আওয়ামী লীগের জনপ্রিয়তা

0
59

অনেকদিন যাবতই প্রশ্নটি অনেকেরই মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে। বলতে দ্বিধা নেই আমারও। নিঃসংকোচে বলা চলে আওয়ামী লীগ যদিও আজ দেশের বৃহত্তম রাজলৈনতিক দল, আজ আর তার সেই জনপ্রিয়তা নেই। আগে যেভাবে নৌকা প্রতীক নিয়ে কোন নির্বাচনে দাঁড়ালে কলাগাছও ভোটে জিতে যেত, সেদিন এখন আর নেই।

এই তো বিগত ৮ ফেব্রুয়ারি সকালে গেলাম আমার মাতৃভূমি ভুলবাড়িয়ার মাটির স্পর্শ গ্রহণ করতে-ঐ মাটিতে একটা প্রণাম জানাতে। নষ্টালজিক-আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছিলাম ওখানে গিয়ে। করোনার কারণে সরকারি নির্দেশে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুরি বন্ধ থাকায় সকল শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং ছাত্র ছাত্রীদের সাথে দেখা দেখা না হলেও আমরা যাব টেলিফোনে এই খবর পেয়ে প্রধান শিক্ষিকা নির্দিষ্ট সময়ের আগেই গিয়ে স্কুলের অফিস ঘর খুলে অপেক্ষার করছিলেন আমাদের জন্যে। তাঁর ডাক নাম লাইলি। আরও ছিলেন ২/৩ জন শিক্ষক ও কর্মচারী। আদর আপ্যায়ন-গল্প চললো অনেক্ষণ-সঙ্গে সঙ্গে চা-বিস্কুট-চানাচুরও।

গিয়েছিলাম তিন প্রজন্মের ছয়জনও বলা চলে বিরাট বাহিনী সঙ্গে ছিলেন পূরবী (আমার সহধর্মিনী ছোট ছেলে প্রলয়, বৌমা কল্যাণী, নাতি (অষ্ট্রেলিয়ার এক বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠরত কিন্তু সাড়ে তিন বছর পর মাস তিনেকের জন্যে দেশে আগহত) পৃথ্বীরাজ ও নাতনি পৃথা। ভুলবাড়িয়া পাবনা জেলার সাঁঞিয়া উপজেলার অধীনস্থ ভুলবাড়ীয়া ইউনিয়নের ভুলবাড়িয়া গ্রামে। এম.পি. আওয়ামী লীগের এম.পিদের স্কুলগুলির ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হতে পারবেন না-উচ্চ আদালতের এমন রায়ের পর এম.পির ঐ পদে থাকতে পারছে না বটে তবে তাঁর আনঅফিসিয়ালি নমিনী হিসেবে এই দলীয় চেয়ারম্যান বা অন্য কেউ সভাপতি হচ্ছেন। এই নমিনিরত স্বভাবত:ই নামকা ওয়াস্তে চেয়ারম্যান বা সভাপতি-কার্য্যত: এম.পিরাই কলকাঠি নাড়েন এবং সশরীরে প্রায়ই উপস্থিত হয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রভাব বিস্তার করেন।

এবারের আগে যতোবার নিজে থেকে অথবা হাইস্কুলের কোন অনুষ্ঠানে সন্ত্রীক গিয়েছি দেখেছি নৌকা প্রতীকে আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান। এবার গিয়ে খোঁজ নিয়ে জানলাম নৌকা প্রতীকে দাঁড়িয়ে এম.পির প্রচেষ্টা তার অনুকূলে থাকলেও, ওই ইউনিয়নের মানুষ তাকে ভোট না দিয়ে একজন বিদ্রোহী প্রার্থীকে ভোট দিয়ে জিতিয়েছেন। এ এক অবিশ্বাস্য বিজয়।

একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় জাতীয় দৈনিক তার ৮ ফেব্রুয়ারি তারিখে প্রকাশিত সংখ্যায় চার কলাম ব্যাপী ব্যানার শিরোনাম করে লিখেছে, “রক্তাক্ত ভোটে আওয়ামী লীগ ধরাশায়ী। খবরটির বিবরণে দেখানো হয়েছে: “সংঘাত, সংঘর্ষ ও প্রাণহানির মধ্য দিয়েই শেষ হলো দশম ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন। ছয় জন নিহত হওয়ার মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছিল ভোটের প্রথম ধাপ। সপ্তম ধাপে ১৩৬ ইউনিয়ন পরিষদের ভোটে দু’জন নিহত হয়েছেন। প্রাণহানি ছাড়াও অনিয়ম, বিনাভোটে জয়সহ নানা নেতিবাচক উদাহরণ তৈরী করেছে এবারের নির্বাচন। চেয়াম্যান পদে দলীয় প্রতীকে ভোট হলেও দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপি এই ভোটে প্রতীক বরাদ্দ দেয় নি। তবু কঠিন পরীক্ষার মধ্যে পড়তে হয়েছে নৌকা প্রতীকের প্রার্থীদের। অনেক ইউপিতে নিজ দলের মনোনয়ন বঞ্চিত স্বতন্ত্র প্রার্থীদের কাছে তাদের নাকানি চুবানি খেতে হয়েছে। আবার কোথাও জামানত রক্ষার মত ন্যূনতম ভোটও পান নি ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীরা।’’

সারাদেশে মোট ইউনিয়ন পরিষদের সংখ্যা ৪ হাজার ৫৭৪ টি। সাকুল্য ভোট হিসাব করলেও আওয়ামী লীগের চেয়ে এগিয়ে রয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। ৮ ফেব্রুয়ারি পর্য্যন্ত ভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে ৪,১৩৮ টিতে। মামলাও সীমানা জটিলতা থাকায় ৪৩৬ টি ইউনিয়ন পরিষদে তফশিল ঘোষণা করা হয় নি।

ঐদিন ভোটশেষে নির্বাচন কমিশন কার্য্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত সচিব অশোক কুমার দেবনাথ জানান, নির্বাচনে কিছু অনাকাংখিত ঘটনা ঘটেছে। নির্বাচনী সহিংসতায় দুইজন নিহত হয়েছেন। ছয়টি কেন্দ্রের ভোট স্থগিত করা হয়েছে।

গত ৭ ফেব্রুয়ারি ৩১ টি ইউ.পির ফল রাত্রি ৮টা পর্যন্ত জানা গেছিল। এর মধ্যে ১৬টিতে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন-আর স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জিতেছেন ১৪ জন। অপরটিতে জিতেছেন জাতীয় পার্টির সাবেক মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর নেতৃত্বাধীন জাতীয় পাটির মনোনীত প্রার্থী। তাহলে তো দেখা যাচ্ছে, আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীরা চেয়ারম্যান পদে প্রায় অর্ধেক আসনে জিতেছেন অর্ধেক আসনে হেরেছেন। এই ইউ.পিতে বিজয়ী অন্যান্যদের মধ্যে রয়েছেন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী তিনজন, বিএনপির স্থানীয় নেতা রয়েছেন চারজন এবং দলীয় পরিচয় বিহীন রয়েছেন সাতজন।

এর আগের ধাপে নৌকা প্রতীকের প্রার্থীরা জিতেছেন দুই হাজার ১৩২ টি চেয়ারম্যান পদে। এর মধ্যে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় জয়ী ঘোষিত হয়েছেন ৩৭১ জন। বিপরীতে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা চেয়ারম্যান পদে জয় পেয়েছেন ১,৬৯২ টিতে।

নির্বাচনী সহিংসতার ক্ষেত্রে বেশীর ভাগ স্থানে নৌকার সমর্থকদের সাথে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীদের সংঘর্ষ ঘটেছে। বেসরকারি সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্রের হিসেবে ইউ.পি. ভোটের সহিংসতায় ১১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। আর সাংবাদিকদের সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী ঐ দিন পর্য্যন্ত প্রাণহানি ১৪০ জনে পৌঁছেছে। এর মধ্যে প্রথম ধাপে দুই পর্বে ছয়জন, দ্বিতীয় ধাপে ২৮ জন, তৃতীয় ধাপে ২৬জন, চতুর্থ ধাপে ৯জন, পঞ্চম ধাপে ২০জন, ষষ্ঠ ধাপে দুইজন এবং সপ্তম ধাপে আগের দিন পর্যন্ত দু’জন নিহত হয়ছেন। বাকীরা নির্বাচনী প্রচারকালে সংঘর্ষে নিহত হয়েছেন। ভোটের দিন আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর গুলিতেও কয়েকজনের প্রাণহানি ঘটেছে।

