২১ আগস্টের রায় নিয়ে বাকযুদ্ধ

0
155

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায় সামনে রেখে এরই মধ্যে বাকযুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতারা। ক্ষমতাসীনরা বলছেন, সেই গ্রেনেড হামলায় শুধু তারেক রহমানই নন; বিএনপি চেয়ারপারসন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াও জড়িত। আর বিএনপির পক্ষ থেকে এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলা হচ্ছে, আওয়ামী লীগ নেতারা বিএনপিকে ঘায়েল করতে উদ্দেশ্যমূলকভাবে এসব কথা বলছেন। বিএনপির নেতারা বলছেন, তাদের বক্তব্য এ মামলার রায়কে প্রভাবিত করবে।

আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যে ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা মামলার বিচারিক আদালতের রায় দেওয়া সম্ভব হবে। এ রায় হলে দেশ আরও একটি দায় থেকে মুক্তি পাবে। ১৯ আগস্ট আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বক্তব্যের পর আলোচনায় আসে ২১ আগস্টের মামলা।এরপর আওয়ামী লীগ ও বিএনপির শুরু হয় বাকযুদ্ধ।

ওবায়দুল কাদের : ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলার ঘটনার দায় বিএনপি কোনোভাবেই এড়াতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি আরো বলেন, ‘সেই জন্যই আমি বলেছি, বিএনপির অনেক নেতার জড়িত হওয়ার আশঙ্কা আছে।’ ২৫ আগস্ট শনিবার চট্টগ্রামের একটি অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘শেখ হাসিনা এই কিলিংয়ের টার্গেট ছিল। সারা দেশ জানে বিএনপির সরকার তখন ক্ষমতায়। হাওয়া ভবনের পরিকল্পনায়, ডিজাইনে এটা হয়েছে। এগুলো এখন আর কোনো গোপন বিষয় নয়। আইভি রহমানসহ ২৪ জনের প্রাণের প্রদীপ নিভে গেছে। শেখ হাসিনার ওপর আল্লাহর অশেষ রহমত ছিল বলে বেঁচে গেছেন।’ কাদের বলেন, রায় কী হবে, কারা এতে জড়িত- সেটা আদালত সিদ্ধান্ত নেবেন। আদালত রায় দেবেন, এখানে আমাদের কোনো হাত নেই। আদালত স্বাধীন।

রুহুল কবির রিজভী : সরকারি দলের নেতাদের বক্তব্য শুনে মনে হয় একুশে আগস্টের গ্রেনেড হামলার মামলায় একটি ফরমায়েশি রায় হতে যাচ্ছে। ২৫ আগস্ট শনিবার সাংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। রিজভী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্য শুনে মনে হয় একুশে আগস্টের রায়কে প্রভাবিত করার জন্য তারা উঠে পড়ে লেগেছেন। একুশে আগস্টের বোমা হামলার রায় নিজেরা লিখে তা আদালতকে দিয়ে বাস্তবায়ন করাবেন কি না মানুষের মনে এখন সেই সংশয় দেখা দিয়েছে।’ ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘একুশে আগস্টের মামলার রায় হলে বিএনপি সংকটে পড়বে। আগামী সেপ্টেম্বরে এ রায় হবে।’ কাদের সাহেব আদালতের এ বিষয়টি কিভাবে জানলেন প্রশ্ন করে রিজভী বলেন, তার বক্তব্যে পরিষ্কার যে, তারা নীল নকশা অনুযায়ী একুশে আগস্টের বোমা হামলার রায় নিয়ে আগাম কাজ করছেন। সেজন্য একের পর এক কূটচাল চালছেন।

মোহাম্মদ নাসিম : স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়া ২১ আগস্ট হামলা চালানো সম্ভব না, এ হামলার সাথে বিএনপি জড়িত। তিনি বলেন, এ হামলার সাথে দোষী খলনায়কদের অবশ্যই বিচারের আওতায় আনা হবে। ২৫ আগস্ট শনিবার টিবি হাসপাতালে শোক দিবসের আলোচনায় তিনি একথা জানান।

মির্জা ফখরুল ইসলাম : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্য ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার বিচারে প্রভাব ফেলবে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ২২ আগস্ট সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন। ২১ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এক অনুষ্ঠানে বলেন, ‘২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান সরাসরি জড়িত।’ প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘রায় সমানে রেখে যখন রাষ্ট্রের চিফ এক্সিকিউটিভ এ ধরনের একটা কথা বলেন, তখন বিচারকদের পক্ষে ন্যায়বিচার করা অসম্ভব হয়ে যায়। আমরা মনে করি, প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্য গ্রেনেড হামলা বিচারে প্রভাব ফেলবে।’

কাজী জাফরউল্লাহ : বিএনপির অভিযোগ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের সভাপতি সদস্য কাজী জাফরউল্লাহ গণমাধ্যমকে বলেন, শুধু ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার রায় নিয়ে নয়, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সপরিবারে জাতির জনককে হত্যার সঙ্গে যারা জাড়িত ছিলেন তাদের অনেকের বিচার হয়েছে। ওই ষড়যন্ত্রের সঙ্গে যারা জড়িত ছিলেন তাদের অনেককে এখনও বিচারের আওতায় আনা সম্ভব হয়নি। কাজী জাফরউল্লাহ বলেন, আমরা তো তাদের বিচারের আওতায় আনার জন্য বলবোই। আর বিএনপি যেটা বলছে, এটা একটা ফরমায়েশি রায় হবে- এমনটা হলে তো অনেক আগেই রায় হয়ে যেত। তাহলে কেন রায়ের জন্য এত দেরি করা হলো?’

উল্লেখ্য, ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট ঢাকার বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসবিরোধী জনসভায় গ্রেনেড হামলায় গুরুতর আহত হয়ে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে তিনদিন পর ২৪ আগস্ট আইভি রহমান মারা যান। এ হামলায় ২৪ জন নিহত হয়েছিলেন। আহত হয় অন্তত ৫০০ জন।
২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় আসামি ৫২ জন। এর মধ্যে ১৭ জন পলাতক। এ মামলায় আদালতে ২২৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে। এ ছাড়া আসামিদের প্রত্যেককে যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here