চীনের অর্থায়নে মালদ্বীপে সেতু উদ্বোধন বয়কটের খবর বাংলাদেশের অস্বীকার

0
203

চীনের অর্থায়নে মালদ্বীপে এ যাবৎ কালের সবচেয়ে বড় অবকাঠামো প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান বয়কট করেছে ভারত। দেশটিতে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার অখিলেশ মিশ্র অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ পেলেও তাতে যোগ দেননি। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার হাইকমিশনারকেও দেখা যায়নি। টাইমস অব ইন্ডিয়া এ নিয়ে একটি রিপোর্ট করছে। তাতে ভারতের বয়কটের সিদ্ধান্তের পাশাপাশি বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার হাইকমিশনারের অনুষ্ঠানে যোগ না দেয়ার বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে। রিপোর্টে মালদ্বীপের বিরোধী পার্লামেন্টারি জোটের মুখপাত্র আহমেদ মাহলুফ এমপি, যিনি আগে ন্যাশনাল ফুটবল টিমের ম্যানেজার ছিলেন, তার একটি টুইট বার্তাকে যুক্ত করা হয়েছে।

সেই বার্তায় এ ঘটনায় মালদ্বীপের ওই রাজনীতিক অভিযুক্ত করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট আবদুল্লাহ ইয়ামিনের সিকিউরিটি স্টাফদের। টুইট বার্তায় তিনি লিখেন- বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার অ্যাম্বাসেডর সেতুর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান বর্জন করেছেন।

কারণ দুই দূতের গাড়ি সেতুতে ওঠার পথে প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তায় নিয়োজিত সদস্যরা আটকে দেয়েছিল। দূতদ্বয়কে হেঁটে যেতে বলা হয়েছিল। ওই সেতুতে কেবলমাত্র চীনের রাষ্ট্রদূতকে বহনকারী গাড়িটি যাওয়ার অনুমতি ছিল। এ ঘটনায় মালদ্বীপের ঐতিহ্যবাহী দুই বন্ধু রাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের অপমান করা হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। দিল্লির ডেটলাইনে টাইমস অব ইন্ডিয়া প্রকাশিত ওই রিপোর্ট পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করেছেন মালদ্বীপে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার রিয়ার এডমিরাল কাজী সারওয়ার হোসাইন। এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে গতকাল সন্ধ্যায় মানবজমিনকে তিনি বলেন, ‘এমন কোনো ঘটনাই ঘটেনি। খবরটি মিথ্যা। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যাওয়ার পথে প্রচন্ড- জ্যাম ছিল। তাতে অনেকেই যোগ দিতে পারেননি। সেজন্য হয়তো এমন রিপোর্ট কেউ করেছে।’ এদিকে কেবল টাইম অব ইন্ডিয়া নয়, দক্ষিণ এশিয়ার প্রাচীনতম সংবাদ মাধ্যম এশিয়ান নিউজ ইন্টারন্যাশনাল (এএনআই) ও এ নিয়ে রিপোর্ট করেছে। ‘ইন্ডিয়া বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা স্কিপস ইনাগুরেশন অব চায়না ফান্ডেড ব্রিজ ইন মালে’- শীর্ষক ওই রিপোর্টে বলা হয়েছে- ভারত ও মালদ্বীপের মধ্যে এখন ভালো সময় যাচ্ছে না।

কারণ হিসেবে সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, মালদ্বীপে চীনের ৭২ মিলিয়ন ঋণ সহায়তায় যে সিনামালে ব্রিজ তৈরি হয়েছে তার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভারত তার প্রতিনিধিকে পাঠায়নি। এটা জানা গেছে ভারতীয় দূত অখিলেশ মিশ্র ওই অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত ছিলেন। এএনআই রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, সে যাইহোক, এই অনুষ্ঠান থেকে কেবল ভারতীয় দূতই বিরত থাকেননি। মালদ্বীপের বিরোধী পার্টির মুখপাত্রের একটি টুইট বলছে, সেখানে বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার দূতও যোগ দেননি। ৩০শে আগস্টের ওই অনুষ্ঠান নিয়ে কেবল মালদ্বীপ নয়, শ্রীলঙ্কাসহ বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার ঝড় বইছে। মালের ওই অনুষ্ঠানে ৩ দেশের রাষ্ট্রদূতের অনুপস্থিতি কাকতালীয় না-কী যৌথ সিদ্ধান্তে ঘটেছে তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। কিন্তু এটি নিশ্চিত যে, অনুষ্ঠানে ওই ৩ দেশের রাষ্ট্রদূত আমন্ত্রিত ছিলেন, কিন্তু ট্রাফিক জ্যাম বা অন্য যে কারণেই হোক তারা শেষ পর্যন্ত যোগ দিতে পারেননি। মালদ্বীপ মনে করে ওই ব্রিজ প্রকল্পটি তাদের বর্তমান সরকারের বড় কূটনৈতিক সাফল্য। যা দেশটির বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকারের প্রতি চীনের শক্ত সমর্থনের বহিঃপ্রকাশ। দুই কিলোমিটার দীর্ঘ সেতুটি রাজধানী ও বিমানবন্দর দ্বীপকে যুক্ত করেছে। যদিও সেতুটি নির্মাণে ব্যয় প্রায় ৩ গুণ বেড়ে যাওয়া নিয়ে দেশটির বিরোধী মহল দুর্নীতির অভিযোগ তুলছে।
সৃত্র মানবজমিন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here