কুমিল্লায় নবজাতকের মাথা পেটে রেখে দেহ ডাস্টবিনে ফেলার অভিযোগে তদন্ত কমিটি গঠন

0
601

কুমিল্লা দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক প্রসূতির নবজাতককে প্রসব করানোর সময় পেটে মাথা রেখেই দেহ বিচ্ছিন্ন করার ঘটনায় তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

ঘটনার তদন্তের জন্য দেবিদ্বার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের গাইনী বিভাগের জুনিয়র কনসালটেন্ট ডা. তামান্না সোলেমানকে প্রধান করে ৩ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির সদস্য সচিব একই হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা.মঞ্জুর রহমান ও সদস্য মেডিকেল অফিসার ডা. আহসানুল হক মিলু। আগামী ৭ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য কমিটিকে বলা হয়েছে

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ফাতেমা বেগম নামে এক প্রসূতির গর্ভের সন্তান স্বাভাবিকভাবে প্রসবের জন্য ভর্তি হওয়ার পর ওই হাসপাতালের দুই নার্স ও এক আয়া মিলে প্রসব করানোর সময় প্রসূতির পেটে নবজাতকের মাথা দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলে এতে প্রসূতির জীবন সংকটাপন্ন হয়ে পড়লে পেটে সস্তানের মাথার অংশ রেখে তড়িঘড়ি করে তাকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে দেয়া হয়। পরে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক অপারেশন চালিয়ে গতকাল রোববার ওই প্রসূতির গর্ভ থেকে সন্তানের মাথার অংশ বের করে আনলেও তার অবস্থা বর্তমানে আশংকাজনক বলে জানিয়েছেন পরিবারের স্বজনরা। চাঞ্চল্যকর এ ঘটনায় এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।

এ ঘটনায় দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. আহসানুল হক ও ডা. নীলা পারভীন কিছুই জানতেন না বলে দাবি করেন উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আহম্মেদ কবীর।

জানা গেছে, জেলার দেবিদ্বার উপজেলার ফতেহাবাদ ইউনিয়নের লক্ষীপুর গ্রামের সেলিম মিয়ার স্ত্রী ফাতেমা বেগমকে স্বাভাবিক প্রসবের জন্য গত শনিবার বিকাল পৌনে ৩টার দিকে দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. নীলা পারভীনের তত্ত্ববাবধানে হাসপাতালে ভর্তি হন।

ফাতেমার স্বামী সেলিম মিয়া ও স্বজনরা জানান, প্রসব বেদনা থাকলেও কোন চিকিৎসক না থাকায় সন্তান প্রসবের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। হাসপাতালের নার্স আছিয়া ও ঝর্ণা রোগীর স্বজনদের মাধ্যমে সন্তান প্রসবের জন্য বাইরের দোকান থেকে ঔষধপত্র ক্রয় করান। পরবর্তীতে প্রসব বেদনায় প্রসূতি কাতর হয়ে পড়লেও সময়মত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। একপর্যায়ে ওই রাত সাড়ে ১১টার দিকে নার্স আছিয়া, ঝর্না ও ডলি নামের এক আয়া মিলে ফাতেমার গর্ভের সন্তানের পা এবং হাত ধরে টানাটানি শুরু করলে হাত-পাসহ অর্ধেকাংশ ছিঁড়ে প্রসূতির পেট থেকে বেরিয়ে আসে এবং মাথা ছিঁড়ে পেটে থেকে যায়। এ অবস্থায় প্রসূতির জীবন সংকটাপন্ন হয়ে পড়লে গভীর রাতে প্রসূতিকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে দেয়া হয়।

দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আহম্মেদ কবীর জানান, দায়িত্বরত মেডিকেল অফিসার ডা. আহসানুল হক মিলু ও ডা. ডা. নীলা পারভীনকে না জানিয়ে রাতে নার্স সিনিয়র ষ্টাফ নার্স আছিয়া, ঝর্না ও এক আয়া মিলে প্রসূতির গর্ভের সন্তান প্রসব করানোর চেষ্টা করে।

এ বিষয়ে কুমিল্লা জেলা সিভিল সার্জন ডা. মুজিবুর রহমান জানান, দেবিদ্বার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একটি নবজাতকের মৃত্যুর বিষয়ে আমার কাছে যে তথ্য এসেছে তাতে আমি মর্মাহত হয়েছি। এ বিষয়ে তদন্ত কমিটির রিপোর্টের ভিত্তিতে দায়ীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here