কোরবানির হাটে বিক্রি বেড়েছে, ক্রেতাবিক্রেতা দুপক্ষই খুশি

0
187

গতকাল পশুর হাটগুলোতে ক্রেতার ভিড় ছিলো। সবাই বাজার ঘুরে গরুছাগল দেখছেন, দরদাম করছেন। দুপুর পর্যন্ত খুব বেশি গরু বিক্রি না হলেও এরপরই বিক্রি বেড়েছে। পশু কেনাবেচা চলবে আজ রাতেও পর্যন্ত, ক্ষেত্র বিশেষ ঈদের দিন ভোর পর্যন্ত চলবে বেচাকেনা। ভোরের কাগজ

রাজধানীর মেরাদিয়া পশুর হাটে ১৫টি গরু এনেছেন কুষ্টিয়ার বিক্রেতা আজমল হক। শনিবার পর্যন্ত ৮টি বিক্রি হয়েছে। তিনি বলেন, এই হাটে যারা গরু নিয়ে এসেছেন সবারই কম-বেশি বিক্রি হয়েছে। তার আশা আবহাওয়া স্বাভাবিক থাকলে হাটে আনা প্রায় সব গরুই বিক্রি হবে।

সরেজমিনে দেখা যায়, মেরাদিয়া, বনশ্রী, খিলগাঁও, রামপুরাসহ আশপাশের বেশ কয়েকটি এলাকার বাসিন্দারা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে হাটের ভেতরে ঘুরে দেখছেন, কেউবা পশুর দাম করছেন, আর কেউ ঘুরে দরদাম যাচাই-বাছাই করছেন। খিলগাঁও গোড়ান টেম্পোস্ট্যান্ড এলাকার বাসিন্দা শাকিল ভুইয়া বাবা ও ছোট ভাইসহ গরু কিনতে এসেছেন। ৮০ হাজার টাকা দিয়ে লাল রংয়ের একটি দেশি গরু কিনেছেন। শাকিল জানান, শাহজাহানপুর ও কমলাপুর হাট ঘুরে সবশেষে মেরাদিয়া থেকে পছন্দের গরু কিনেছেন। বাজার ঘুরে কেমন দেখলেন- জানতে চাইলে তার জবাব, বেপারিরা তো দাম বেশি চাইবেই। কিন্তু পছন্দের গরু পাওয়া গেলে দরদাম করে নেয়া যায়। সে ক্ষেত্রে ক্রেতা-বিক্রেতা কারোই লোকসান হয় না।

মেরাদিয়া হাটে গতকাল দুপুরের পর থেকেই ক্রেতাদের ভিড় ছিলো চোখে পড়ার মতো। বিকেলের পর থেকে ভিড় বাড়তেই থাকে। গরু কেনাবেচাও হয় সমান তালে। বাসাবোর বাসিন্দা মো. নাদিমও এসেছেন গরু কিনতে। বাজার ঘুরে ঘুরে দেখছেন, দরদাম করছেন। বিকেল পর্যন্ত গরু কিনেননি তিনি। তবে গরু কিনেই বাড়ি যাবেন, এমন প্রস্তুতি নিয়েই হাটে এসেছেন নাদিম।

হাটের ইজারাদার হাজী মো. শাহ আলম বলেন, বৃহস্পতিবার দিনভর বৃষ্টি হওয়ায় কিছুটা চিন্তিত ছিলাম। কিন্তু গত শুক্রবার থেকে আবহাওয়া ভালো। হাটে প্রচুর গরু আছে। ক্রেতাও আসছেন। বিক্রিও মোটামোটি ভালো। রোববার গভীর রাত চলে পুরোদমে পর্যন্ত কেনাবেচা। বেপারি ও ক্রেতাদের জন্য হাট কমিটি ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে বলেও জানান তিনি। মেরাদিয়া হাটের পাশে রাজধানীর দ্বিতীয় বৃহত্তম হাট বলে পরিচিত আফতাবনগর মাঠের হাটটির ইজারা দিয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন। গতকাল এ হাটটিতেও ছিলো ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়।

ঝিনাইদহ থেকে কমলাপুর হাটে এক সপ্তাহ আগে ৩৫টি গরু এনেছেন আবদুল হালিম মিয়া। গতকাল পর্যন্ত ১৪টি গরু বিক্রি করেছেন। তার আশা, আজ রোববারের মধ্যে সব গরু বিক্রি হবে। তবে শেষ সময়ে গরুর দাম কমে যাওয়ার আশঙ্কা করে জানান, ৭ দিনে ১৪টি গরু বিক্রি হয়েছে। এসব গরুতে মোটামোটি লাভ থাকবে। কিন্তু বাকি ২১টি গরু কি দামে বিক্রি করতে পারব, তা এখনো নিশ্চিত নই। তার কাছে থাকা গরুর দাম ৯০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত। হাটের ইজারাদার জাকির হোসেনও বেচাকেনার বিষয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন।

