বিকৃত পাপে অভিশপ্ত জাতি

0
848

সুশৃঙ্খল জীবনের জন্য নিয়ম মানতে হয়। মানবজীবনকে পরিপাটি করতে নিজেদেরকে নিয়ে আসতে হয় নিয়মের বৃত্তে। কুকুর বিড়াল এবং বন্য প্রাণীদের পোশাক পরতে হয় না; কিন্তু সভ্য জীব হিসেবে মানুষ নিজেদেরকে আবৃত করে পোশাকে। বন্য প্রাণীদের পানাহার ও যৌন চাহিদা পূরণের বাধ্যতামূলক কোনো নিয়ম না থাকলেও মানুষকে মানতে হয় বিশেষ নিয়ম। শান্তির জন্যই মানুষ নিজেদের বৈধ ও অবৈধতার জালে আবদ্ধ রাখে। আর এ গুণটিই মানুষকে অন্যসব প্রাণী থেকে করেছে আলাদা। দিয়েছে শ্রেষ্ঠত্বের মর্যাদা। কিন্তু একজন মানুষও যখন কুকুর বিড়ালের মতো লাগামহীন হয়ে যায় তার শ্রেষ্ঠত্ব কি আর থাকে?

বন্য প্রাণীরাও যৌন চাহিদা পূরণে বিপরীত লিঙ্গের দ্বারস্থ হয়। কুকুর বিড়ালও সমলিঙ্গের সঙ্গে যৌন চাহিদা পূরণে অনাগ্রহী। মানবসমাজ তো বটেই চতুষ্পদ জানোয়াররাও সমকামিতাকে ঘৃণা করে। কিন্তু যেই সমকামিতার অপরাধে একটি জাতিকে ধ্বংসের ভয়াল পরিণতি বরণ করতে হয়েছে সেই ঘৃণ্য কাজটিকেই ‘আধুনিকতা’ এবং ‘অধিকারের’ কথা বলে আবার ছড়িয়ে দিতে কিছু মস্তিষ্কবিকৃত মানুষের চেষ্টা চলছে অব্যাহতভাবে। দৈহিকভাবে মানুষ রেখে চেতনায় পশুর চেয়েও নিকৃষ্ট বানিয়ে দেয়ার প্রতিযোগিতা।

অভিশপ্ত গোষ্ঠি কওমে লুত ধ্বংস হয়েছিল সমকামের অপরাধে। হজরত লুত (আ.) এর জাতি ছিল সমকামী। একবার মেহমান হিসেবে মানব আকৃতিতে কয়েকজন ফেরেশতা হজরত লুত (আ.) এর বাড়িতে আগমন করল। লুত (আ.) এর স্ত্রী ফেরেশতাদের আগমনের খবর এলাকায় ছড়িয়ে দেন। সুন্দর লাবণ্যময় চেহারার কয়েকজন যুবক অবস্থান করছে এমন খবর পেয়ে এলাকার লোকরা বিকৃত লালসা চরিতার্থ করার জন্য হজরত লুতের বাড়িতে ভিড় জমায়। লুত (আ.) কোনো উপায় না দেখে তাদের বললেন, আমি আমার কন্যাদের তোমাদের সঙ্গে বিয়ে দেব। তবু এই যুবকদের তোমাদের কাছে কখনো সোপর্দ করব না। লুত (আ.)-এর আহ্বান প্রত্যাখ্যান করল। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘তারা [লুত (আ.)-এর জাতি] বলল, (হে লুত!) তুমি নিশ্চয়ই জানো যে তোমার কন্যাদের আমাদের কোনো প্রয়োজন নেই। আমরা কী চাই, তা তুমি ভালোভাবেই জানো।’ (সুরা : হুদ, আয়াত : ৭৯) তারা বলছিল, আমরা চাই যুবকদের আমাদের কাছে হস্তান্তর করা হোক। এ অবস্থায় লুত (আ.) আক্ষেপ করে বলেছিলেন, হায়! আমার যদি শক্তি থাকত, তাহলে এই পাপাচারী জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে রুখ দাঁড়াতে পারতাম। হজরত লুত ভীত হলে যুবক চারজন তাঁকে বললেন, ‘হে লুত, আমরা ফেরেশতা’।

ইসলামের সমকাম ব্যভিচারের চেয়েও জঘন্য অন্যায় । হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যাদেরকে তোমরা লুতের সম্প্রদায়ের কাজে (সমকামে) লিপ্ত দেখবে তাদের উভয়কেই হত্যা করো।’ (তিরমিজি: ৪/৫৭; আবু দাউদ: ৪/২৬৯; ইবনে মাজা: ২/৮৫৬)। ইসলাম সমকামিতার ব্যাপারে এত কঠোর কেন? কারণ সমকামের শাস্তি পরকালে তো আছেই, দুনিয়াতেও ভোগ করতে হয় এর অংশবিশেষ। সমাকামিতা ও অবাধ যৌনতাই এইডসের মতো প্রাণঘাতি রোগের কারণ। তো ইসলামের মতো কল্যাণধর্মী জীবনবিধান কী করে সমাকামিতাকে ছাড় দেবে! তাই তো তাবরানী ও বায়হাকি শরিফের হাদিসে এসেছে, চার ব্যক্তি সকাল-সন্ধা আল্লাহর গজব ও আক্রোশে পতিত হয়। মহিলার বেশধারী পুরুষ, পুরুষ বেশধারী মহিলা, পশু মৈথুনকারী এবং সমকামী।
লেখক: জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত ক্বারি ও খতিব, বাইতুশ শফিক মসজিদ, বোর্ডবাজার, গাজীপুর

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here