দুটি গয়না নৌকার দাম কেন ৪০ লাখ টাকা ?

0
122

 দুটি গয়না নৌকায় ৪০ লাখ টাকা ব্যয়ের খবর প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনা শুরু হয়। দুটো নৌকা তৈরিতে এই পরিমাণ টাকা খরচ ‘অস্বাভাবিক’ মন্তব্য করে ফেইসবুকে পোস্ট দেন অনেকে। তাদের সন্দেহ, এত টাকা দিয়ে নৌকা বানানোতে ‘অনিয়ম’ হয়েছে। কেউ কেউ তামাশা করে এই খরচ নিয়ে লিখেছেন, ‘এত কম’!

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, নৌকা দুটি তৈরির এই ৪০ লাখ টাকার মধ্যে প্রায় ১০ লাখ টাকা বিভিন্ন কর হিসেবে গেছে সরকারের খাতায়। বাকি টাকা লেগেছে চারুকলার শিল্পীদের দিয়ে নৌকা তৈরিতে।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে সংসদ লেকে বৃহস্পতিবার ভাসানো হয় আবহমান বাংলার ঐতিহ্যবাহী ও দৃষ্টিনন্দন দুটি গয়না নৌকা। বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের তৈরি করা নৌকা দুটি ভাসিয়ে দেওয়া উপলক্ষে একটি অনুষ্ঠানও হয়। নৌকার লাল-সবুজ পালের মাঝে রয়েছে ‘মুজিববর্ষের’ লোগো। নৌকার ছাউনিতে রয়েছে বিভিন্ন গ্রামীণ নকশা।

বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান রাম চন্দ্র দাস বৃহস্পতিবার জানান, দৃষ্টিনন্দন ২৭ ফুট লম্বা এবং পাঁচ ফুট চওড়া এ নৌকা দুটি তৈরিতে প্রায় ৪০ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। এই নৌকায় একসাথে ২০ জন মানুষ উঠতে পারবেন।

সাধারণ নৌকা বানাতে কেমন খরচ হয় জানতে পিরোজপুরের আটঘরের নৌকার কারিগর সঞ্জীর মিস্ত্রি বলেন, এক মৌসুমে ব্যবহারের জন্য রেইনট্রি বা সারি গাছের একটি ডিঙি নৌকা বানাতে খরচ পড়ে ৪-৫ হাজার টাকা। আর সেটা যদি ৩-৪ মৌসুম ব্যবহারের জন্য করা হয় ১৫ হাজার টাকার বেশি লাগে।

গয়না নৌকা বানাতে খরচ কেমন হয় জানতে চাইলে সঞ্জীব বলেন, “ছোট একটা গয়না নৌকা বানাতে কমপক্ষে ৭০ হাজার টাকা লাগে। যেটা খুব সাধারণ। আর যদি খুব ভালো কাঠ দিয়ে বানানো হয় তবে ৫ লাখ টাকা লাগবেই। এগুলো ছোট গয়না নৌকা। বড় হলে আরও বেশি খরচ পড়বে। আর ভালো কাঠ দিলে খরচ আরও বাড়বে।” নকশার কারণে গয়না নৌকা তৈরিতে সময় ও খরচ বেশি লাগে।

সম্প্রতি নৌকার ব্যবসা শুরু করেছে প্লাস্টিক পণ্য প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান আরএফএল। তাদের ফাইবার গ্লাসের (ফাইবার রিইনফোর্সড প্লাস্টিক-এফআরপি) তৈরি নৌকার দাম ধরা হয়েছে ১১ হাজার ৯০০ টাকা থেকে সাত লাখ ৪০ হাজার টাকার মধ্যে।

সংসদ লেকে ভাসানো নৌকা দুটির নকশা করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটের প্রিন্ট মেকিং বিভাগের অধ্যাপক আনিসুজ্জামান। তার তত্ত্বাবধানেই ৩০ জন মিস্ত্রি এই দুটো নৌকা বানাতে কাজ করেছেন।