আজ ১০ ফেব্রুয়ারিতেই নির্বাচন কমিশনের অধীনে শেষ ধাপের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। নির্বাচনে হারজিত বা মৃত্যু ও সহিংসতার খবর পৌঁছানোর সময় এই নিবন্ধ লেখা পর্য্যন্ত জানা যায় নি। সর্বশেষ জানা গেল, মোটমাট ১০০ বা ততোধিক মানুষের মৃত্যু ঘটেছে নির্বাচনী সহিংসতায়।

যতদূর জানা গেছে ৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বিনাভোটে ৩৭১ সহ নৌকাসহ চেয়ারম্যান পদে নৌকা জয়ী হয়েছে ২,১৪৪ ইউ.পিতে আর স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন ১৭৩৬ টিতে। জয়ের ব্যবধান অত্যন্ত কম-যা ১৯১৬ সালে দলীয় প্রতীকে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থী মনোনয়ন প্রথা প্রচলনের পর থেকে এবারই প্রথম ঘটলো।

বিষয়টি বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে
প্রথমত: গ্রাম-গ্রামাঞ্চল পর্য্যন্ত আওয়ামী লীগের জনপ্রিয়তা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে-এমন কি, তা মোট প্রদত্ত ভোটের অর্ধাংশেরও কম পড়েছে নৌকায়।

দ্বিতীয়ত: আওয়ামী লীগের আভ্যন্তরীণ কোন্দল, দলবাজি, অর্থ ও অস্ত্রের মাধ্যমে বিজয় ছিনিয়ে আনা, কোন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে দাঁড়াতে না দিয়ে একক প্রার্থী সেজে নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দিতায় নির্বাচিত হওয়ার প্রবণতা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছে শিকড় পর্যায়ে নির্বাচনকে প্রহসনে পরিণত করে গণতন্ত্রান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রবর্তনে বিঘ্ন সৃষ্টি করে চলেছে।

তৃতীয়ত: ভোটে ক্ষেত্রে বিশেষে সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্প ছড়িয়ে নির্বাচনে বিজয়লাভের প্রচেষ্টা দৃশ্যত: বৃদ্ধি পেয়েছে এবং নির্বাচন পরিচালনা কর্তৃপক্ষও শাসক দলীয় প্রার্থী অনেকের পক্ষে প্রকাশ্যে-অপ্রকাশ্যে ভূমিকা গ্রহণ করে নির্বাচন ব্যবস্থা প্রহসনে পরিণত করেছে।

চতুর্থত: ভোট দাতার সংখ্যার ক্রমাবনতি ঘটে চলেছে। গড়ে এই নির্বাচনের বিভিন্ন স্তরে ভোট দাতার সংখ্যা রীতিমত কমেছে বলে নির্বাচন কমিশনই স্বীকার করেছে।

পঞ্চমত: এই গোটা প্রক্রিয়া দেশের গণতন্ত্রের পুন:স্থাপনে রীতিমত উদ্বেগজনক বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

পদ্মাসেতু, রূপপুর আনবিক প্রকল্প, মেট্রোরেল প্রবর্তন প্রভৃতি মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নে তৎপরতা যথেষ্ট এবং এগুলি নির্মাণ কাজ সমাপ্ত হলে যে বিপুল উন্নয়ন পরিলক্ষিত হবে এই বছর শেষ হতে না হতেই তাকে ‘উন্নয়নের জোয়ার’ বলে আখ্যায়িত করলেও ইউনিয়ন পরিসদগুলির সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে এবং পৌরসভার মেয়র পদেও (যেমন পাবনা পৌরসভা) আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর পরাজয নিঃসন্দেহে ওই উন্নয়ন জনগণকে উৎসাহিত, অনুপ্রাণিত করার বদলে স্পষ্টত:ই তাকে উপেক্ষার মনোভাব প্রকাশ করে চলেছে।

