২১শে আগস্ট হামলা মামলা ১৪ বছরেও শেষ হয়নি

0
245

গণমাধ্যম ডেস্ক : শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্বকে একসাথে হত্যার উদ্দেশ্যে গ্রেনেড হামলার মামলার নিষ্পত্তি ১৪ বছরেও করা যায়নি। আর এজন্য রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষ পরস্পরের বিরুদ্ধে সময়ক্ষেপনের অভিযোগ তুলেছে।

ওই হামলায় শেখ হাসিনা অল্পের জন্য বেঁচে যান। ক্ষতিগ্রস্ত হয় তার শ্রবন শক্তি। প্রাণ হারান আওয়ামী লীগ নেত্রী আইভি রহমানসহ ২৪ জন। আহত হন তিন শতাধিক।

আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার জনসভায় ২০০৪ সালের ২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলার ঘটনায় দুটি মামলায় আসামি ৪৯ জন।

এরমধ্যে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান, সাবেক স্বরাস্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, সাবেক শিক্ষা উপমন্ত্রী আব্দুস সালাম পিন্টু, সাবেক এমপি শাহ মোফাজ্জল কায়কোবাদ, বিএনপি নেতা হারিস চৌধুরি, সাবেক তিন আইজিপি আশরাফুল হুদা, শহুদুল হক ও খোদা বক্স চৌধুরি, সাবেক সামরিক গোয়েন্দা কর্মকর্তা এটিএম আমিন, সাইফুল ইসলাম জোয়ার্দার ও জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থার সাবেক মহাপরিচালক রেজাকুল হায়দার এবং হরকাতুল জিহাদের বেশ কজন নেতা রয়েছেন।

গত বছরের ২৩শে আগস্ট দুটি মামলার যুক্তি উপস্থাপন শুরু করে রাষ্ট্রপক্ষ। এখন পর্যন্ত ১০৯ দিনে ৪৫ জন আসামির পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন শেষ হয়েছে। ৫১১ জনের মধ্যে ২২৫ জন সাক্ষ্য দেন। সাফাই সাক্ষী দিয়েছেন ২০ জন। পরবর্তী যুক্তি-তর্ক উপস্থাপন ২৭, ২৮, ২৯শে আগস্ট।

বিচারকাজ চলতি মাসে শেষ করার চেষ্টা করা হলেও আসামীপক্ষ যুক্তি উপস্থাপনে বেশি সময় নেয়ার কারণে দেরি হচ্ছে বলে দাবি করছে, রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান আইনজীবী সৈয়দ রেজাউর রহমান। তিনি জানান, ‘আসামীপক্ষ থেকে বিচারকাজ সম্পন্ন করতে কালক্ষেপন করছে। কালক্ষেপন করা সত্ত্বেও সবার সহযোগিতায় আমরা এই মামলার বিচারকাজ অনেকদূর সম্পন্ন করেছি। আশা করছি অতি শীঘ্রই আমরা এই মামলার বিচারকাজ সম্পন্ন করে আসামীদের উপযুক্ত শাস্তি দিতে পারবো।’

আসামিপক্ষের আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, ‘রাস্ট্রপক্ষই মামলার বিচারকাজ নিয়ে গড়িমসি করছে। ২১ শে আগস্ট যে হামলা হয়েছে, তা কোন সভ্য দেশই সমর্থন করে না। আমরা আশা করি সত্যিকারে যারা দোষী তাদের দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি হোক। কিন্তু বর্তমানে এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের যে সাক্ষ্য প্রমান আছে, তা অনেক দুর্বল।’

২০০৪ সালের ২১শে আগস্ট রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ের সামনে সন্ত্রাস বিরোধী জনসভায় ১৩ টি গ্রেনেড মারা হয়। আহতদের উদ্ধার করতে গেলে পুলিশও টিয়ার শেল ছুঁড়ে মারে। মামলায় অভিযোগ করা হয় ওই হামলার আগে ঢাকায় ১০টি বৈঠক হয়। এসব বৈঠকে তারেক, বাবর, পিন্টু হারিস চৌধুরিসহ গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তারা অংশ নেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here