২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় তারেক রহমান জড়িত নয় : মির্জা ফখরুল

0
262

১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, সাবেক স্বরাষ্ট্রপ্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, সাবেক উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টু জড়িত নয় বলে মন্তব্য করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রাজধানীর সেগুনবাগিচায় অবস্থিত ঢাকা রিপোর্টাস ইউনিটির (ডিআরইউ) সাগর রুনী মিলনায়তনে এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি, ঐতিহাসিক জেহাদ দিবস এবং শহীদ নাজির উদ্দিন জেহাদের ২৮ তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে স্মরণ সভাটির আয়োজন করে শহীদ জেহাদ স্মৃতি পরিষদ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মির্জা ফখরুল বলেন, এই মামলার রায় কালকে হতে পারে, এই রায় নিয়ে বহু ঘটনা ঘটেছে, কথা বলা হয়েছে। কেউ প্রকৃত সত্যটাকে উদঘাটন করতে যাচ্ছে না। আমি হলপ করে বলতে পারি, তারেক রহমান, আবদুস সালাম পিন্টু, বাবর সহ বিএনপির কোনো লোকই এই হামলার সাথে জড়িত ছিল না। কারণ যেকোনো হত্যাকান্ডের একটা মোটিভ থাকে, এই মোটিভটাতে বেনিফিসিয়ারি কে হয়েছে? আওয়ামী লীগ হয়েছে। আওয়ামী লীগ এটাকে ইস্যু করে বিএনপিকে ধবংস করে দিচ্ছে। সঠিক ভাবে তদন্ত করা হলে আসল সত্য বেরিয়ে আসতো। রাজনৈতিক ভাবে তারেক রহমান, পিন্টু সাহেবকে জড়িয়ে দিয়ে এটাই প্রমানিত হয়েছে যে সরকার রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তাদের মামলায় জড়িয়েছে।

তিনি বলেন, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার দুর্ঘটনার পরে আমাদের নেত্রী ততকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া সুধাসদনে শেখ হাসিনাকে দেখতে যেতে চেয়েছিলেন, কিন্তু জেতে দেওয়া হয় নাই। আমাদের পক্ষ থেকে এই মামলার তদন্ত করার জন্য এফবিআই ও ইন্টারপোলকে নিয়ে আস হয়েছিল, তিন বার চার্চশীট দিয়েছিল। তখন কিন্ত বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তারেক রহমান, আবদুস সালাম পিন্টুকে জড়িয়ে কথা বলেন নাই। উনি যখন সাব জেলে ছিলেন তখন মামলার আয়োর কাছে, বিএনপি বা তারেক রহমানকে দোষরপ করেননি, তিনি দোষসরপ করেছিলেন সেনাবাহিনীকে।
আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পরে গোটা পরিস্থিতি বদলে গেলো। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে মামলার চার্জশীট দেওয়া হয়েছে তখন কিন্তু তারেক রহমানের নাম ছিল না। ৬১ জন শাক্ষী হওয়ার পর, আরো পরিবর্তন করে তদন্ত করার জন্য আবদুল কাহার আকন্দকে পুনরায় তদন্ত করার দায়িত্ব দেওয়া হল। সে আওয়ামী লীগের নমিনেশনও চেয়েছিলেন কিশোরগঞ্জ থেকে। তিনি এসে মুফতি হান্নানকে ৪১০ দিন রিমান্ডে নিয়ে তার কাছ থেকে জবানবন্দি নেওয়ার চেস্টা করা হয়েছে। তিনি কোর্টের মধ্যে বলেছেন তার হাতের নখ তুলে নেওয়া হয়েছিল। সে মাধ্যমে তারেক সাহেবের নাম নিয়ে এসেছে এই মামলায়।

বিএনপিকে নির্মুল করতেই তারেক রহমানকে এই মামলায় জড়ানো হয়েছে অভিযোগ করে সাবেক এই প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার প্রকৃত আসামীদের বের না করে পুরো বিষয়টাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করে তারেক রহমান আবদুস সালাম পিন্টুকে এতে জড়ালেন। প্রতিটি মামলায় তারা প্রকৃত আসামীকে না ধরে বিএনপির উপর চাপিয়ে দিয়েছে। এটা একটা চক্রন্ত। যে বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদীর দর্শনকে নির্মুল করে দিয়ে, এর ধারক ও বাহক বেগম খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমানকে দূরে সরিয়ে দেওয়া। এখনতো শুরু হয়েছে ফিজিক্যালি তাদের সরিয়ে দেওয়ার কাজ।

বিএনপির এই নেতা বলেন, এই দশ বছরে আমাদের সবাইকে অসুস্থ করে ফেলেছে শেখ হাসিনা। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া কারাগারের মধ্যে অসুস্থ হয়ে এখন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। অসুস্থ হয়ে আমাদের সাবেক মহাসচিব খন্দকার দেলয়ার হোসেন সাহেবও আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন। আরও অনেকেই আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন। গত ১০ বছরে প্রাণ দিয়েছেন, অসুস্থ হয়ে চলে গেছেন।

বাংলাদেশে এখন যে অবস্থা বিরাজ করছে তা বিএনপির ধারণার বাইরে ছিল জানিয়ে বলেন, অতীতে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে আমরা সংগ্রাম করেছি, স্বাধীনতা যুদ্ধ করেছি, তারপর আপনারা স্বৈরাচারী এরশাদ বিরোধী আন্দোলন করেছেন। কিন্তু এখনকার মতো ভয়ংকর পরিবেশ অতীতে আমরা দেখেছি বলে মনে হয় না। একটা ভয়াবহ অবস্থা। জেটার অভিজ্ঞতা ইতিপুর্বে ঠিক সেইভাবে আমাদের ছিল না। স্বৈরাচার, হানাদার বাহিনী আমরা চিনেছি, কিন্তু ফ্যাসিবাদ কত ভয়ংকর হতে পারে সেটা আগে আমরা উপলব্ধি করতে পারিনি। বিগত কয়েক বছর ধরে এই ফ্যাসিবাদ আমরা অনুভব করছি, উপলব্ধি করছি।

শহীদ জিয়া স্মৃতি পরিষদের সভাপতি আমান উল্লাহ আমানের সভাপতিত্বে এসময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য হাবিবুর রহমান হাবিব, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি প্রমুখ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here