বিশ্বের প্রথম হাইড্রোজেন চালিত ট্রেন চালু

0
191

বিশ্বের প্রথম হাইড্রোজেন চালিত ট্রেন জার্মানিতে চলাচল শুরু করেছে। ডিজেল চালিত ট্রেনের চেয়ে এর দাম বেশি হলেও এটি চালানোর খরচ কম।

খুব কম শব্দ করা ও জ্বালানি ছাড়াই চলাচলকারী ট্রেনটি কোনোভাবেই পরিবেশকে দূষিত করেনা।ফলে এই ট্রেন উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে পরিবহন ক্ষেত্রে নতুন যুগের সূচনা হলো।

নীল রঙের কোরাডিয়া ইলিন্ট নামে দু’টি ট্রেন তৈরি করেছে ফ্রান্সের অ্যালস্টোম কোম্পানি।

ট্রেনগুলো জার্মানির উত্তরের বিভিন্ন শহরের মধ্যে ১০০ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি রুটে চলাচল করছে। এই পথে সাধারণত ডিজেল চালিত ট্রেন চলাচল করে।

অ্যালস্টোমের প্রধান নির্বাহী হেনরি পুপার্ট-লাফার্জ বলেন, ‘বিশ্বের প্রথম হাইড্রোজেন চালিত ট্রেন বাণিজ্যিকভাবে চালু করা হয়েছে। (অদূর ভবিষ্যতে) এগুলো আরও বেশি পরিমাণে তৈরি করা হবে।’

অ্যালস্টোম কোম্পানি ২০২১ সালের মধ্যে জার্মানির লোয়ার স্যাক্সনি রাজ্যে এ রকম আরও ১৪টি ট্রেন সরবরাহ করার পরিকল্পনা করছে।

একদমই পরিবেশ দূষণ না করায় এই ট্রেনগুলোর বিষয়ে জার্মানির অন্যান্য রাজ্যগুলোও আগ্রহ দেখাচ্ছে।

হাইড্রোজেন চালিত ট্রেনগুলোতে এক ধরনের ‘ফুয়েল সেল বা জ্বালানি প্রকোষ্ঠ’ রয়েছে। এগুলো হাইড্রোজেন ও অক্সিজেনের সংমিশ্রণে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে। এই প্রক্রিয়ার বর্জ্য হিসেবে কেবল বাষ্প ও পানি নির্গত হয়।উৎপাদিত বাড়তি এনার্জি ট্রেনের লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারিতে সংরক্ষণ করা হয়।

মাত্র এক ট্যাঙ্ক হাইড্রোজেন ব্যবহার করে ট্রেনটি প্রায় ১ হাজার কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে পারে, যা ডিজেল চালিত ট্রেনের মাইলেজের অনুরূপ।

পরিবেশবান্ধব এই ট্রেনগুলো চলার সময় শব্দও করে কম। এসব কারণে অ্যালস্টোম ডিজেল ও বিদ্যুৎচালিত ট্রেনের বিকল্প হিসেবে এই ট্রেনগুলোর ওপর বেশি জোর দিচ্ছে। বায়ুদূষণে নাকাল জার্মানির বিভিন্ন শহরে এসব ট্রেনের দারুণ সম্ভাবনা রয়েছে।

‘হাইড্রোজেনচালিত ট্রেন কিনতে ডিজেলের ট্রেনের চেয়ে খরচ বেশি হয়, কিন্তু এগুলো চালানোর খরচ অনেক কম’ বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা।

অ্যালস্টোম জানায়, ব্রিটেন, নেদারল্যান্ডস, ডেনমার্ক, নরওয়ে, এবং কানাডাসহ অন্যান্য কয়েকটি দেশ হাইড্রোজেন ট্রেনের বিষয়ে আগ্রহ দেখিয়েছে।

ফ্রান্সের সরকার ইতোমধ্যেই জানিয়েছে, তারা ২০২২ সালের মধ্যে তাদের দেশে হাইড্রোজেন ট্রেন চালু করতে চায়।

– নিউজ 24

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here