কমলাপুরের এ হাটটিতে সিরাজগঞ্জ থেকে ১০টি গরু নিয়ে ৪ দিন আগে এসেছেন ইব্রাহিম হোসেন। ইতোমধ্যে ৫টি গরু বিক্রি হলেও বাকি ৫টি নিয়ে ক্রেতার অপেক্ষায় রয়েছেন। অনেকে দাম শুনেই চলে যাচ্ছেন। এ জন্য কিছুটা হতাশ ইব্রাহিম জানান, নিজের হাতে গরুগুলোকে বড় করেছি। বিক্রি করেই বাড়ি ফিরবো। কিছুটা বড় সাইজের গরু হওয়ায় ৮০ হাজার থেকে দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত দাম হাঁকাচ্ছেন তিনি। জানালেন, কিছুটা লাভ পেলেই ছেড়ে দেবেন।

রাজধানীর সবচেয়ে বড় ও একমাত্র স্থায়ী পশুর হাট গাবতলীতে গরু-ছাগলের পাশাপাশি উট-দুম্বার দেখা মিলেছে। গরুর পাশাপাশি ক্রেতারা দুম্বার দিকে ঝুঁকছেন। এখানে গড় সাইজের দুম্বার দাম হাঁকানো হচ্ছে ১৫ লাখ টাকা। আর সাইজ অনুযায়ী আড়াই থেকে সাড়ে ৩ লাখ টাকা দাম চাচ্ছেন বিক্রেতারা। এদিকে, গাবতলী হাটের প্রধান ফটক গতকাল পর্যন্ত ছিলো কর্দমাক্ত। এর মধ্যেই যাওয়া-আসা করছে গরু, মহিষ ও ছাগলবাহী মিনি ট্রাক, পিকআপ গাড়ি। কাদা মাখিয়ে হাটে ঢুকছেন আর বের হচ্ছেন ক্রেতা-বিক্রেতা। উট আর দুম্বা দেখতে ভিড় করেছে ক্রেতা ও দর্শনার্থী। ক্রেতাদের সংখ্যা নেহায়েত কম নয়। তবে দাম-দরে না মেলায় ৪টি উটের মধ্যে ৮ লাখে বিক্রি হয়েছে মাত্র একটি।

দুম্বা ও উটের মালিক আমজাদ হোসেন বলেন, প্রতিবছর কুরবানির ঈদ এলেই গাবতলীর পশুর হাটে উট, দুম্বা আর নেপালি গরু নিয়ে আসি। ভারতের রাজস্থান, গুজরাটের মরুভূমি এলাকা এবং হরিয়ানা থেকে উট ও দুম্বা আমদানি করা হয়। একটি উট বিক্রি হয়েছে। আরো তিনটি আছে। একেকটির দাম হাঁকানো হয়েছে ১৫ লাখ। ১০ থেকে ১২ লাখের মধ্যে বিক্রি করা হবে। আর দুম্বা ওজন ও সাইজ অনুযায়ী দাম হাঁকানো হয়েছে আড়াই থেকে সাড়ে ৩ লাখ টাকা।

এদিকে, রাজধানীর মেরাদিয়া, আফতাবনগর, কমলাপুর, ধোলাইখাল, পোস্তগোলা, হাজারীবাগ, কামরাঙ্গীরচর, মোহাম্মদপুর রায়েরবাজার ও ১০০ ফিটসহ বিভিন্ন হাট সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতিটি হাটেই পশু বেচাকেনার হার বেড়েছে। হাসিল কাউন্টারগুলোতে ছিলো বাড়তি ব্যস্ততা। গরু কিনে ৫ শতাংশ হারে হাসিল পরিশোধ করে ক্রেতারা রশিদসহ গরু নিয়ে যাচ্ছেন।

গরুর পাশাপাশি প্রায় প্রতিটি হাটের এক পাশে বিভিন্ন প্রজাতির ছাগল ও ভেড়া বিক্রির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এসব জায়গা থেকে গরু কেনার পাশাপাশি অনেকেই পছন্দের ছাগল ও ভেড়া কিনছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here