কোটি টাকার যন্ত্র অকেজো

0
251

ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কোটি টাকার আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম কোনো কাজে আসছে না। গত ৯ বছরে এসব সরঞ্জাম একবারও রোগীদের জন্য ব্যবহার করা হয়নি। শুধু তা-ই নয়, সঠিকভাবে রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে অপারেশন থিয়েটার ও এর আনুষঙ্গিক মূল্যবান যন্ত্রপাতি ধীরে ধীরে বিকল হয়ে যাচ্ছে। ফলে উপজেলার প্রায় দুই লাখ মানুষ সরকারি স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হয়ে ব্যক্তিমালিকানাধীন ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অতিরিক্ত টাকা ব্যয়ে নিম্নমানের চিকিৎসা নিতে বাধ্য হচ্ছে। এই দুরবস্থার জন্য জনবল সংকটকে দায়ী করছে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষ।

জানা গেছে, ২০০৮-০৯ অর্থবছরে প্রায় চার কোটি টাকা ব্যয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে রাজাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৩১ থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। এ সময় পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন নতুন দুটি ভবন ও অর্ধকোটি টাকা ব্যয়ে আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জামসহ অত্যাধুনিক অপারেশন থিয়েটার নির্মাণ করা হয়। এ সরঞ্জামাদির মধ্যে রয়েছে আধুনিক এক্স-রে মেশিন, ডায়াথামি, ডেন্টাল কেয়ার, অপারেশন টেবিল ও দুটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র। এ ছাড়া নারীদের বন্ধ্যাকরণের জন্য আরো একটি আলাদা অপারেশন থিয়েটার নির্মাণ করা হয়। সব ধরনের আধুনিক ব্যবস্থা থাকার পরও গত ৯ বছরে এ দুটি অপারেশন থিয়েটারে কোনো রোগীর অস্ত্রোপচার হয়নি।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ব্যবস্থাপনা কমিটি সূত্র জানায়, ২০০৯ সালের আগে এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেই রোগীদের এক্স-রে, রক্ত, মলমূত্র, কফসহ নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যবস্থা ছিল। অথচ ৫০ শয্যার হাসপাতাল উদ্বোধনের পর এসব সুযোগ-সুবিধা বন্ধ রয়েছে। ১০ বছর ধরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক্স-রে মেশিনটি বিকল রয়েছে। এ সুযোগে উপজেলা সদরে গড়ে উঠেছে বেশ কিছু ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার। সেখানে অদক্ষ কর্মীদের দিয়ে যেনতেনভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে। ক্লিনিকগুলোতে নেই প্রশিক্ষিত সেবিকা। তাই এসব ক্লিনিকে প্রায়ই রোগীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে। এর পরও অনেকটা বাধ্য হয়ে এসব ক্লিনিকে যাচ্ছে সেবাগ্রহীতারা।

শাহাজাহান মোল্লা নামের স্থানীয় এক ব্যক্তি বলেন, ‘শুনেছি আমাদের সরকারি হাসপাতালে অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতিসহ অপারেশন থিয়েটার রয়েছে। অথচ সেখানে অপারেশন হচ্ছে না। এসব মূল্যবান যন্ত্রপাতি ব্যবহার না করার ফলে তা বিকল হয়ে রয়েছে। এ বিষয়ে সরকারের নজর দেওয়া উচিত বলে মনে করছি।’

এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাহাবুবুর রহমান বলেন, ‘৫০ শয্যায় উন্নীত হওয়ার পর ২৮ জন চিকিৎসকের পদ তৈরি করা হয়। কিন্তু বর্তমানে দায়িত্ব পালন করছেন মাত্র চারজন চিকিৎসক। মূলত জনবল সংকটের কারণে অপারেশন থিয়েটার চালু করা সম্ভব হয়নি।’
সূত্র : কালের কন্ঠ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here