বাংলাদেশের এ নিয়ে আশঙ্কার কিছু নেই : ড. বারকাত

0
211

য়ার্ল্ড ইকনমিক ফোরামের মঞ্চে বলা হয়েছে, দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ায় প্রায় চোখের নিমেষে উধাও হয়ে যাবে অন্তত ৬৬ লক্ষ কাজ। সমাজের পরিচিতি দীর্ঘ দিনের পেশা ক্যাশিয়ার থেকে ড্রাইভার, ওয়েটার থেকে কেরানি এমনকি আইনজীবীও লোপাট হয়ে যাবে।

এ বিষয়ে অর্থনীতিবিদ ড. আবুল বারকাত শনিবার বলেন, বাংলাদেশের এ নিয়ে আশঙ্কার কিছু নেই। যন্ত্রের কারণে ১৫টি খাতে কর্মসংস্থান কমলেও মানবিক কাজে কর্মসংস্থান বাড়বে। উদাহরণ দিয়ে বলেন, যত যন্ত্রই আসুক নার্সের কাজেরতো বিকল্প হবে না। একটি সভ্য সমাজে নার্সের কাজের চাহিদা আরো বাড়বে। সমাজে সৃজনশীল ব্যক্তি ও কাজের চাহিদা বৃদ্ধি পাবে। তিনি বলেন, দেশে অর্থনৈতিক বৃদ্ধি হলেও সেই মাত্রায় কর্মসংস্থান বৃদ্ধি না হওয়ার মূল কারণ এখানে মূল বিনিয়োগ হচ্ছে অবকাঠামোতে। যেখানে কর্মসংস্থান কম হয়। যদি শিল্পে বা কৃষিতে বিনিয়োগ হতো তবে কর্মসংস্থান বাড়তো। তাছাড়া বাংলাদেশের অর্থনীতির বড় অংশ হলো সেবাখাত। বেসরকারি যে সেবাখাত রয়েছে তাতে বেশি মাত্রায় জব সৃষ্টি করার মতো কোনো কাঠামো নেই। শিল্পে বিনিয়োগ না হওয়াতেও কর্মসংস্থান কমছে।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, ২০১০ সালে বাংলাদেশে শতকরা ১০০ জনের মধ্যে সাড়ে ৭ জন শিক্ষিত লোক বেকার ছিল। ২০১৭ সালে তা বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে সাড়ে দশজন।

এ বিষয়ে ড. বারকাত বলেন, এটি একটি সরকারি হিসাব আমার হিসাবে দেশে প্রকৃত বেকার ২ কোটি।

সম্প্রতি, ভিয়েতনামের রাজধানী হ্যানয়ে আয়োজিত সভায় বিশেষজ্ঞরা বলেন, কর্মসংস্থানে বন্ধ্যা বৃদ্ধির ছবি পৃথিবীর প্রায় সর্বত্র। অর্থাৎ, বিনিয়োগ এবং তার হাত ধরে বৃদ্ধি হয়তো হচ্ছে। কিন্তু নতুন কাজের সুযোগ যে ভাবে তৈরি হওয়ার কথা, তার দেখা নেই। তাদের মতে, এর অন্যতম কারণ যন্ত্র ও প্রযুক্তির প্রকোপ। তারা আশঙ্কা করেছেন আগামী দিনে বদলে যাবে কল-কারখানার ছবি। নতুন কাজের সুযোগ তৈরি তো দূর অস্ত্, বরং উল্টে কাজ খোয়াতে হবে অনেককে। শুধু কল-কারখানাও নয়। যে সব কাজে দক্ষতা তুলনায় কম লাগে কিংবা একই কাজ বারবার করে যেতে হয়, তার প্রায় সবই দখল নেবে যন্ত্র এবং অত্যাধুনিক প্রযুক্তি। আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স, মেশিন লার্নিং, অটোমেশন ইত্যাদির দাপটে কঠিন হবে কাজ টিকিয়ে রাখাই।
ভিয়েতনামের প্রধানমন্ত্রী নুয়েন সুয়ান ফুকেরই যেমন আশঙ্কা, এশিয়ায় কারখানার যে চিরাচরিত ছবি নতুন প্রযুক্তির আক্রমণে তার উধাও হওয়ার জোগাড়। ভুগতে হবে এই অঞ্চলের আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা দেশগুলিকে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here