প্রখ্যাত চিত্রশিল্পী হাশেম খানও নকশাতে কিছু সংযোজন-বিয়োজন করেছেন বলে পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান জানিয়েছেন।

নৌকা দুটি তৈরিতে খরচ বেশি হয়েছে বলে যে সমালোচনা উঠেছে সে বিষয়ে জানতে চাইলে রাম চন্দ্র বলেন, “আপনি জানেন যে, সরকারি খরচে কোনো কাজ হলে তার একটি নিয়ম আছে। আমরা যখন এই কাজের পরিকল্পনা করলাম তখন অনেকেই এর চেয়ে বেশি খরচ দেখিয়ে এস্টিমেট দিয়েছিল। আমরা সবচেয়ে কম খরচের এস্টিমেট যিনি দিয়েছেন তারটাই নিয়েছি। এটাই নিয়ম।”

তিনি বলেন, “সবচেয়ে বড় বিষয় এটা একটা আর্ট। বাণিজ্যিক কোনো কাজ নয়।”

সংসদ লেকে ভাসানো নৌকা দুটির ছাউনিকে সবচেয়ে আকর্ষণীয় করতে ক্যানভাসের মতো করে সাজানো হয়েছে। আবহমান বাংলার নানা নকশা সেখানে আঁকা হয়েছে। ছাউনিতে ব্যবহার করা হয়েছে সোনালি রঙের ধাতব পদার্থের আবরণ।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে সংসদ লেকে বৃহস্পতিবার ভাসানো হল আবহমান বাংলার ঐতিহ্যবাহী ও দৃষ্টিনন্দন দুটি গয়না নৌকা।জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে সংসদ লেকে বৃহস্পতিবার ভাসানো হল আবহমান বাংলার ঐতিহ্যবাহী ও দৃষ্টিনন্দন দুটি গয়না নৌকা।গ্রামীণ আঙ্গিক ব্যবহার করে আলাদা আলাদা বর্গাকার ফ্রেমে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে বাঙালির ঐতিহ্যবাহী শখের হাঁড়ি, কাঠের চাকাওয়ালা ঘোড়া, বাঘ, কুঁড়ে ঘর, দোয়েল, শাপলা। আছে জামদানির নকশা। নৌকার পাটাতন ও বৈঠাতেও করা হয়েছে কারুকাজ।

নকশাকার আনিসুজ্জামান বলেন, “ছাউনিতে আমরা যে ম্যাটেরিয়াল ব্যবহার করেছি তা সাধারণত ইন্টেরিয়র ডিজাইনাররা ব্যবহার করে থাকেন। স্টেইনলেস ম্যাটেরিয়াল সাধারণত চায়না থেকে আসে।”

এর খরচ সম্পর্কে জানতে চাইলে শিল্পী বলেন, “প্রায় ৩০ জন মিস্ত্রি এই কাজ করেছে। এ রকম একটি ডেকোরেটিভ নৌকা করতে দেড়-দুই মাস সময় লাগে। আমরা খুব অল্প সময় পেয়েছিলাম। ২০ দিন সময় পেয়েছিলাম। পরে করোনার জন্য কাজ কিছু দিন কাজ বন্ধ ছিল। এরপর এক সপ্তাহ সময়ের মধ্যে নৌকা দুটি পানিতে নামানো হয়েছে। এখানে শুধু আমি নই, আরও কয়েকজন শিল্পী কাজ করেছেন।

“আর এটা কোনো বাণিজ্যিক কাজ নয়। আর্ট ফর্ম। এখানে জামানতের টাকা আছে এবং ১৫ শতাংশ ভ্যাট-ট্যাক্স আছে। এর বিল এসেছে ৩০ লাখের নিচে। এটা পানিতে ভাসাতেই এক লাখ টাকা খরচ হয়েছে। ভাসানোর আগে আবার রঙ করতে হয়েছে। ভাসানোর জন্য লেগেছে ২০ জন।” সূত্র: বিডিনিউজ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here