আমরা সুরক্ষা চাই কিন্তু মনমানসিকতা পরিবর্তন করি না

0
128

আমরা রাতে ঘুমানোর সময় দরজায় তালা বা লক করে ঘুমাই। কারণ নিরাপত্তা। এটা করি পরিবারের সকলের জন্যে। আমাদের চারপাশ বা সমাজ যদি এমন হত যে প্রত্যেকেই প্রত্যেকের নিরাপত্তাকে গুরুত্ব দিতাম তাহলে দরজায় তালা লাগানোর কোনো প্রয়োজন হত না। অনেকে হয়ত বলবেন তালার কারখানাই বা তাহলে কেমনে চলত। আদতে আমরা ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিয়ে যতটা ভাবি তারচেয়ে অনেক কম ভাবি সামাজিক নিরাপত্তা নিয়ে। সামাজিক দায়িত্ব পালনে আমাদের ভূমিকা অনেক গৌন। কিন্তু সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারলে ব্যক্তিগত বা পারিবারিক নিরাপত্তার গ্যারান্টি কখনো পাওয়া সম্ভব নয়। কারণ আমরা ঘর থেকে বের হলেই তো আদতে সামাজিক জীবে পরিণত হই। লেনদেন করতে হয়। একে অপরের সাহচর্যে যেতে হয়। সামাজিকভাবেই আমরা প্রত্যেকে অপরের ওপর নির্ভরশীল।

আমরা যখন গ্যাসের চুলা ধরাতে ম্যাচের কাঠি ঘষা লাগাই তখন আগুন জ¦লে ওঠে। গ্যাসের সংস্পর্শে এলে তা দাউদাউ করে জ¦লে ওঠে। এখনো ম্যাচ ভেজা থাকলে হাজার ঘষা লাগালেও আগুন জ¦লে না। কাঠি ভেঙ্গে যেতে পারে। গ্যাস না থাকলে আবার কাঠি পুড়ে শেষ হয়ে যাবে। উদ্দেশ্য সাধন হবে না। মানে চুলায় রান্না চড়বে না। দেখুন ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজ এখানে ম্যাচ, কাঠি ও চুলার সঙ্গে মিলিয়ে তুলনা করুন, উদ্দেশ্য সাধনের জন্যে কতকিছু করতে হয়। তাই মনমানসিকতার পরিবর্তন আমাদের জন্যে এতটা জরুরি।

আমরা পবিত্র কোরানে সুরা মুজাম্মিল শুনি বা পড়ি তাহলে প্রথম কয়েকটি আয়াতে আমরা দেখি ঃ

‘হে বস্ত্রাবৃত! ২-৪. তুমি রাতে প্রার্থনার জন্যে দাঁড়াও, রাতের অর্ধেক বা তার চেয়ে কিছু কম বা কিছু বেশি সময় নিয়ে। তুমি সে-সময় কোরআন তেলাওয়াত করো শান্তভাবে, সুস্পষ্ট উচ্চারণে, অর্থের প্রতি মনোযোগী হয়ে।’

৫-৭. ‘আমি তোমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ বাণী নাজিল করতে যাচ্ছি। নিঃসন্দেহে ইবাদতের জন্যে রাতে ওঠা আত্মসংযমে সহায়তা করে, অন্তরের ধ্বনিকে করে স্পষ্টতর। অবশ্যই দিনে তুমি থাকবে কর্মব্যস্ত।’

৮. ‘কিন্তু (দিন হোক বা রাত) সবসময়ই তোমার প্রতিপালকের নাম স্মরণ করো এবং একাগ্রচিত্তে তাঁর প্রতি নিবেদিত থাকো। ৯. তিনি উদয়াচল ও অস্তাচলের মালিক। তিনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই। অতএব তাঁকেই তুমি তোমার একক কর্মবিধায়করূপে গ্রহণ করো। ১০. সত্য অস্বীকারকারীরা তোমার বিরুদ্ধে যা-ই বলুক, তুমি ধৈর্য ধরো এবং সৌজন্যসহকারে ওদের এড়িয়ে চলো।’

১১-১৪. ‘যারা সত্য অস্বীকার করছে, ওদের বিষয়টি আমার ওপর ছেড়ে দাও। জীবনের বিলাস-সামগ্রী ওরা ভোগ করছে, তা ভোগ করার জন্যে আরো কিছুটা সুযোগ দাও। ওদের জন্যে আমার কাছে আছে শৃঙ্খল ও গনগনে আগুন, আছে এমন খাবার যা গলায় আটকে যায়, আছে আরো যন্ত্রণাদায়ক আজাব। আর তা বাস্তবরূপ লাভ করবে সেদিন, যেদিন পৃথিবী প্রকম্পিত হবে, পাহাড়-পর্বত চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে পরিণত হবে উড়ন্ত ধূলিকণায়।’

সুরা মুজাম্মিলে যেন আমাদের জীবনে মনমানসিকতার কতটা পরিবর্তন জরুরি তা চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখানো হয়েছে। আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক আমাদের জীবনের মানে খুঁজে পেতে সাহায্য করে। আর এ সাহায্য চাওয়ার উৎকৃষ্ট সময় রাতে। দিন থাকে কর্মব্যস্ততা। রাতে পরিশ্রান্ত হয়ে ঘুমানোর ফাঁকে কেউ উঠে নামাজে রত হলে তা আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করার পাশাপাশি মনের মাঝে এক কঠিন সংকল্প তৈরি করে। দৃঢ়তা আনে। সাহসী করে তোলে মনকে। লক্ষ্য অর্জনে দোদুল্যমনতা কেটে যায়। কিন্তু অলসতা আমাদের মনে এক কমফোর্ট জোন তৈরি করে ফেলেছে। আর শয়তানতো সবসময় এধরনের অলসতায় এসে হাত পা টেপে। ধোঁকা দেয়। উঠি। আজ না কাল উঠব। মন মানসিকতার পরিবর্তনে কঠিন সংকল্পেও শিথিলতা এসে পড়ে। দিন যায়, রাত আসে। রাত যায়, দিন আসে। এধরনের জীবন আমাদের এক ধরনের ঘোরের মধ্যে ফেলে রাখে। যখন ঘোর কেটে যায় তখন আর অবশিষ্ট কিছুই থাকে না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here