পিস হিসেবে কিনে কেজিতে বিক্রি হচ্ছে তরমুজ

0
23

মৌসুমের শেষ দিকে এসেও বাজারে তরমুজের বেশ ভালোই দেখা মিলছে। তবে কেজি হিসেবে তরমুজ কিনতে গিয়ে অতিরিক্ত দামে হিমশিম খেতে হচ্ছে ভোক্তাদের।মাঝে মধ্যে এ নিয়ে ক্রেতা ও খুচরা বিক্রেতাদের বশচাও হচ্ছে।

মৌসুমের শেষে পাইকারি বাজারে দাম বেশি হওয়ায় খুচরা বাজারেও এর প্রভাব পড়ছে বলে দাবি খুচরা ব্যবসায়ীদের। তবে পাইকাররা বলছেন, পাইকারি বাজার থেকে পিস হিসেবে নেওয়া তরমুজ খুচরা বাজারে কেজিতে বিক্রি করার কারণেই ভোক্তা পর্যায়ে দাম বাড়ছে তরমুজের।

পাইকারি ও খুচরা বাজার ঘুরে জানা গেছে, সরাসরি ক্ষেত থেকেও পাইকাররা তরমুজ কিনে আনেন, আবার অনেক চাষি তরমুজ নিয়ে পাইকারদের কাছে আসেন। তবে যেভাবেই হোক না কেন এ বাণিজ্যে পিস হিসেবেই তরমুজের বেচা-বিক্রি চলে।  

আবার পাইকাররাও এনে খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছে পিস হিসেবেই বিক্রি করেন এসব তরমুজ। কিন্তু খুচরা বাজারে গিয়ে সেটি কেজি হিসেবে কিভাবে বিক্রি হচ্ছে সেটা কারও বোধগম্য নয়। যেখানে ক্রেতাদের অভিযোগেরও শেষ নেই।  

তরমুজের ক্ষেত্রে যেটা হচ্ছে সেটা অন্য কোন ফলের ক্ষেত্রে দেশের কোথাও খুঁজে পাওয়া যাবে না জানিয়ে আতিকুর রহমান নামে একজন চাকরিজীবী বলেন, তরমুজের ভেতরের রসালো লাল অংশ যা খাওয়া হয়ে থাকে, সেখানে যে ওজন থাকে তার সমপরিমান ওজন থাকে বাকল বা ছোলাতে। আর ছোলা ফেলে দেওয়া হয়ে থাকে। কিন্তু যখন তরমুজ কিনছি তখন সেই ফেলে দেওয়া অংশই, ভোগ্য অংশের দামেই কিনতে হচ্ছে ওজন দিয়ে।  

নুরুল আমিন নামে অপর এক ক্রেতা বলেন, পাইকারি বাজার থেকে একসঙ্গে অনেক তরমুজ কিনতে হয়, কিন্তু খুচরা বাজারে ভোক্তা তার প্রয়োজন অনুসারে কিনতে পারেন। এ সুযোগটাকে কাজে লাগিয়ে খুচরা বাজারের ব্যবসায়ীরা তরমুজ বাজারে সিন্ডিকেট বাণিজ্য চালিয়ে আসছেন। যে কারণে পিস হিসেবে কিনে কেজি হিসেবে সব খুচরা ব্যবসায়ীরাই জোট বেধে তরমুজ বিক্রি শুরু করেছেন। তারমতে দ্বিগুণ লাভের আশায় এমনটা করা হচ্ছে। তারওপর লকডাউন ও ভালো ফলন না হওয়ার অযুহাত তো রয়েছেই, যা শুনলে মনে হবে ক্ষেতের মালিকই যেন বিক্রেতা।

এদিকে পাইকারি বাজারের ব্যবসায়ীরা জানান, দাম যাই হোক না কেন, চুয়াডাঙ্গার কালো তরমুজ ছাড়া পাইকারি বাজারে কখনো কেজি হিসেবে এ ফলটি বিক্রি হয়না। আর পিস হিসেব বলতে লট। অর্থাৎ একলটে ১শ’ থেকে হাজার বা তার বেশি তরমুজও থাকতে পারে। আকার অনুযায়ী ১শ’ তরমুজের দাম মৌসুমে ৪ থেকে ১৫ হাজার টাকা, আর এখন শেষ দিকে এসে তা হয়তো ৮ থেকে ৩০ হাজার টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

আর সেই তরমুজই খুজরা বাজারে গিয়ে কেজি হিসেবে বিক্রি হচ্ছে। যেখানে আকার ভেদে কোনো কোনো তরমুজে ৫০ থেকে ১০০ টাকাও লাভ করতে পারছেন ব্যবসায়ীরা।  

খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, খুচরা বাজারে এক কেজি তরমুজের দাম চলছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা। বেশি ভালো মানেরগুলো ৬৫ থেকে ৭০ টাকাতে বিক্রি হচ্ছে। এতে ৫ কেজির একটি তরমুজের জন্য ক্রেতার গুণতে হচ্ছে ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা। অথচ এই তরমুজের দাম ১৫০ টাকার বেশি হওয়ার কথা নয় বলে জানিয়েছেন পাইকার ও ক্রেতারা।  

পাইকারি বাজারে পিস হিসেবে তরমুজ কেনা-বেচা হয় জানিয়ে ব্যবসায়ী গণেশ দত্ত বলেন, খুচরা বাজারে তরমুজের আকার অনুযায়ী দর নিয়ে বিক্রেতাদের সঙ্গে বশচা হয়ে থাকে। তাই সেই ঝামেলা এড়াতে কেজি হিসেবে তরমুজ বিক্রির প্রথা চালু করেছে তারা। তবে এতে লাভও ভালো হয় বলে জানান তিনি।

এদিকে তরমুজের হিসেব কষতে গেলেও দর খুচরা বাজারের ব্যবসায়ীরাই বেশি পাচ্ছেন। অথচ চাহিদা অনুযায়ী স্থানীয় তরমুজের উৎপাদন বাড়লেও কৃষকরা কিন্তু তেমনভাবে লাভবান হতে পারছেন না।

পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার তরমুজ চাষি শামছুল আলম, মজিবুর রহমান মিন্টুসহ আরও অনেকে জানান, এখন স্থানীয়ভাবে বাজারে পাইকারদের কাছে ১০ কেজি ওজনের তরমুজ শত হিসেবে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। আর কেউ কেউ ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে নিয়ে ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা দরে বিক্রি করছেন। আবার হিসেব যাই হোক পাইকারদের কাছে ২ কেজি ওজনের তরমুজ পিস হিসেবে সর্বোচ্চ ৫০ টাকায় এবং ৭-৮ কেজি ওজনের তরমুজ ১শ’ টাকা দরেও বিক্রি হচ্ছে। অথচ পরিবহন খরচের নামে এসব তরমুজ শহরে এসে দাম বেড়ে যাচ্ছে এবং খুচরা বাজারে গিয়ে কেজি হিসেবে ১০ কেজি ওজনের একেকটি তরমুজ সাড়ে ৫শ’ থেকে ৬শ’ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে চাষিরা যদি সরাসরি ভোক্তাদের কাছে তরমুজ বিক্রি করতে পারেন তাহলে দাম অনেক কম হতো।

এদিকে সোমবার (২৬ এপ্রিল) বরিশাল নগরের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে পিস হিসেবে কিনে কেজি হিসেবে অতিরিক্ত দামে তরমুজ বিক্রির প্রমাণ পেয়েছে জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত। যে কারণে ১৪ জনকে জরিমানাও করা হয়।

সূত্র : বাংলানিউজ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here