বন্যার আশংকায় রংপুরের চরাঞ্চলের মানুষ

0
223

পাহাড়ি ঢলে রংপুর,নীলফামারী ও লালমনিরহাট জেলার নদী তীরবর্তি এলাকায় তিস্তার পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। মঙ্গলবার সকালে তিস্তা নদীর সেতু পয়েন্টে ২৬ দশমিক ২৩ সে.মি. পানি প্রবাহিত হয়ে বিপদসীমার ১৫ সে.মি. নীচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তিস্তা নদীর পানি এ পয়েন্টে ১৮ ঘণ্টায় ৯৮ সে.মি.বৃদ্ধি পেয়েছে বলে গণমাধ্যম কে নিশ্চিত করেছেন রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ।

সূত্র জানায়, মঙ্গলবার সকাল ৬টা পর্যন্ত ১২ ঘণ্টায় তিস্তা নদীর পানি কাউনিয়া পয়েন্টে ৪৫ সে.মি.বৃদ্ধি পেয়েছে। এজন্যই রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার সংকরদহ লক্ষীটারীসহ নদী তীর এলাকাসমুহে তিস্তায় অববাহিকায় ১২ ঘণ্টার ব্যবধানে অস্বাভাবিক পানি বাড়ায় বন্যার আশঙ্কায় শঙ্কিত হয়ে পড়েছে এখানকার মানুষ। এছাড়াও নীলফামারীর তিস্তা ব্যারেজের ডালিয়া পয়েন্টে নদীর পানি মঙ্গলবার সকাল ৬টায় বিপদসীমার ৮ সে.মি.উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

তিস্তার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার দোওয়ানীতে অবস্থিত দেশের সর্ববৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি গেট খুলে দিয়ে পানি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ড। পানি উন্নয়ন বোর্ড দোওয়ানী-ডালিয়া কন্ট্রোল রুম ইনচার্জ নুরুল ইসলাম জানায়, সোমবার রাতেও তিস্তা নদীর পানি ডালিয়া পয়েন্টে বিপদসীমার ১৫ সে.মি. উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়।

এরপর, মঙ্গলবার সকাল ৬টায় তা কমে ৮ সে.মি. উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সেই সঙ্গে সোমবার সন্ধ্যা ৬টায় তিস্তা পয়েন্টে পানি বিপদসীমার ৫ সে.মি. নীচে দিয়ে প্রবাহিত হলেও রাত ৯টায় তা বিপদসীমার ১৫ সে.মি. ও রাত সাড়ে ১১টায় বিপদসীমার ২০ সে.মি.ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়।

বিকেল ৩টা থেকে ডালিয়া পয়েন্টে বিপদসীমার (৫২ দশমিক ৬০ মিটার) ৩৫ সে.মি.ওপর দিয়ে তিস্তা নদীর পানি প্রবাহিত হয়ে ভাটিতে তীর বেগে ধাপিত হয়। উজানের ঢল সামাল দিতে খুলে রাখা হয়েছে তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাট। ইতোমধ্যেই বন্যায় তিস্তার ডানতীরের দোহলপাড়া স্পারটির সামনের অংশের ১০ মিটার নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে।

উল্লেখ্য, ভারত নিয়ন্ত্রিত গজলডোবা ব্যারেজের গেট খুলে দেওয়ার কারণেই বাংলাদেশের তিস্তায় পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here