ইউরোপীয় ইউনিয়নে করোনার টিকাদান কর্মসূচি শুরু হচ্ছে আজ

0
42

ইউরোপীয় ইউনিয়নে আজ (২৭ ডিসেম্বর) থেকে শুরু হচ্ছে গণহারে করোনাভাইরাসের টিকাদান কর্মসূচি। এ কর্মসূচিকে করোনার বিরুদ্ধে অঞ্চলটির একটি সমন্বিত লড়াই হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এ ঘটনাকে ইউরোপীয় ঐক্যের জন্য একটি ‘মর্মস্পর্শী মুহূর্ত’ মুহূর্ত হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন অঞ্চলটির নেতারা।

ইউরোপিয়ান কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডের শনিবার জানিয়েছেন, এরইমধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭টি সদস্য দেশে ফাইজার-বায়োএনটেক-এর ভ্যাকসিন পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

রবিবার থেকে টিকাদান কর্মসূচি শুরুর কথা থাকলেও হাঙ্গেরি ও স্লোভাকিয়ার মতো কয়েকটি দেশ শনিবারই এ কর্মসূচি শুরু করেছে। দেশগুলো বলছে, তারা আরও একটি দিন অপেক্ষা করতে প্রস্তুত নেয়।

ইউরোপীয় ইউনিয়নে এখন পর্যন্ত করোনায় তিন লাখ ৩৫ হাজারেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। আর করোনাভাইরাস শনাক্ত হওয়া ব্যক্তির সংখ্যা এরইমধ্যে এক কোটি ৪০ লাখ ছাড়িয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় আঞ্চলিক জোটটির প্রায় সবকটি দেশেই বর্তমানে কঠোর বিধিনিষেধ জারি রয়েছে।

এমন সময়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নে গণহারে ভ্যাকসিনটির প্রয়োগ শুরু হতে যাচ্ছে যখন যুক্তরাজ্য থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করেছে নতুন বৈশিষ্ট্যের আরও একটি করোনাভাইরাস। অধিক সংক্রমণ ক্ষমতাসম্পন্ন এ ভাইরাসটি ইতোমধ্যে সুইডেন, সুইজারল্যান্ড, স্পেন, ফ্রান্স, জাপান ও কানাডাসহ বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়েছে।

ইউরোপিয়ান মেডিসিনস এজেন্সি (ইএমএ) এবং ইউরোপিয়ান কমিশন ফাইজার-বায়োএনটেক-এর কোভিড ভ্যাকসিন অনুমোদনের পর শিগগিরই নিজ নিজ নাগরিকদের এর আওতায় নিয়ে আসতে উদ্যোগী হন অঞ্চলটির নেতারা।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, ইউরোপীয় ইউনিয়নের ৪৪৬ মিলিয়ন মানুষকে টিকাদান কর্মসূচির আওতায় নিয়ে আসা হবে।

এদিকে সম্প্রতি যুক্তরাজ্যে থেকে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাসের নতুন স্ট্রেইনটি নিয়ে উদ্বেগ কাটছেই না। কেননা, এটি আগের ভাইরাসের চেয়ে আরও বেশি সহজে এবং দ্রুত গতিতে মানুষের মধ্যে ছড়াতে পারে। এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, এর ফলে আগামী বছর এতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তির হার আরও বেড়ে যাতে পারে। বাড়তে পারে মৃতের সংখ্যাও।

লন্ডন স্কুল অব হাইজিন অ্যান্ড ট্রপিকাল মেডিসিন-এর সেন্টার ফর ম্যাথমেটিক্যাল মডেল অব ইনফেকশাস ডিজিজ-এর সমীক্ষায় দেখা গেছে, করোনাভাইরাসের অন্যান্য স্ট্রেইনের তুলনায় নতুন এই স্ট্রেইনটি ৫৬ শতাংশ বেশি সংক্রমণযোগ্য।

১৯ ডিসেম্বর যুক্তরাজ্যের প্রধান বৈজ্ঞানিক উপদেষ্টা প্যাট্রিক ভ্যাল্যান্স বলেছেন, ভাইরাসটির প্রায় দুই ডজন মিউটেশন রয়েছে যা প্রোটিনকে প্রভাবিত করতে পারে।

আশঙ্কা করা হচ্ছে, ভাইরাসটির নতুন এই স্ট্রেইন সদ্য অনুমোদন পাওয়া ভ্যাকসিনগুলোর কার্যকারিতা কমিয়ে দিতে পারে। তবে ইউরোপের স্বাস্থ্য নিয়ন্ত্রক সংস্থা বলছে, নতুন স্ট্রেইনটির ফলে হয়তো ফাইজার ও বায়োএনটেক-এর টিকার কার্যকারিতায় খুব বেশি হেরফের হবে না।

নতুন রূপে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার জন্য লাখ লাখ মানুষের স্বাস্থ্যবিধি মেনে না চলাকেই মূলত দায়ী করা হচ্ছে। সূত্র: বিবিসি

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here