২ হাজার শিল্প কারখানায় নতুন গ্যাস সংযোগ দেয়া হবে

0
159

জাতীয় গ্রীডে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ শুরু হওয়ায় আবার শিল্প কারখানায় গ্যাস সংযোগ দেয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যেই ২ হাজার শিল্প কারখানায় গ্যাস সংযোগ দেয়ার অনুমোদন দিয়েছে সরকার। সারা দেশের বিতরণ কোম্পানিগুলোর মাধ্যমে এই সংযোগ দেয়া হবে। অবশ্য বাসাবাড়িতে গ্যাস সংযোগের ক্ষেত্রে এখনো কোন সুখবর নেই। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের।

সূত্রমতে, বিতরণ কোম্পানিগুলোকে ২ হাজার শিল্প সংযোগের অনুমোদন দেয়া হলেও গ্যাস প্রাপ্তি সাপেক্ষে তাদের সংযোগ দেয়া হবে। ফলে অনুমোদন পেলেও এখনই তারা গ্যাস পেয়ে যাবে এমন নয়। এলএনজি এলেও শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোকে গ্যাস দিতেই হিমশিম খাবে বিতরণ কোম্পানিগুলো। কারন গত কয়েক বছরে হাজার হাজার আবেদন জমা পড়েছে।

জ্বালানি বিভাগের দাবি, এখনো এলএনজি সরবরাহ চট্টগ্রামের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখতে হচ্ছে। চট্টগ্রাম রিং-মেইন পাইপ লাইনের দৈনিক সরবরাহ ক্ষমতা ৩৫০ মিলিয়ন ঘনফুট। সঙ্গত কারণে আনোয়ারা- ফৌজদারহাট গ্যাস পাইপ লাইনের কাজ শেষ না হলে এলএনজি পূর্ণমাত্রায় সরবরাহ করা যাবে না। তবে চট্টগ্রামে গ্যাস সরবরাহ কমিয়ে ওই গ্যাস দেশের অন্য এলাকায় সরবরাহ করা হলে সংকট কমে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এতেও খুব বেশি উন্নতির আশা নেই। কারণ এখনও ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুটের বেশি ঘাটতি রয়েছে। আগামী বছরের প্রথম দিকে এলএনজির সরবরাহ ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুটে দাড়াবে।

সূত্র জানায়, বাসাবাড়িতে গ্যাস দেওয়ার জন্য দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন যে পরিমাণ বাড়ানো উচিত, তা হচ্ছে না। এখন যে গ্যাস আমদানি করা হচ্ছে তার দাম তুলনামূলক অনেক বেশি। কাজেই সরকার এই গ্যাস শিল্পে ব্যবহারের পক্ষে। বিশেষ করে আমদানিকৃত এলএনজির একটি বড় অংশ বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহার করতে চায়। এ প্রসঙ্গে বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, বাসাবাড়িতে আর গ্যাস দেওয়ার পক্ষে নয় সরকার। এমনকি অপরিকল্পিত শিল্পায়নেও সরকার গ্যাস দেওয়াকে নিরুৎসাহিত করছে।

তিতাসের গ্যাসের এক কর্মকর্তা বলেন, আগে থেকে গ্যাস সংযোগ রয়েছে এমন বাসায় নতুন চাহিদা তৈরি হলে গ্যাস দেওয়ার জন্য একবার আলোচনা হলেও শেষপর্যন্ত তা ফলপ্রসূ হয়নি। ওই কর্মকর্তা বলেন, একবার বাসাবাড়িতে গ্যাস সংযোগ উন্মুক্ত হলে এই সুযোগ বিভিন্ন পক্ষ নিতে পারে, এমন ধারণা থেকেই জ্বালানি বিভাগ ওই পদক্ষেপ থেকে সরে যায়।

উল্লেখ্য, ২০১০-এ গৃহস্থালির সংযোগ বন্ধ করার সময় বলা হয়, গ্যাসের উৎপাদন দৈনিক ২ হাজার ২০০ মিলিয়ন ঘনফুটে পৌঁছলে আবার সংযোগ উন্মুক্ত করা হবে। ২০১৪ সালের নির্বাচনের ঠিক আগে আবাসিকে গ্যাস সংযোগ উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে ২০১৫ সালের শেষ দিকে আবার আবাসিকের গ্যাস সংযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়।

জ্বালানি বিশেজ্ঞরা অবশ্য মনে করেন, আমদানি করা গ্যাস বাসাবাড়িতে সংযোগ না দিয়ে শুধু শিল্পের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখা উচিৎ। আবাসিকে গ্যাস সংযোগ দেয়ার জন্য নিজস্ব গ্যাস উত্তোলনের উদ্যোগ নিতে হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here