জয় পাওয়া দু:সাধ্য তাদেরকেই সাথে রাখতে চায় প্রধান দুই রাজনৈতিক দল

0
261

ণতন্ত্র কার্যকর হওয়ার পর থেকেই দেশের ক্ষমতার লাগাম ঘুরপাক খাচ্ছে প্রধান দুটি রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির হাতে। অথচ ক্ষমতায় যেতে আওয়ামী লীগ, বিএনপি’র মতো বড় দলগুলো নিজেদের ভোট দিয়ে একটি আসনেও জয় পাওয়া অনেকের জন্য দু:সাধ্য তাদেরকেই সাথে রাখতে চায় প্রধান দুই রাজনৈতিক দল। আর তাই নির্বাচন এলেই ব্যানার সর্বস্ব এই দলগুলোর যেন পোয়াবারো সময়। কোনো কেনো ক্ষেত্রে তারা বেশি আসন চেয়ে হুমকি দেয় বড় দলগুলোকেও। তবে রাজনৈতিক বিষেজ্ঞরা মনে করেন, এসব জোট গঠনে অনেক ক্ষেত্রেই উপেক্ষিত থাকছে আদর্শগত মিল।

১৯৯১ সালে ৫ম জাতীয় নির্বাচনে সংসদীয় । এরপর ৬টি জাতীয় নির্বাচন হলেও প্রায় সব দলের অংশ নিয়েছে ৪টিতে। যেখানে ২ বার করে ক্ষমতায় ছিলো আওয়ামী লীগ ও বিএনপি। ৯৬ এর ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে আওয়ামী লীগ আর ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে অংশ নেয়নি বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট।

বর্তমানে নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল আছে ৪০টি। তবে, প্রাপ্ত তথ্য বলছে অংশগ্রহণমূলক ৪টি নির্বাচনে প্রদত্ত ভোটের ৯৩ শতাংশের বেশি ভোট পেয়েছে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি ও জামায়াতে ইসলামীর ৪টি রাজনৈতিক দল। মাত্র ৭ ভাগ ভোট ভাগ করেছে বাকী রাজনৈতিক দলগুলো। তবু প্রতিটি নির্বাচনের আগে এ রাজনৈতিক দলগুলোকে নিয়ে চলে প্রধান দুটি দলের কাড়াকাড়ি। কেন?

এই প্রশ্নের জবাবে রাজনীতি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. রওনক জাহান বলেন, নির্বাচন যারা করছে তারা শেষ পর্যন্ত ক্ষমতায় যাচ্ছে। সে আদর্শ নয় তো বিচ্ছেদ। অনেক সময় এমনও মেরুকরণ হতে পারে, ডান ও বামও খুব বড় একটি ইস্যু হয়ে যেতে পারে।

প্রশ্নটা ছিল প্রধান দুটি রাজনৈতিক দলের কাছেও। তবে ক্ষমতা যাওয়ার জোট গঠনের উদ্দেশ্যে কতটুকু বজায় রাখতে পারে বড় দলগুলো।

আওয়ামী লীগ সভাপতিম-লীর সদস্য লে. কর্নেল (অব.) মুহাম্মদ ফারুক খান বলেছেন, জোটের মাধ্যমে বৃহত্তম জনগোষ্ঠীর মনের আশা আকাঙ্খা জানতে পারছি আর পূরণ করতে পারছি, তাগিদটা তার জন্য। আমরা একলা চলা নীতিতে বিশ্বাস করি না। গণতান্ত্রের যাত্রা ও উন্নয়নে বিশ্বাস করে আমাদের জোট। দীর্ঘদিন ধরে যে জোট আমাদের আছে, এই জোট অব্যহত থাকবে।

২০ দলের সমন্বয়ক ও বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, মূল উদ্দেশ্য হলো নির্বাচনে যাওয়া। যারা গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠাতা, যারা দেশের সুখের জন্য গণতন্ত্রকে পুনঃরায় প্রতিষ্ঠা করতে চায় তারা যেন বিজয়ী হয়। আদর্শ হলো গণতন্ত্রকে পুনঃপ্রতিষ্ঠা, এর চেয়ে বড় আদর্শ নেই। একজনের বদলে আরেক জনকে প্রধানমন্ত্রী করতে চাই এটা তো কোনো রাজনৈতিরক উদ্দেশ্য নয়।

নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ আর বিএনপি’র ২০ দলীয় দলে সময় অসময়ে ভাঙ্গা গড়া চলছেই।
মহা জোটের শরিক জাতীয় পার্টি ৫৯টি দল নিয়ে জোট করলেও নিবন্ধন আছে মাত্র ৩টির। নাজমুল হুদার নেতৃত্বাধীন ৩১ দলের জোট বিএনএ, ৭ দলের ইসলামীক গণতান্ত্রিক জোট এরই মধ্যে আওয়ামী লীগের সাথে থাকার আগ্রহ দেখিয়েছে। ৪ দলের ঐক্য থাকতে পারে বিএনপি’র সাথে। তাছাড়া ৮ দলের বাম গণতান্ত্রিক দল, ৪ দলের প্রগতিশীল জোট নামের আরো অনেক জোটই আসছে নির্বাচনের আগে। সূত্র: সময় টেলিভিশন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here