বিসিএস পরীক্ষায় মৌলিক পরিবর্তন অপরিহার্য

0
211

রকারি চাকরিতে বর্তমান সরকার বেতনসহ নানা ধরনের সুযোগ-সুবিধা আগের চাইতে ঢের বাড়িয়ে দেওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে সরকারি চাকরির প্রতি আগ্রহ কয়েকগুন বেড়ে গেছে। কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের এখন প্রধান চেষ্টাই থাকে একটি সরকারি চাকরি পাওয়া। বিসিএস পরীক্ষায় উক্তীর্ণ হয়েই এসব চাকরি পেতে হয় সেটিও সবাই জানে। যদিও বিসিএস ছাড়া আরও কিছু প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা রয়েছে যেগুলোও সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। ব্যাংকের নিয়োগ পরীক্ষা তার মধ্যে অন্যতম। এখন প্রশ্ন হচ্ছে এখন যেভাবে বিসিএস ক্যাডার নিয়োগ পরীক্ষা নেওয়া হয় তাতে কাঙ্ক্ষিত সুফল কতটা অর্জিত হয় তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েই গেছে। বিশেষত শিক্ষা ও প্রশাসনকে অনেকটাই গুলিয়ে ফেলা হয়েছে। সরকারি কলেজগুলোতে হাজার হাজার নিয়োগে বর্তমান অনুসৃত পদ্ধতি মোটেও গ্রহণযোগ্য নয়। প্রয়োজন বিষয় ও বিষয় সংশ্লিষ্ট জ্ঞানের যাচাই-বাছাই করব। কিন্তু তা কি বর্তমান শিক্ষা ক্যাডার পরীক্ষায় যাচাই করা সম্ভব? আমার সামান্য জ্ঞানে মনে হচ্ছে মোটেও নয়।

আমার মতে, কর্মক্ষেত্রে যেহেতু তাদের পড়ালেখাতেই দক্ষতা দেখাতে হয় তাই শিক্ষক নির্বাচনী পরীক্ষায় যেন ৮০ প্রাধান্য দেওয়া হয় বিষয়ভিত্তিক পরীক্ষার, বাকি ২০ শতাংশ বাংলাদেশ, আন্তর্জাতিক বিষয়ের জ্ঞানের যাচাই-বাছাইয়ের হতে পারে। তাছাড়া মৌলিক পরীক্ষায় ২০০ নম্বরের প্রয়োজন নেই, ২০-৩০ নম্বরের বেশি সুযোগ থাকলে তাতে অপপ্রয়োগের সুযোগ থাকে। তা ছাড়া আমরা একদিকে বলছি যে, পরীক্ষায় জিপিএ পদ্ধতি ভালো, অন্যদিকে সব পরীক্ষাতেই ১০০ নম্বর ধরে মূল্যায়ন করা হয় যা জিপিএ পদ্ধতির সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। আমাদের মানসিকতার মধ্যেই দ্বিচারিতা বিরাজ করছে, তা থেকে কোনো পরীক্ষা, নির্বাচনী পরীক্ষাই মুক্ত হতে পারছে না। শিক্ষাকে সাধারণ ক্যাডারের সঙ্গে গুলিয়ে দেখা ঠিক হচ্ছে না। প্রশাসনেও বিশেষায়িত শিক্ষাভিত্তিক শিক্ষার উপর জোর দেওয়া উচিতÑ যেমন দেওয়া হয় পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের ক্যাডার নিয়োগে।

আমি মনে করি শিক্ষা প্রশাসন ও শিক্ষক নিয়োগের বিষয়টি এক না করার। আবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের শিক্ষা ক্যাডারের বিশেষায়িত নিয়োগ পরীক্ষা ছাড়া অন্য কাউকে নিয়োগ দেওয়া উচিত নয়। তেমনই তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়েও সংশ্লিষ্ট বিষয়ে লেখাপড়া ও জ্ঞান ছাড়া সব মন্ত্রণালয়ে কাজ … চরিত্রের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগের ধারা প্রবর্তন করা উচিত। সেভাবেই বিসিএস পরীক্ষার নিয়ম ঢেলে সাজানো প্রয়োজন। বর্তমান ব্যবস্থাটি খুবই সেকেলে হয়ে যাচ্ছে। এটিকে অধিকতর বিশেষায়িত বাছাই উপযোগী করা জরুরি। তবে সর্বত্র ভাষা জ্ঞান, প্রযুক্তিজ্ঞান, রাষ্ট্র, সমাজ ও বিশ্ব পর্যায়ের বিশেষায়িত জ্ঞানের পরীক্ষা নেওয়া প্রয়োজন। সেভাবেই বিসিএস ক্যাডার সার্ভিসকে ঢেলে সাজাতে হবে। এমসিকিউ পদ্ধতিকে বঙ্গোপসাগরে ডুবিয়ে দিতে হবে। বিশ্লেষাত্বক, জ্ঞানতাত্ত্বিক পদ্ধতি ইত্যাদিকে প্রাধান্য দিতেই হবে। তা হলেই চাকরি প্রত্যাশী শিক্ষার্থীরা মানসম্মত পাঠ লাভে বাধ্য হবে। প্রয়োজনীয়তা অনুভব করবে। এখন প্রয়োজনের তুলনায় কম পড়ছে। সে কারণে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থীদের প্রধান দৌড়ই থাকে বিসিএস পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়া শ্রেণি পাঠ অনেকটাই শিকেয় তোলা হয়েছে। এর অবসান তখনই হবে যখন বিশেষায়িত জ্ঞানের সর্বোচ্চ পরীক্ষা দিতে হবে। মেবাধী হিসেবে নিজের যোগ্যতার প্রমাণ দিতে বাধ্য হবে।

লেখক : অধ্যাপক, ইতিহাস বিভাগ, বাউবি

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here