চেনা বাংলাদেশ এখন বড্ড অচেনা

0
78

ক্রিকেটে এমন হয়, এবং বিশ্ব আসরেই বেশি হয়। অস্বাভাবিক ক্রিকেট খেলে কোনো কোনো দল অসহায়ের মতো টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে পড়ে ভক্তদের হতাশার অন্ধকারে ডুবিয়ে। কত দ্রুত সব আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয়, তখন সেদিকে থাকে খেলোয়াড়দের নজর। দেশে ফেরার পর জানা যায় দলের মাঝে ঘটে যাওয়া নানা ঝামেলার কথা, অভিযোগের ফিরিস্তি। যদিও সবটা প্রকাশ্যে আসে না, জানতে পারেন না সাধারণ ক্রিকেটভক্তরা।

বাংলাদেশ দলে আসলে কী হচ্ছে তা বিশ্বকাপ চলাকালীন বলা প্রায় অসম্ভব! তবে ২২ গজে ব্যাটারদের অস্বাভাবিক এপ্রোচ দেখে স্পষ্টই বোঝা যায় দলটার মাঝে স্বাভাবিক বিষয়গুলো এখন অনুপস্থিত। খেলোয়াড়দের শারীরিক ভাষা দেখলে মনে হয়, টি-টুয়েন্টিতে ভালো দলের বিপক্ষে ১৫০ রান তোলাও তাদের জন্য অসাধ্য কোনো কাজ।

অথচ অভিযানে নামার আগে দলের অভিজ্ঞ ক্রিকেটাররা কত আশার কথাই না শুনিয়ে গেছেন। তাদের কথায় ‘সেরা সুযোগ’ এখন সবচেয়ে বড় ব্যর্থতার দিকে ধাবিত হচ্ছে একের পর এক হারে। সামনে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, সাউথ আফ্রিকা ও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে খেলা। তিনটি ম্যাচে বাংলাদেশের পক্ষে বাজি ধরার মানুষ খুঁজে পাওয়া কঠিন হবে। কেননা দলটা সহজাত ক্রিকেট খেলতেই ভুলে গেছে!

মাঠের বাইরেও অচেনা হয়ে পড়েছেন দলের খেলোয়াড়রা। কখনো যৌক্তিক প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে সাংবাদিককে কটাক্ষ করছেন, আবার কখনো ভক্তকুলকেই উপেক্ষা করছেন সাধারণ সমালোচনা নিতে না পেরে। আইসিসির আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে কাউকে না পাঠাতে চাওয়া এবং নির্ধারিত সময়ের অন্তত দুই ঘণ্টা পর ব্যাটিং কোচকে পাঠানোও অস্বাভাবিক বাস্তবতারই প্রতিফলন। যা অন্যকোনো দেশের টিম ম্যানেজমেন্টের বেলায় ঘটতে শুনিনি কখনো।

এক বছর পরই অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের আরেকটি আসর। দলের মাঝে যদি অপ্রত্যাশিত কোনো ঘটনা থাকে তা খোলাসা হওয়া জরুরি। কারো সঙ্গে কারোর মতপার্থক্য থাকলে সেগুলো নিয়ে আলোচনার টেবিলেও বসা উচিত। পরের বিশ্বকাপের স্কোয়াড কেমন হবে সেটি এখন থেকেই ভাবনায় রাখা উচিত। আর ভুল থেকে শেখা উচিত। বিশ্বকাপের আগে হোম কন্ডিশনের মাত্রাতিরিক্ত সুযোগ নিয়ে অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ জয় যে খেলোয়াড়দের মিথ্যা আত্মবিশ্বাস যুগিয়েছে, তা এখন দিনের আলোর মতোই পরিষ্কার।

বিশ্বকাপ শুরুর আগে বিসিবির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একজন পরিচালক একটি অনুষ্ঠানে জানালেন, আমাদের মূল টার্গেট ২০২২ বিশ্বকাপ। এবার তার ভালো প্রস্তুতি আশা করেছেন তিনি। কিন্তু পরের বছরের প্রস্তুতি তো হচ্ছেই না, বরং আত্মবিশ্বাস তলানিতে চলে যাচ্ছে। বাছাইপর্বে স্কটল্যান্ডের সঙ্গে হারের পর থেকে দুরু দুরু বুকে খেলছেন আমাদের টাইগাররা।

বাংলাদেশ এমন দল নয় যে, কোনো দলের বোলিং আক্রমণ দেখে পুরোপুরি ভড়কে যাওয়ার মতো। ব্যাটিং দেখে যে কেউ বুঝবে খেলোয়াড়রা অসুখে ভুগছেন। অসুখ মানে এখানে বোঝাচ্ছি সুখের অভাবকে। মাঠের ক্রিকেট যেন একদমই উপভোগ করছে না কেউ। চোখে মুখে শুধু আতঙ্কের ছাপ। তরুণদের মধ্যে ভয়টা তো আরও বেশি। দলের অনেকেরই প্রথম বিশ্বকাপ এটি।

ওমানের বিপক্ষে ম্যাচে হারের শঙ্কায় যেভাবে হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছিল দল, এখনও মনে হয় সেখানেই থমকে আছেন খেলোয়াড়রা। বুঝতে পারছেন না প্রতিপক্ষের পরিকল্পনা, শক্তি-দুর্বলতা। চেনার চেষ্টা করছেন না নিজেদেরও। হারের আগেই হেরে যাচ্ছেন, এমন বাংলাদেশ দলকে তো অচেনা লাগবেই! সূত্র : চ্যানেল আই

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here