৮ থেকে ২০৩০ সাল পর্যন্ত মোট ৮০টি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। এগুলো বাস্তবায়নে প্রয়োজন হবে প্রায় ৩ লাখ কোটি টাকা। এই টাকা আসবে সরকারি, বেসরকারি, পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ এবং জলবায়ু তহবিলসহ বিভিন্ন খাত থেকে। এজন্য গঠন করা হবে ডেল্টা তহবিল। তাছাড়া ডেল্টা প্ল্যান বাস্তবায়নে গঠন করা হবে ডেল্টা নলেজ ব্যাংক।

মন্ত্রী বলেন, এটি একটি ঐতিহাসিক পরিকল্পনা। এর আগে পৃথিবীর কোথাও এত দীর্ঘ পরিকল্পনা হয়নি। এ পরিকল্পনার মাধ্যমে দেশের পানি সম্পদকে কাজে লাগিয়ে অর্থনৈতিক অগ্রগতিকে টেকসই করা হবে। তাছাড়া হট স্পটে যেসব ঝুঁকি রয়েছে সেগুলো মোকাবেলা করা হবে। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রধানমন্ত্রীকে একবার বলেছিলেন, সুযোগ পেলে নেদারল্যান্ড ঘুরে এসো। পরবর্তীতে তিনি অনেক বার নেদারল্যান্ড ঘুরেছেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা ও পরিকল্পনায় এই দীর্ঘ পরিকল্পনাটি তৈরি করা হয়েছে। পরিকল্পনায় নদীর ক্যাপিটাল ড্রেজিং এবং পরবর্তীতে মেইটেন্যান্স ড্রেজিং করা হবে। ফলে নতুন ভূমি পাওয়া যাবে। নদী পথের ব্যবহার বাড়ানো হবে। সেই সঙ্গে নদী ভাঙ্গনের
ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।

মন্ত্রী জানান, ২০২১ সালে থেকে ২০৪১ সাল নাগাদ আরেকটি প্রেক্ষিত পরিকল্পনা তৈরীর কাজ চলছে। এর আলোকে আমরা উন্নত দেশ গড়ার লক্ষ্য
বাস্তবায়নে এগিয়ে যাবো। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নেদারল্যান্ড এ ধরনের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে ৬ হাজার স্কয়ার কিলোমিটার নতুন ভূমি পেয়েছে। তাদের সহযোগিতাতেই এ পরিকল্পনা প্রনয়ন করা হয়েছে। পানি আমাদের সবচেয়ে বড় সম্পদ। আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস, এই পানিকে আমরা সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারলে কৃষিতে আমরা পিছিয়ে থাকবো না। এতে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে আরো শক্তিশালী করতে পারবো। এই পরিকল্পনার মাধ্যমে বন্যা, নদীভাঙন, নদী শাসন, নদী ব্যবস্থাপনা, নগর ও গ্রামে পানি সরবরাহ এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, নগর বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও নিষ্কাশন ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘমেয়াদি কৌশল নির্ধারণ করা হয়েছে।

ডেল্টা তহবিল গঠনের প্রস্তাবে বলা হয়েছে, ব-দ্বীপ পরিকল্পনা-২১০০ বাস্তবায়নের জন্য ২০৩০ সাল নাগাদ প্রয়োজন হবে ২ লাখ ৯৭ হাজার ৮২৭ কোটি টাকা। এজন্য জিডিপির ২ দশমিক ৫ শতাংশ সমপরিমান অর্থায়ন সম্বলিত বাংলাদেশ ডেল্টা তহবিল গঠনের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। যার মধ্যে ২ শতাংশ নতুন বিনিয়োগ এবং শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ পরিচালন ও রক্ষণাবেক্ষণ খাতে ব্যয় করা হবে। জিডিপির ২ দশমিক ৫ শতাংশের মধ্যে শতকরা ৮০ ভাগ সরকারি তহবিল হতে এবং শতকরা ২০ ভাগ বেসরকারি খাত থেকে আসবে।

এ বিষয়ে সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের (জিইডি) সদস্য ড. শামসুল আলম বলেন, ব-দ্বীপ পরিকল্পনায় ২০১৮ সাল থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে বাস্তবায়নের জন্যপ্রকল্প এবং সম্ভাব্য বিনিয়োগ সম্পর্কে তুলে ধরা হয়েছে পরিকল্পনায়। এগুলো হচ্ছে, উপকূলীয় অঞ্চলে ২৩টি প্রকল্পের জন্য ৮৮ হাজার ৪৩৬ কোটি টাকা। বরেন্দ্র এবং খড়া প্রবণ অঞ্চলের জন্য ৯টি প্রকল্পের আওতায় ১৬ হাজার ৩১৪ কোটি টাকা। হাওর এবং আকস্মিক বন্যাপ্রবণ অঞ্চলের জন্য ৬টি প্রকল্পের আওতায় ২ হাজার ৭৯৮ কোটি টাকা। পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের জন্য ৮ প্রকল্পের অনুকুলে ৫ হাজার ৯৮৬ কোটি টাকা। নদী এবং মোহনা অঞ্চলে ৭টি প্রকল্পের অনুকুলে ৪৮ হাজার ২৬১ কোটি টাকা এবং নগরাঞ্চলের জন্য ১২টি প্রকল্পের অনুকুলে ৬৭ হাজার ১৫২ কোটি টাকা বিনিয়োগ প্রাক্কলন করা হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here