কারণস্বরূপ বলা যায়, ঐ সব মেগা ও অন্যান্য প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকার দলীয় ঠিকাদার ও সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় এক শ্রেণীর ব্যাপক দুর্নীতি; দ্রব্যমূল্যের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি জনিত কারণে জনজীবনে গভীর বিপর্য্যয় সৃষ্টি; মধ্যবিত্ত, নিম্নবিত্ত ও বিত্তহীন মানুষদের (যারা মোট জনসংখ্যার প্রায় ৯০ শতাংশ, বেকারত্ব হারে ক্রমবৃদ্ধি, অপেক্ষাকৃত ক্ষুদ্র প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে তৃণমূলের জনজীবনের উন্নয়ন ঘটিয়ে বেকারত্ব হ্রাস প্রভৃতি না করাকেই আওয়ামী লীগের জনপ্রিয়তায় ধস নামার কারণ হিসেবে পর্যবেক্ষকেরা মনে করছেন। লক্ষ্য করলেই দেখা যাবে, স্তাবকতা এবং স্তাবকদের সংখ্যা হু হু করে বাড়ছে এবং পরিণামে তারা বিপুল ধন সম্পত্তির অধিকারী হচ্ছে, সংসদ রাজনীতিকদের পরিবর্তে ব্যবসায়ীদের দিয়ে পূর্ণ করা হচ্ছে, শিখা ক্ষেত্রে সাম্প্রদায়িক পাঠ্যসূচীর মাধ্যমে সাম্প্রদায়িক মানুষ সৃষ্টির প্রক্রিয়া হেফাজতের পরামর্শে গ্রহণের মাধ্যমে শুরু করে মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বিরোধী সমাজ গড়ে তুলে স্বাধীনতার মর্ম মূলে আঘাত হানা হচ্ছে, জামায়াত হেফাজত প্রমুখ দেশ-বিরোধীদেরকে কাছে টেনে নেওয়া এবং স্বাধীনতার সপক্ষের দলগুলিকে দূরে ঠেলে দিয়ে সমগ্র রাজনৈতিক অঙ্গনকে কলুষিত করা, গোটা দেশকে পারিবারিককিরণের পথে নিয়ে দাঁড় করিয়ে জাতির অপর সকল নেতা ও বুদ্ধিজীবীদের অবদানকে কার্য্যত: ইতিহাস থেকে মুছে দেওয়ার মাধ্যমে মোশতাকদের প্রাধান্য গড়ে ওঠার বিপজ্জনক পরিস্থিতি জাতির সচেতন ও দেশপ্রেমিক অংশকে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে।

সব কিছুর মিলিয়ে ভাবতে গেলে আরও ভয়ংকর তথ্য বেরিয়ে আসে। যেমন দুর্নীতিমূলক ও আয় বর্হিভূত পন্থায় অর্জিত বিপুল সম্পদের মালিককে মন্ত্রীত্বের আসন দিয়ে সম্মানিত করা, লক্ষ লক্ষ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করে অসংখ্য মানুষ যে মারাত্মক দুর্নীতি করে চলেছে তার প্রতি সীমাহীন উদাসীনতা এবং তাদেরকে আইনের আওতায় না আনা-ইত্যাদি ঘটনা মানুষ সইবে কী করে। কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে শিক্ষার উন্নয়ন না ঘটিয়ে এবং ছাত্র সংসদ নির্বাচন দশকের পর দশক ধরে বিনাকারণে বন্ধ করে রেখে দেশে ভবিষ্যত নেতৃত্ব গড়ে ওঠার পথও রুদ্ধ করে রাখা হয়েছে।

একটিবার প্রকৃত অর্থে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে গণেশ উল্টে যাওয়া সম্ভবত: ঘটে যেতে পারে। সূত্র : চ্যানেল আই

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here