অভিষিক্ত জয়াবিক্রমের স্পিনে দিশেহারা বাংলাদেশ

0
26

জয়ের লক্ষ্য ৪৩৭ রানের, ড্র করতেও খেলতে হবে প্রায় দেড়শ ওভার- শ্রীলঙ্কা সফরের শেষ ম্যাচে এমন কঠিন সমীকরণের মুখে পড়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। কিন্তু এর জবাবে শুরুটা মোটেও ভালো হয়নি সফরকারীদের। দলীয় সংগ্রহ একশ পেরুতেই সাজঘরে ফিরে গেছেন টপঅর্ডারের তিন ব্যাটসম্যান।

ম্যাচের চতুর্থ দিনের দ্বিতীয় সেশন শেষে ৪৩৭ রানের লক্ষ্যে বাংলাদেশ দলের সংগ্রহ ৩ উইকেটে ১১২ রান। জয়ের জন্য এখনও বাকি ৩২৫ রান। হাতে রয়েছে ৭ উইকেট ও চার সেশন। অসাধ্য সাধনের লক্ষ্যে চতুর্থ উইকেটে জুটি বেঁধেছেন মুমিনুল হক ও মুশফিকুর রহীম।

বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসে একাই ৬ উইকেট নিয়েছিলেন অভিষিক্ত বাঁহাতি স্পিনার প্রবীণ জয়াবিক্রম। ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছেন দ্বিতীয় ইনিংসেও। প্রথম তিন উইকেটের মধ্যে ২টিই গেছে জয়াবিক্রমের ঝুলিতে, অন্যটি নিয়েছেন অফস্পিনার রমেশ মেন্ডিস।

ম্যাচের প্রথম ইনিংসে ৭ উইকেটে ৪৯৩ রান করে ইনিংস ছেড়েছিল শ্রীলঙ্কা। জবাবে বাংলাদেশ দল অলআউট হয় ২৫১ রানে। নিয়ম মোতাবেক বাংলাদেশ ফলোঅনে পড়লেও, তা করাননি লঙ্কান অধিনায়ক। ২৪২ রানের বিশাল লিড নিয়ে নিজেরাই ব্যাটিংয়ে নামেন দ্বিতীয় ইনিংসে।

আজ (রোববার) ম্যাচের চতুর্থ দিন দ্বিতীয় সেশনে ইনিংস ঘোষণার আগে শ্রীলঙ্কা করেছে ৯ উইকেটে ১৯৪ রান। প্রথম ইনিংসের ২৪২ রানসহ তাদের লিড দাঁড়িয়েছে ৪৩৬ রানের। এ রান তাড়া করে ম্যাচ জিততে হবে বাংলাদেশকে। যা রীতিমতো অসাধ্য সাধনের এক মিশন।

নিজেদের টেস্ট ইতিহাসে সর্বোচ্চ ২১৫ রান তাড়া করে জেতার রেকর্ড রয়েছে বাংলাদেশের। আর সাদা পোশাকের অভিজতা ক্রিকেটে রান তাড়া করে জেতার বিশ্বরেকর্ড ৪১৮ রানের। অর্থাৎ ম্যাচ জিততে এখন ইতিহাসই গড়তে হবে মুমিনুল হক, মুশফিকুর রহীমদের।

শ্রীলঙ্কার ৯ উইকেট নেয়ার পথে ক্যারিয়ারে অষ্টমবারের মতো ফাইফার তথা ৫ উইকেট নিয়েছেন বাঁহাতি স্পিনার তাইজুল ইসলাম। এ নিয়ে বিদেশের মাটিতে দ্বিতীয়বারের মতো ফাইফার পেলেন তিনি। বাংলাদেশের হয়ে তার চেয়ে বেশি ফাইফার রয়েছে শুধুমাত্র সাকিব আল হাসানের (১৮)।

৪৩৭ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে চলতি সিরিজে চতুর্থবারের মতো প্রথম ওভারেই বাউন্ডারি হাঁকান তামিম। রমেশ মেন্ডিসের করা পরের ওভারেই হাঁকান ছক্কা। তার শরীরী ভাষায় স্পষ্ট ছিল আত্মবিশ্বাসের ছাপ। সুরঙ্গা লাকমলের করা সপ্তম ওভারের প্রথম দুই বলেই হাঁকান জোড়া বাউন্ডারি।

কিন্তু তামিমকে বেশিক্ষণ টিকতে দেননি অফস্পিনার মেন্ডিস। অষ্টম ওভারের প্রথম বলে দারুণ টার্ন এন্ড বাউন্সে কট বিহাইন্ড হন ২৪ রান করা তামিম। একই ওভারে ফিরতে পারতেন নাজমুল শান্তও। রমেশের হালকা টার্ন করা বল ছেড়ে দেন তিনি, আঘাত হানে প্যাডে। আম্পায়ার আউট দেননি। রিভিউ নিয়েও লাভ হয়নি শ্রীলঙ্কার।

পরে সাইফ হাসান ও নাজমুল শান্ত মিলে ওয়ানডে মেজাজে গড়েন ৪২ রানের জুটি। অতিরিক্ত আক্রমণাত্মক হওয়ার মাশুল দিতে হয় সাইফকে। জয়াবিক্রমের করা ইনিংসের ১৭তম ওভারে বড় শট খেলতে গিয়ে এক্সট্রা কভারে লাকমলের হাতে ধরা পড়েন ৫ চার ও ১ ছয়ের ৩৪ রান করা সাইফ।

এরপর মুমিনুল হকের সঙ্গে জুটি বেঁধে দলীয় শতরান পার করান নাজমুল শান্ত। তবে সাজঘরে ফিরে যান এর পরপরই। জয়াবিক্রমের অসাধারণ এক ডেলিভারিতে সরাসরি বোল্ড হয়ে যান শান্ত। তার ব্যাট থেকে আসে ২৬ রানের ইনিংস।

সেশনের বাকি সময়ে আর বিপদ ঘটতে দেননি মুমিনুল ও মুশফিক। অধিনায়ক মুমিনুল ২৭ ও মুশফিক ১ রানে অপরাজিত রয়েছেন। সূত্র : জাগোনিউজ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here