নদীভাঙণ: মন্ত্রীদের তিরষ্কার করলেন প্রধানমন্ত্রী

0
237

দ্মার ভয়াল ভাঙণে আক্রান্ত নড়িয়াবাসীর পাশে না দাঁড়ানোয় এবং পূর্বপ্রস্তুতি না নেয়ায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীদের তিরষ্কার করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সোমবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে মন্ত্রিসভা বৈঠকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ছাড়াও সরকারের দায়িত্বশীল সিনিয়র কয়েকজন মন্ত্রীকে ভর্ৎসনা করেন প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে পরামর্শ না দেয়ায় । বৈঠকে অংশ নেওয়া একাধিক মন্ত্রী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

সূত্রমতে, প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রিসভা বৈঠকে প্রবেশ করেই একজন মন্ত্রীকে লক্ষ্য কওে বলেন, এ বিষয়ে কেনো আগে পদক্ষেপ নেয়া হয়নি, কেনো ঐ এলাকার মানুষের পাশে গিয়ে দাঁড়াননি। এ ঘটনা আমাকেও আপনারা অবহিত করেননি ।

শেখ হাসিনা বলেন, পদ্মা নদীর এই ভয়াবহ ভাঙনে হাজার হাজার মানুষ অসহায় হয়ে পড়েছেন। সর্বস্ব হারিয়েছেন। এটা প্রাকৃতিক দুর্যোগ। তাৎক্ষণিক হয়তো মানুষের এক্ষেত্রে তেমন কিছুই করার নেই। কিন্তু সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী সময়মতো সেখানে যাননি। কিভাবে পরিস্থিতি মোকাবেলা করা যায়, সে বিষয়ে পদক্ষেপ নেননি। তিনি বলেন, এমনকি নদীভাঙন বিষয়ে তাকে কেউ জানায়ওনি। এজন্য তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি ক্ষতিগ্রস্তদের ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য আর্থিক সহায়তা দেয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সর্বস্ব হারানো মানুষের পাশে গিয়ে দাঁড়ালে, তারা মানসিকভাবে শক্তি পেতো। যখন এটা হলো না, তখন তা দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেন শেখ হাসিনা।

সূত্র জানায়, বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী নদীভাঙন কবলিত এলাকার সংসদ সদস্য, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীসহ এর সঙ্গে জড়িতদের উদ্দেশ্যে বলেন,ভাদ্র মাসে নদীতে পানির টান পড়ে। তাই এ সময় নদীভাঙনের ঘটনা ঘটে। তবে আগে থেকে বুঝা যায় না কোন এলাকায় নদীভাঙন হবে। তারপরও যেসব এলাকা নদীভাঙন কবলিত বলে চিহ্নিত সেসব এলাকায় পূর্ব প্রস্তুতি নেয়া উচিত ছিল। কিন্তু সেরকমভাবে প্রস্তুতি নেয়া হয়নি।

এ সময় নড়িয়ায় কোনো প্রকল্প নেই জানানো হলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রকল্প তো মানুষের জন্য। যেখানে মানুষের ঘরবাড়ি ধ্বংস হচ্ছে, বড়ো বড়ো দালানকোঠা, বাজার, নগর নদীর বুকে হারিয়ে যাচ্ছে, মানুষ বিলাপ করছে, মানুষের মাথা গোঁজার ঠাঁই নেই, মানুষের খাবার জুটছে না, চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান ভেসে যাচ্ছে; তখন প্রকল্প তো পরের কথা। আগে তো অসহায় মানুষের কাছে ছুটে যেতে হবে। তাদের বুকে জড়িয়ে ধরতে হবে। আশা দেখাতে হবে। পাশে দাড়াঁতে হবে। ভাঙন ঠেকাতে শেখ হাসিনা কার্যকর ভূমিকা নিতে সংশ্লিদের নির্দেশনা দিয়েছেন । গত কিছুদিন যাবত শরিয়তপুরসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক নদীভাঙনের ঘটনা ঘটেছে। শরীয়তপুরে এখনও অব্যাহত রয়েছে পদ্মার ভাঙন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here