২ মামলায় জামিন না হওয়ায় মুক্তি মিলছে না খালেদা জিয়ার

0
190

 বেশ কয়েকটি মামলায় একে একে জামিন হলেও কেবল দুটি মামলায় জামিন না হওয়ায় মুক্তি মিলছে না বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার। জামিন না হওয়া দুটি মামলাই কুমিল্লার আদালতে বিচারাধীন। তবে ঈদের আগে এ দুটি আবেদন নিষ্পত্তি হওয়ার সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।

খালেদা জিয়ার আইনজীবী একেএম এহসানুর রহমান জানান, রোববার কুমিল্লার আদালতে দুই মামলায় জামিন চেয়ে আবেদন করা হয়েছে। এর মধ্যে একটি হত্যা ও অপরটি নাশকতার মামলা। আবেদন দুটি এখন শুনানি করতে দিন ধার্যের জন্য রয়েছে বলে জানান তিনি।

এর আগে কুমিল্লায় নাশকতার ঘটনায় বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসনের জামিন আবেদনটি এক সপ্তাহের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে নিম্ন আদালতকে গত ১৩ আগস্ট নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। বিচারপতি একেএম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি এসএম মজিবুর রহমানের বেঞ্চ এই আদেশ দেন। এর ফলে এই মামলায় এর আগে খালেদা জিয়াকে হাইকোর্টের দেওয়া ছয় মাসের জামিন স্বয়ংক্রিয়ভাবেই বাতিল হয়ে গেছে বলে জানান আইনজীবীরা।

অপরদিকে কুমিল্লার হত্যা মামলায় জামিন শুনানি শেষে নট প্রেস রিজেক্ট (উথ্থাপিত হয়নি মর্মে খারিজ) করেছেন হাইকোর্ট। গত ৬ আগস্ট বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি এস এম মজিবুর রহমানের বেঞ্চ এ আদেশ দেন। অবশ্য শুনানি শেষে খালেদা জিয়ার আইনজীবী এজে মোহাম্মদ আলী খারিজের জন্য আবেদন জানিয়েছিলেন। সে সময় খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা জানান, কুমিল্লার বিচারিক আদালতেই এ মামলায় জামিন চাওয়া হবে।

এদিকে খোজ নিয়ে জানা গেছে, নড়াইলের মানহানী মামলায় হাইকোর্টের দেওয়া জামিন স্থগিত চেয়ে এরইমধ্যে আবেদন করেছে রাষ্ট্রপক্ষ। ঈদের পর এ আবেদনের শুনানি হতে পারে বলে জানা গেছে। এর আগে মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের সংখ্যা নিয়ে বিতর্কিত বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে নড়াইলে দায়ের করা মানহানির ওই মামলায় খালেদা জিয়াকে ছয় মাসের জামিন দেন হাইকোর্ট। গত ১৩ আগস্ট বিচারপতি মুহাম্মদ আবদুল হাফিজ ও বিচারপতি কাশেফা হোসেনের বেঞ্চ ওই জামিন দেন।

প্রসঙ্গত, এ বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়ার পাঁচ বছর কারাদণ্ড হয়। একইসঙ্গে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ অপর পাঁচ আসামিকে ১০ বছর করে দণ্ড দেন বিচারিক আদালত। ১৯ ফেব্রুয়ারি রায়ের সার্টিফায়েড কপি হাতে পান খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা। এরপর হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় ২০ ফেব্রুয়ারি আপিল করেন খালেদা জিয়া। অন্যদিকে খালেদা জিয়ার সাজা বৃদ্ধিতে দুদক আবেদন করলে হাইকোর্ট রুল জারি করেন। এছাড়া ১০ বছরের দণ্ডপ্রাপ্ত মাগুরার সাবেক এমপি কাজী সালিমুল হক কামাল এবং ব্যবসায়ী শরফুদ্দিনও হাইকোর্টে আপিল করেন। যার শুনানি চলছে এখন।
কারাগারে যাওয়ার পর ওই মামলায় খালেদা জিয়া জামিন নেন হাইকোর্ট থেকে। যার মেয়াদ কয়েক দফায় বাড়ানো হয়। এছাড়াও নিম্ন আদালতে না পেরে হাইকোর্ট থেকে বেশ কয়েকটি মামলায় জামিন নেন তিনি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here